• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • বাংলাদেশের স্বাধীনতা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

ইরাকি প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ইরাক আক্রমণের পরিকল্পনা করে। প্রেসিডেন্ট বুশের নির্দেশে রাতের অন্ধকারে মার্কিন বাহিনী বাগদাদের নিরীহ জনগণের উপর নির্বিচারে বোমা বর্ষণ করে এবং গণহত্যা চালায়। আমেরিকানরা এর নাম দেয় "অপারেশন ডেজার্ট স্ট্রম' দীর্ঘদিনের যুদ্ধে ইরাক আজ বিধ্বস্ত ও বিপর্যস্ত। সাদ্দাম হোসেনের পরবর্তী সরকারগুলো পরাধীন ও বৃহৎশক্তির আজ্ঞাবহ মাত্র। জাতি হিসেবে ইরাক আজ নেতৃত্বহীন ও গভীর সংকটে পতিত এক জনপদ।

উদ্দীপকে বর্ণিত 'অপারেশন ডেজার্ট স্ট্রম' পরবর্তী ইরাকের যুদ্ধাবস্থার সাথে বাংলাদেশের যুদ্ধাবস্থার একটি তুলনামূলক 'চিত্র তুলে ধরো।

উদ্দীপকে বর্ণিত 'অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম' পরবর্তী ইরাকের যুদ্ধাবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের যুদ্ধাবস্থার মিল-অমিল উভয়ই পরিলক্ষিত হয়।

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে এদেশে 'অপারেশন সার্চলাইট'-এর মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা শুরু হয়। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তিনি ২৭শে মার্চ তারিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আবারও স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এরপর শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। এদেশের সর্বস্তরের জনগণ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে এসময় মুজিবনগর সরকার নামে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। এ সরকারের সুদক্ষ নেতৃত্বে প্রায় নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। তবে যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী সারাদেশে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল। এদেশের ত্রিশ লাখ মানুষকে তারা হত্যা করে। অসংখ্য ঘরবাড়ি, দোকানপাট, পাড়া, গ্রাম তারা পুড়িয়ে দিয়েছিল। যুদ্ধের সময় এদেশের অসংখ্য রাস্তাঘাট, সেতু, কলকারখানা, নৌবন্দর, সমুদ্রবন্দর ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। এসব কারণে দেশের অর্থনীতি হয়ে পড়েছিল বিপর্যস্ত।

উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, 'অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম' এর পর দীর্ঘদিনের যুদ্ধে বাংলাদেশের মতোই ইরাক বিধ্বস্ত ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু অপারেশন সার্চলাইটের পর বাঙালিরা যেভাবে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, 'অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম' এর পর ইরাকের জনগণ তা করেনি। যুদ্ধের সময় বাংলাদেশে একটি সরকার গঠিত হয়েছিল এবং এ সরকারের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। কিন্তু ইরাকে কার্যত আমেরিকার তাঁবেদার সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। ইরাক এখন অস্থিতিশীলতা, সাম্প্রদায়িক অনৈক্য ও জঙ্গিবাদসহ বিভিন্ন সংকটে পতিত এক জনপদ। উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের অবকাঠামো ইরাকের মতোই বিধ্বস্ত হলেও এদেশের জনগণ শেষ পর্যন্ত সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু ইরাকের পরিস্থিতি ভিন্নরকম।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()