• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • বাংলাদেশের স্বাধীনতা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?

মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ছিলেন কর্নেল (অব.) এম.এ.জি ওসমানী।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

মুজিবনগর সরকার কেন গঠন করা হয়? ব্যাখ্যা করো।

মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের নিয়ে ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। ১৭ই এপ্রিল এ সরকারের সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। মূলত মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা, বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বজনমত সৃষ্টি, বাংলাদেশের স্বায়ত্তশাসনের দাবির যথার্থতা তুলে ধরার লক্ষ্যে মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়।

#

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে 'A' ও 'C' চিহ্নিত দেশ দুটির ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

চিত্রের 'A' ও 'C' চিহ্নিত দেশ হলো যথাক্রমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন, যারা মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছিল।

মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন বাংলাদেশের বিরোধিতা করতে থাকে। মুক্তিযুদ্ধের সময় এ দেশ দুটির সরকারি নীতি ছিল পাকিস্তানের পক্ষে। প্রথম থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও চীন অস্ত্র ও কূটনৈতিক সমর্থন দিয়ে পাকিস্তানকে সহায়তা করে। তবে নিজ দেশে বিরোধী দলের চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ভারতে অবস্থানরত বাঙালি শরণার্থীদের জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের সমর্থনে ভারত মহাসাগরে সপ্তম নৌবহর পাঠায়। আবার পাকিস্তানের নিশ্চিত পরাজয়ের মুখে যুদ্ধবিরতি ঘটিয়ে আমাদের স্বাধীনতাকে নস্যাৎ করতেও যুক্তরাষ্ট্র' জাতিসংঘে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা কংগ্রেসের অনেক সদস্য, বুদ্ধিজীবী ও সংস্কৃতিকর্মী এবং সাধারণ জনগণ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ভূমিকা পালন করেছিল।

উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, চিত্রে 'এ' চিহ্নিত দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং 'C' চিহ্নিত দেশ চীনের সরকার বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নেতিবাচক ভূমিকা রেখেছিল।

#

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে 'D' চিহ্নিত দেশটির ভূমিকা অপরিসীম-বিশ্লেষণ করো।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে 'D' চিহ্নিত দেশ ভারত প্রকৃতই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ভারত হলো বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশী রাষ্ট্র। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে দেশটি সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছিল যা আমাদের স্বাধীনতা লাভে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চিত্রে 'D' চিহ্নিত দেশটি বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারতকেই নির্দেশ করছে।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারত, সুস্পষ্টভাবে সমর্থন জানায়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাঁদের এদেশীয় দোসররা বাংলাদেশ জুড়ে নারকীয় গণহত্যা, লুণ্ঠন ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল। ভারত মুক্তিযুদ্ধে মানবিক ও সামরিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি বহির্বিশ্বে এ বিষয়গুলো প্রচার করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালায়। বাংলাদেশের মানুষ পাকিস্তানি বাহিনীকে রুখে দাঁড়ালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। এ সময় ভারত সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ও অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করে সহায়তা করে। এপ্রিলের শেষ দিকে ত্রিপুরা ও মেঘালয়সহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশের তরুণ-যুবকদের যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়। পাকিস্তানি সেনাদের হত্যাযজ্ঞ ও অত্যাচার থেকে বাঁচতে প্রায় ১ কোটি মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়। ভারত সরকার তাদের আশ্রয় ও ভরণপ্লোষণের ব্যবস্থা করে। এছাড়া কলকাতায় অবস্থান করে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার পরিচালনা ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে স্থাপনে ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছিল। যুদ্ধের শেষ দিকে মুক্তিবাহিনী ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে মিলে যৌথ কমান্ড গঠন করে। এই যৌথবাহিনীর তীব্র আক্রমণের ফলে কোণঠাসা হয়েই ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে।

উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে চিত্রে 'D' চিহ্নিত দেশটির অর্থাৎ ভারতের ভূমিকা অপরিসীম।