• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • বাংলাদেশের স্বাধীনতা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

গত সত্তরের দশকের দ্বিতীয় বছরের এপ্রিল মাসে মনীষা, তৈয়্যবা ও ঐশী একত্রে তাদের নিজ এলাকায় গড়ে ওঠা বাহিনীতে যোগ দিয়ে মধ্য ডিসেম্বর অবধি যুদ্ধ্য করে এদেশের বিজয় অর্জনে সহায়তা করেন। তারা জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে স্বপ্ন পূরণ করে বাড়ি ফেরেন।

পাকবাহিনী কর্তৃক বাঙালি হত্যার নীলনকশা 'যে নামে' পরিচিত। তা ব্যাখ্যা করো।

পাকবাহিনী কর্তৃক বাঙালি হত্যার নীলনকশা 'অপারেশন সার্চলাইট' নামে পরিচিত।

১৭ই মার্চ টিক্কা খান ও রাও ফরমান আলী অপারেশন সার্চলাইট নামক কর্মসূচির মাধ্যমে বাঙালির ওপর নৃশংস হত্যাকাণ্ড পরিচালনার নীলনকশা তৈরি করে। ২৫শে মার্চ রাতে পৃথিবীর ইতিহাসে বর্বরতম এই গণহত্যা সংঘটিত হয়। ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ ক্যাম্প, পিলখানা, ইপিআর ক্যাম্প ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আক্রমণ চালায় ও নৃশংসভাবে গণহত্যা ঘটায়। এ ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে ২৫শে মার্চের 'কালরাত্রি' নামে পরিচিত।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

গণযুদ্ধ কী?

যে যুদ্ধে সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করে সেটিই গণযুদ্ধ।

#

উদ্দীপকে নির্দেশিত ব্যক্তিদের ন্যায় ব্যক্তিদের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

উদ্দীপকে নির্দেশিত ব্যক্তিদের ন্যায় নারীরা মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রেখেছেন।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে নারীদের ভূমিকা ছিল গৌরবোজ্জ্বল। মার্চের প্রথম থেকেই সারা দেশে যে সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় তাতে বহু ছাত্রী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। মুক্তিযোদ্ধা শিবিরে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা অস্ত্র চালনা ও গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে অংশ নেন। অপরদিকে সহযোদ্ধা হিসেবে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা শুশ্রুষা, মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দান ও তথ্য সরবরাহ করে যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা 'পালন করেন এদেশের অগণিত নারী মুক্তিসেনা। যুদ্ধকালীন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক ধর্ষিত হন প্রায় তিন লাখ মা-বোন। তারাও আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অংশ।

উদ্দীপকে মনীষা, তৈয়্যবা ও ঐশী তাদের নিজ এলাকায় গড়ে ওঠা বাহিনীতে যোগ দিয়ে ডিসেম্বর অবধি যুদ্ধ করে এদেশের বিজয় অর্জনে ভূমিকা রাখেন। তাদের অংশগ্রহণ মহান মুক্তিযুদ্ধে নারীদের অংশগ্রহণকে প্রতিনিধিত্ব করে।

#

উদ্দীপকে নির্দেশিত বিজয় যেন, 'বাঙালির হাজার বছরের স্বপ্ন পূরণ করে'- বিশ্লেষণ করো।

উদ্দীপকে নির্দেশিত বিজয় যেন 'বাঙালির হাজার বছরের স্বপ্ন পূরণ করে।'- উক্তিটি যথার্থ।

হাজার বছরের পথ পরিক্রমায় বাঙালিরা সব সময় শাসকদের দ্বারা শাসন, শোষণ আর বৈষম্যের শিকার হয়েছে। শাসকের পর শাসক পরিবর্তন হলেও বাঙালিদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেনি। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের মধ্য দিয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। পূর্ব বাংলা তথা বাংলাদেশ পাকিস্তানের একটি প্রদেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। বাঙালিদের ভাগ্যে শুরু হয় শোষণের নতুন অধ্যায়।

বহু আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা অর্জিত হলেও শুরু থেকেই পূর্ব বাংলার ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থা পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী নিজেদের করায়ত্তে আনতে শুরু করে। এসব বৈষম্যের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ প্রতিবাদ ও আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তোলে। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার চেতনা থেকে পূর্ব বাংলার জনগণ ক্রমান্বয়ে পাকিস্তানের বৈষম্য ও অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন, সংগ্রাম ও প্রতিবাদ করতে থাকে। ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৬৬-এর ছয়দফা, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের পর ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বিপুল ভোটে জয়ী করে একটি শোষণহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বোনে। বাংলা ভাষা, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জাতিগত পরিচয়ে জাতীয় ঐকা গঠিত হয়। এ জাতীয় ঐক্যে নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে অর্জিত হয় আমাদের প্রাণপ্রিয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ নামুক জাতি রাষ্ট্র। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শিক্ষক, চিকিৎসক, ছাত্র-জনতা, নারী-পুরুষ, প্রকৌশলী, সরকারি-বেসরকারি কর্মচারীসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনে।

পরিশেষে বলা যায়, বিশ্ব ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিজয় অর্জন খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের মাধ্যমে বাঙালির হাজার বছরের স্বাধীনতা-স্বাধিকারের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়।

পাকবাহিনী কর্তৃক বাঙালি হত্যার নীলনকশা 'যে নামে' পরিচিত। তা | বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (নবম-দশম শ্রেণি) | Uddoyon