• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • বাংলাদেশের স্বাধীনতা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

মারুফা জাহান- তার ব্যক্তিগত ব্লগে পৃথিবীর সাড়া জাগানো একটি ভাষণ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য প্রদান করেছেন। সেখানে লেখা আছে, এ ভাষণ যখন শুরু হয়েছিল তখন প্রদেশের রাজধানী থেকে ওয়ারলেসের মাধ্যমে খবর আসে সম্প্রচার বন্ধ করতে। নির্দেশটি পেয়ে বক্তা বললেন, রেডিও-টেলিভিশনের কর্মচারিরা যদি রেডিওতে আমাদের কথা না শোনে তাহলে কোনো বাঙালি রেডিও স্টেশনে ডায়ারো না। বিশ্বের ইতিহাসখ্যাত এ ভাষণটি পরবর্তীতে একটি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কীরূপ ছিল?

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছিল।

বাঙালির মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বিশ্ব ছিল দুই মেরুকেন্দ্রিক। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়েনের নেতৃত্বাধীন সমাজতান্ত্রিক দেশগুলো মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন জানায়। ফলে পুঁজিবাদের নেতৃত্বাধীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপরীত হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক ছিল। এছাড়া পাকিস্তানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় ছিল। ফলে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মানবতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে পাকিস্তানকে সমর্থন দিয়েছিল। তবে মার্কিন জনগণ ও কতিপয় প্রভাবশালী সিনেট সদস্য বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছিল।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে কোন দল বিজয় অর্জন করে?

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয় অর্জন করে।

#

উদ্দীপকে কোন ভাষণের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উদ্দীপকে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের ইন্জিাত দেওয়া হয়েছে।
বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ কমনার রেসকোর্স ময়দানে যে জ্বালাময়ী ভাষণ দিয়েছিলেন তা ছিল এক্ত কুরায় অনন্য। এ ভাষণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের পাশাপাশি তিনি বলেন্দ্র মনে রাখবেন, রেডিও-টেলিভিশনের কর্মচারীরা যদি রেডিওতে জায়াদের কথা না শোনে তাহলে কোনো বাঙালি রেডিও স্টেশনে ভাবেন না। যদি টেলিভিশন আমাদের নিউজ না দেয়, কোনো বাঙালি টেলিভিশনে যাবেন না। উদ্দীপকেও এ বিষয়গুলো প্রতিফলিত হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের এ ভাষণ ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল ঘটনা। এ ভাষণের অন্যতম দিক ছিল চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহীর 'করা, এবং সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া। তাছাড়াও গণহত্যার 'তদন্ত করী এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি ছিল'-এ ভাষণের অন্যতম লক্ষণীয় দিক ছিল। এ মহান ভাষণের সফল পরিণতির পথ ধরে সমগ্র জাতি তদানীন্তন পশ্চিম পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে 'অসহযোগ আন্দোলন শুরু করেছিল। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু পরোক্ষভাবে স্বাধীনতা আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন, যার পথ। ধরে ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়।

#

তুমি কি মনে কর উক্ত ভাষণটি স্বাধীনতা সংগ্রামে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

হ্যাঁ, আমি মনে করি, উক্ত ভাষণ অর্থাৎ বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণটি আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ছিল বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মইলফলক। একটি ভাষণ একটি জাতিকে কতটা উদ্দীপ্ত করতে পারে তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ। বলতে গেলে এ ভাষণের ফলে পূর্ব পুরিয়ানে যে অসহযোগ আন্দোলনের, বিস্তার ঘটেছিল, তা থেকেই আমাদের, মুক্তি সংগ্রামের সূচনা হয়। উদ্দীপকেও এ বিষয়টির প্রতিফলন লক্ষ করা যায়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণের পরদিন থেকে সারা দেশে ব্যাপক আন্দোলনের সূচনা ঘটে। কল-কারখানা, ব্যাংক, স্কুল কলেজ বন্ধ হয়ে যায়। সশস্ত্র যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে পাকিস্তানিদের" বিরুদ্ধে প্রতিরোধ দুর্গ গড়ে তুলেছিল। মুক্তিকামী জনতা পাকবাহিনীকোর বিভিন্ন স্থানে প্রতিরোধ করতে থাকে। পূর্ব পাকিস্তানে অসহযোগ আন্দোলনसी চলতে থাকলে ১৩ই মার্চ সামরিক শাসন জারি করা হয়। ১৪ই মার্চ পাকিস্তানের নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো একটি অবাস্তব প্রস্তাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার ফর্মুলা দেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু জনগণকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। আর ১৫ই মার্চ থেকে মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক শুরু হয়। কিন্তু আলোচনা সমাপ্ত না করে গণহত্যার নির্দেশ দিয়ে ইয়াহিয়া খান ঢাকা ত্যাগ করেন। তার নির্দেশে ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী নিরীহ বাঙালিকে নির্বিচারে হত্যা করলে বাঙালি জাতি এ হত্যাকান্ডের প্রতিশোধ গ্রহণে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়। অবশেষে শুরু হয় রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ ৯ মাসের মুক্তি সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় আমাদের স্বাধীনতা।

পরিশেষে বলা যায় যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণের তাৎপর্য অপরিসীম।