- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
সাল | ঘটনা |
|---|---|
১৯৪৭ | বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি |
১৯৬১ ও ১৯৬৪ | শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ |
১৯৬৮ | ১১ দফা |
১৯৭১ | মুক্তিযুদ্ধ |
আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কীভাবে বহির্বিশ্বে প্রচারণা চালানো হয়।
প্রবাসী বাঙালিরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বহির্বিশ্বে প্রচারণা চালায়। প্রবাসী বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধে নাসাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেন। বিভিন্ন দেশে তারা মুস্তিযুদ্ধের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছেন। বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন আগায়ে বিভিন্ন দেশের পার্লামেন্ট সদস্যদের নিকট ছুটে গিয়েছেন। তাঁরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় প্রতিনিধি দল প্রেরণ করেছেন। পাকিস্তানকে অস্ত্র-গোলাবারুদ সরবরাহ না করতে বিশ্বের বিভিন্ন সরকারের নিকট প্রবাসী খাঙালিরা আবেদন করেছেন। এক্ষেত্রে ব্রিটেন ও আমেরিকার প্রবাসী বাঙালিদের ভূমিকা, বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনে তাঁরা নিরলস কাজ করেছেন।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
মুক্তিযুদ্ধকালীন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সংখ্যা কত ছিল?
মুক্তিযুদ্ধকালীন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সংখ্যা ৬।
ছকে উল্লেখিত কোন ঘটনাবলিতে একটি বিশেষ শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব পরিলক্ষিত হয়? ব্যাখ্যা করো।
ছকে উল্লেখিত ১৯৪৭, ১৯৬১, ১৯৬৪ ও ১৯৬৮ সালের ঘটনাবলিতে ছাত্রসমাজের প্রতিনিধিত্ব পরিলক্ষিত হয়।
পাকিস্তানের চব্বিশ বছরে বাঙালি জাতির স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট সকল আন্দোলনে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেছে এদেশের ছাত্রসমাজ। ১৯৪৮-১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ ও ১৯৬৪ সালের শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ১৯৬৬ সালে হয় দফার আন্দোলন, ১৯৬৮ সালে ১১ দফার আন্দোলন, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০-এর নির্বাচন ও ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে বক্তাবন্ধুর অসহযোগ আন্দোলনসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে ছাত্রসমাজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের বিরাট অংশ সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়। অনেকে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করে। মুক্তিবাহিনীতে একক গোষ্ঠী হিসেবে ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা ছিল' সবচেয়ে বেশি। মুক্তিবাহিনীর অনিয়মিত শাখার এক বিরাট অংশ ছিল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। মুক্তিযুদ্ধের একপর্যায়ে মুজিব বাহিনী গঠিত হয়েছিল মূলত ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে। ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়ন কর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় সংগঠিত হয় যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। মুক্তিযুদ্ধে ছাত্র সমাজের আত্মত্যাগ ব্যতীত স্বাধীনতা অর্জন কঠিন হতো।
ছকচিত্রে বিভিন্ন সাল উল্লেখ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের অগ্রযাত্রায় বিভিন্ন আন্দোলনে ছাত্রদের ভূমিকার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
সর্বস্তরের জনগণের আত্মত্যাগ ও অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে হঁকে উল্লিখিত কোন ঘটনাটি সাফল্যমণ্ডিত হয়? যৌক্তিক বিশ্লেষণ করো।
সর্বস্তরের জনগণের আত্মত্যাগ ও অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ছকে উল্লিখিত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাটি সাফল্যমন্ডিত হয়।
শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, কৃষক, শ্রমিক, রাজনৈতিক কর্মীসহ সব শ্রেণির মানুষ অস্ত্রহাতে সরাসরি অথবা পরোক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। পাশাপাশি নারীসমাজ, গণমাধ্যম, প্রবাসী বাঙালি, বুদ্ধিজীবী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং আপামর জনসাধারণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাকারী ভারতের অনেক সেনাও যুদ্ধে অংশ নেন। পুরুষের পাশাপাশি অনেক নারীও অস্ত্র চালনা ও'গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং আহত মুক্তিয়োম্মাদের সেবা-শুশ্রুষা ও তথ্য সরবরাহের কাজ করেন।'
এছাড়া মুক্তিযুদ্ধে গণমাধ্যমের ভূমিকাও ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সংবাদপত্র ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র সংবাদ, দেশাত্মবোধক গান, মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের ঘটনা, রণীজানের খবর দেশ ও জাতির সামনে তুলে ধরে মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের মনোবল বাড়াতে অবদান রাখে। এছাড়া প্রবাসী বাঙালিরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাকিস্তানি হানাদারদের গণহত্যার ভয়াবহতা তুলে ধরেন এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠন করেন। শিল্পী, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীরা অনুপ্রেরণামূলক গান, কবিতা, নাটক, কথিকা, চিত্রকর্ম ইত্যাদির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা তথা দেশবাসীকে উজ্জীবিত করতেন।
উপরের আলোচনায় ভিত্তিতে তাই বলা যায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণি বা সমাজের অর্জন সয়; বরং সব শ্রেণির মানুষের অবদান ও তাদের অনেকের আত্মত্যাগের মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছে এ স্বাধীনতা।

