• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • বাংলাদেশের স্বাধীনতা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

'ক' দেশের ক্ষমতাসীন সরকার নির্বাচিত পার্টির নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ষড়যন্ত্র শুরু করে। ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দেশের জনগণ বিক্ষোভ শুরু করলে সরকারের বাহিনী এক রাতে অস্ত্র ট্যাংকবহর নিয়ে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায়। নির্বিচারে একের পর এক নিরীহ-নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করে। সাধারণ জনগণ এ সর্কল অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধযুদ্ধ গড়ে তোলে। প্রতিরোধ যুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য 'ক' দেশের জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিপ্লবী সরকার গঠিত হয় এবং তাদের নেতৃত্বে বিজয় অর্জিত হয়।

উদ্দীপকে উল্লেখিত বিপ্লবী সরকারের সঙ্গে কোন সরকারের মিল রয়েছে? উক্ত সরকারের দৃঢ় ভূমিকার জন্যই বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয় ত্বরান্বিত হয়- উক্তিটি মূল্যায়ন করো।

উদ্দীপকে উল্লেখিত বিপ্লবী সরকারের সাথে মুজিবনগর সরকারের মিল রয়েছে। এ সরকারের দৃঢ় ভূমিকার জন্যই স্বাধীনতা যুদ্ধে ধাংলাদেশের বিজয় ত্বরান্বিত হয়।
১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরপর তিনি ২৭শে মার্চ তারিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আবারও স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। মুক্তিযুকে সঠিক ও সুপরিকল্পিতভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী সদস্যদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে প্রধান করে মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়। উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' দেশের বিপ্লবী সরকারটি মূলত মুজিবনগর সরকারকেই ইঙ্গিত করে।

মুজিবনগর সরকার পাকিস্তানি সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী ইপিআর (বর্তমানে বিজিবি) যাহিনীতে কর্মরত বাঙালি সদস্য এবং দেশের মুক্তিকামী সাধারণ মানুষকে নিয়ে মুক্তিবাহিনী গঠন করে। যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে এ. সরকার দেশকে ১১টি সেক্টর ও কয়েকটি সাব-সেক্টরে ডাগ করে। এ ছাড়া তিন জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তার নেতৃত্বে তিনটি বিশেষ ফোর্স বা বাহিনী গঠন করা হয়। মুজিবনগর সরকারের আহ্বানেই প্রতিবেশি দেশ ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে কূটনৈতিক সমর্থন দেয় এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সরবরাহের ব্যবস্থা করে। তাছাড়া মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জনমত সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কূটনীতিকদের বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরে (যেমন- দিল্লি, লন্ডন, নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, স্টকহোম) পাঠায়। এর মাধ্যমে বিদেশে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে সমর্থন-আদায়ের চেষ্টা করা হয়। সরকার বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেয়। তিনি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্ব নেতৃত্ব ও সাধারণ জনগণের সমর্থন আদায়ের জন্য কাজ করেন। মুজিবনগর সরকারের এ-ধরনের রাজনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে 'বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গড়ে ওঠে।

উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, মুজিবনগর সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()