• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • বাংলাদেশের স্বাধীনতা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

দৃশ্যকল্প-১: 'ক' নামক অঞ্চল তাদের সকল প্রকার সুবিধা ও ভবিষ্যৎ ভাগ্য উন্নয়নের জন্য একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করে। উত্ত পরিষদ সকলের দাবি, সুযোগ সুবিধা নিশ্চিতকরণে বদ্ধপরিকর।

দৃশ্যকল্প-২:

কারার ঐ লৌহ কপাট
ভেঙে ফেল কররে লোপাট
রক্ত-জমাট শিকল পূজার পাষাণ বেদী
ওরে ও তরুণ ঈষাণ, বাজা তোর প্রলয় বিষাণ
ধ্বংস নিশান উড়ুক প্রাচীর, প্রাচীর ভেদী

জামী গানটি শুনে তার বাবাকে বলল যে, বইতে পড়েছে এ ধরনের সংগীত অনেককেই অনুপ্রাণিত করেছে স্বাধীন বাংলাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। ত্যাগ ও তিতিক্ষার বিনিময়ে আমরা আজ স্বাধীন।

দৃশ্যকল্প-২ এ সঙ্গীত কি বাংলাকে স্বাধীনতার পথে ত্বরান্বিত করতে পেরেছিল? তোমার যৌক্তিক মতামত দাও।

হ্যাঁ, দৃশ্যকল্প-২ এর সংগীত বাংলার স্বাধীনতা ত্বরান্বিত করতে পেরেছিল।

স্বাধীনতা যুদ্ধে এ দেশের মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি-পেশাভেদে সাধ্য অনুযায়ী অংশগ্রহণ করেছিল। দেশের মানুষের সর্বাত্মক প্রচেষ্টাই বাঙালিকে স্বাধীনতার সূর্য এনে দিয়েছিল। স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ ভূমিকা রাখে। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ চট্টগ্রাম বেতারের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিভাগের কর্মীরা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র চালু করেন। মুজিবনগর সরকারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ বেতার কেন্দ্রে সংবাদ, দেশাত্মবোধক গান, মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাঁথা, উদ্দীপনামূলক নাটক, কথিকা ইত্যাদি প্রচার করা হতো। এসব অনুষ্ঠান বাঙালির মনে দারুণ সাহস ও অনুপ্রেরণার সঞ্চার করেছিল।

উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ কারাগার ভেঙে শিকল থেকে মুক্তির কথা বলা
হয়েছে। এতে, তরুণদের নিজস্ব শক্তি দিয়ে প্রলয় সৃষ্টির মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয়ের পতাকা ওড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। বিদ্রোহী কবির রচিত এ গানে কায়েমী স্বার্থবাদের দুষ্টচক্র ভেঙে বিজয় ছিনিয়ে আনার প্রেরণা দেওয়া হয়েছে। এ গানের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করা হয়েছে। দিন শেষে যুদ্ধ করে ক্লান্ত মুক্তিযোদ্ধাকে পরবর্তী দিনে আবার নতুন উদ্যমে যুদ্ধ করতে এসব গান অনুপ্রেরণা দিত। ফলে মুক্তিযোদ্ধারা মানসিক শক্তি ও উৎসাহ পেয়েছেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের এসব গান থেকে।

সুতরাং বলা যায়, স্বাধীনতা যুদ্ধের এ. সকল গান মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা দিয়েছিল যা মুক্তিযুদ্ধকে সফল করতে সাহায্য করে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

মুক্তিযুদ্ধে শিল্পী-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় শিল্পী-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মূল নিয়ামক শক্তি ছিলো জনগণ। যুদ্ধ চলাকালীন মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে শিল্পী-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবী ও বিভিন্ন সংস্কৃতি কর্মীর অবদান ছিলো খুবই প্রশংসনীয়। পত্র-পত্রিকায় লেখা, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে খবর পাঠ, দেশত্মাবোধক ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গান প্রচার, কবিতা পাঠ, নাটক, কথিকা ও অত্যন্ত অনুষ্ঠান 'চরমপত্র' ও জল্লাদের দরবার ইত্যাদি মুক্তিযুদ্ধকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করেছে।

#

মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক কে ছিলেন?

মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

#

দৃশ্যকল্প-১ এ কোন ঘটনার সাথে সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়? ব্যাখ্যা কর।

দৃশ্যকল্প-১ এর ঘটনার সাথে মুজিবনগর সরকার গঠনের ঘটনার সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়'।

১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তিনি ২৭শে মার্চ তারিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আবারও স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এর কয়েকদিন পর ১৭ই এপ্রিল এ সরকারের, সদস্যরা মেহেরপুরের মুজিবনগরে (তৎকালীন বৈদ্যনাথতলা) শপথগ্রহণ করেন। এ সরকারের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন যথাক্রমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাজউদ্দীন আহমদ।, উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম; অর্থমন্ত্রী এম, মনসুর আলী; স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান এবং পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদ নিয়ে এই সরকার পরিচালিত হয়। এই সরকারকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য একটি উপদেষ্টা পরিষদও গঠিত হয়। মুজিবনগর সরকারের প্রধান কাজ ছিল মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠন।

দৃশ্যকল্প-১ এ 'ক' নামক অঞ্চল তাদের সকল প্রকার সুবিধা ও ভবিষ্যৎ ভাগ্য উন্নয়নের জন্য একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করে। এই পরিষদ। সকলের দাবি, সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণে বদ্ধপরিকর। এই ঘটনার সাথে ১৯৭১ সালে গঠিত মুজিবনগর সরকারের মিল আছে। মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয় বাংলাদেশিদের সাথে পশ্চিম পাকিস্তানিদের বৈষম্যের প্রতিকারের মাধ্যমে তাদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং ভবিষ্যৎ ভাগ্য উন্নয়ন অর্থাৎ স্বাধীনতার জন্য। এ সরকারই বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের মাধ্যমে সকলের সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে।