• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • বাংলাদেশের স্বাধীনতা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

স্বাধীনতা, তোমার জন্যে
মোল্লাবাড়ির এক বিধবা দাঁড়িয়ে আছে
নড়বড়ে খুঁটি ধরে দগ্ধ ঘরের।
স্বাধীনতা, তোমার জন্যে
হাড্ডিসার এক অনাথ কিশোরী শূন্য থালা হাতে
বসে আছে পথের ধারে।
তোমার জন্যে,
সগীর আলী শাহবাজপুরের সেই জোয়ান কৃষক,
কেষ্টদাস, জেলে পাড়ার সবচেয়ে সাহসী লোকটা,
মতলব মিয়া, মেঘনা নদীর দক্ষ মাঝি....
সবাই অধীর প্রতীক্ষা করছে তোমার জন্যে, হে স্বাধীনতা।

উদ্দীপকের প্রথম অংশ মহান মুক্তিযুদ্ধে কাদের অবদানের -কথ্য স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা করো।

উদ্দীপকের প্রথম অংশ মহান মুক্তিযুদ্ধে নারীদের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

দেশকে স্বাধীন করতে অস্ত্র হাতে লড়াই করা পুরুষদের তারা বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছেন। কিছু সংখ্যক নারী সরাসরি রণাজানেও যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, মোল্লাবাড়ির এক বিধবা তার সব খারিয়ে দগ্ধ ঘরের খুঁটি ধরে দাড়িয়ে আছে। অন্যদিকে, এক অনাথ কিশোরী শূন্য থালা হাতে পথের ধরে বসে আছে। তাদের এই অপেক্ষা স্বাধীনতার জন্য। উদ্দীপকের এই চিত্রটির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি নারীদের ত্যাগ ও অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। চরম বিপদের ঝুঁকি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের খাবারদাবার, আশ্রয় ও চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করেছেন নারীরা। পাশাপাশি শত্রুবাহিনীর অবস্থান ও গতিবিধির খবর সরবরাহ করেছেন। যন্ত্রের নয় মাসে পাকবাহিনীর চরম নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন দুই লাখের বেশি নারী। এদেশের হাজারো নারী তাদের প্রিয়জনদের যুদ্ধে পাঠিয়ে দিনের পর দিন অপেক্ষা করেছেন। তারামন বিবি, ডা. সিতারা পারভীন, কাঁকন বিবিসহ কিছুসংখ্যক নারী প্রত্যক্ষ যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। এ যুদ্ধে অনেক মা হারিয়েছেন তার সন্তান, অনেক নারী বিসর্জন দিয়েছেন তার স্বামীকে, আবার অনেক মেয়ে হারিয়েছে তার পিতাকে। একমাত্র উপার্জনক্ষম পিতা বা ভাইকে হারিয়ে ঐ নারীদের জীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ। উদ্দীপকে বর্ণিত কবিতাংশের প্রথম অংশটুকু পড়ে মুক্তিযুদ্ধে নারীদের এ ত্যাগ ও অবদানের কথাই মনে পড়ে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

অস্থায়ী সরকারের সদরদপ্তর কোথায় ছিল?

অস্থায়ী সরকারের সদর দপ্তর ছিল কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডে।

#

মুজিবনগর সরকারের অভ্যন্তরীণ প্রশাসন কীরূপ ছিল?

মুজিবনগর সরকারের অভ্যন্তরীণ প্রশাসন ছিল সুপরিকল্পিত।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে সফলতার দিকে এগিয়ে নিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মূল দায়িত্বটি পালন করে মুজিবনগর সরকারের অভ্যন্তরীণ প্রশাসন। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন, সহযোগিতা ও জনমত সংগঠনের উদ্দেশ্যে অস্থায়ী সরকার বহিবিশ্বে সফল কূটনৈতিক তৎপরতা চালায়। মুজিবনগর সরকারের মাধ্যমেই সামরিক ও বেসামরিকসহ যাবতীয় প্রশাসন পরিচালিত হয়। ফলে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ স্বল্প সময়ের মধ্যে সফল পরিণতি লাভ করে।

#

উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণদের মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদান বিশ্লেষণ করো।

উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণদের অর্থাৎ কৃষক, শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষের মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদান ছিল অপরিসীম।

আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে কৃষক, শ্রমিক, জেলে প্রভৃতি পেশাজীবী মানুষের অংশগ্রহণ ছিল সবচেয়ে বেশি। তাঁরা ব্যক্তিগত স্বার্থের কথা চিন্তা না করে দেশমাতৃকার স্বাধীনতার জন্য দলে দলে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। এরফলেই মাত্র নয় মাস যুদ্ধ করে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়।

উদ্দীপকের কবিতাংশের দ্বিতীয় ভাংশে আমরা দেখতে পাই, সগীর আলী নামের এক জোয়ান কৃষক, সাহসী জেলে কেষ্টদাস, দক্ষ মাঝি মতলব মিয়া স্বাধীনতা লাভের জন্য অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষা করছে। এরূপ কৃষক, শ্রমিক, জেলে, তাঁতি প্রভৃতি শ্রেণি-পেশার লোকেরা ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ব্যক্তিগত লাভ-ক্ষতির হিসাব না করে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। তাদের প্রত্যেকের লক্ষ্য ছিল যেকোনো মূল্যে স্বাধীনতা অর্জন করতে হবে। অনেকেই নিজের জীবন বাজি রেখে সম্মুখ সমরে অংশগ্রহণ করেছে। অনেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছে। পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর মুষ্টিমেয় কিছু এদেশীয় দোসর ছাড়া সবাই কোনো না কোনোভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহিদের মধ্যে সাধারণ মানুষের সংখ্যাই ছিল সবচেয়ে বেশি। তাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা অর্জন করেছি স্বাধীন মানচিত্র এবং লাল-সবুজের পতাকা।

পরিশেষে বলা যায়, মুক্তিযুদ্ধে কৃষক, জেলে, মাঝিসহ সাধারণ মানুষের সাহায্য-সহযোগিতা ও ত্যাগের ফলেই বাংলাদেশের স্বাধীনতাসঅর্জন সম্ভব হয়েছে।