• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • বাংলাদেশের স্বাধীনতা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

দৃশ্যকল্প-১: মুক্তিযুদ্ধকালে দেশটির গণমাধ্যম বিশেষ করে রেডিও এবং সংবাদপত্র যুদ্ধের গতি-প্রকৃতি ও অগ্রগতি সম্পর্কে বিশ্ব জনমতকে জাগ্রত করে তোলে। এক্ষেত্রে তাদের সরকারও ছিল সহানুভূতিশীল।

দৃশ্যকল্প-২: শরণার্থীদের আশ্রয়দান, অস্ত্র সরঞ্জাম সরবরাহ ও প্রশিক্ষণে সরকার ও জনগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

দৃশ্যকল্প-১ এ নির্দেশিত দেশটির মুক্তিযুদ্ধকালীন কার্যক্রম ব্যাখ্যা করো।

দৃশ্যকল্প-১ এ নির্দেশিত 'খ' দেশটি হলো গ্রেট ব্রিটেন বা যুক্তরাজ্য।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীর নারকীয় হত্যাযজ্ঞ বিশ্ব বিবেককে হতবাক করে দেয়। বিভিন্ন দেশ পাকিস্তানি সেনা ও তাদের এদেশীয় দোসরদের চালানো হত্যাযজ্ঞ, নারী নির্যাতন ও লুটতরাজ-অগ্নিসংযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। সেইসাথে তারা মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানায়। যুক্তরাজ্য ছিল এ দেশগুলোর অন্যতময়।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালিদের ন্যায্য দাবির প্রতি যুক্তরাজ্য সমর্থন জানিয়ে আসছিল। দেশটির প্রচার মাধ্যস্টে বিশেষত বিবিসি এবং লন্ডন থেকে প্রকাশিত পত্র-পত্রিকায় ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর ২৫শে মার্চের নির্মম গণহত্যার চিত্র 'উঠে আসে। সাহসী ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই গণহত্যার সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশ করেন। ব্রিটিশ সাংবাদিকরা বাঙালির প্রিতিরোধ লড়াই, ভারতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের করুণ অবস্থা, মুষ্টিযুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহ ইত্যাদির চিত্র বিশ্বের সামনে তুলে ধরেন। ছাপা চাত্যের আরও কিছু দেশের সংবাদকর্মীরাও এ কাজে যুক্ত ছিলেন। তবে কমুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডন ছিল পুরো বিশ্বের কাছে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচারের প্রধান কেন্দ্র। প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিরা লন্ডন থেকে এর "কার্যক্রম 'পরিচালনা করতেন। দৃশ্যকল্প-১ এর দেশও বিশ্ব বিবেককে জাগ্রত করা, সহানুভূতি প্রদর্শন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচারের প্রধান কেন্দ্র হওয়া ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরে। এগুলো 'যুক্তরাজ্যের তখনকার ভূমিকার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, দৃশ্যকল্প-১ এ 'যুক্তরাজ্যকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

কত সালে পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়?

পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭০ সালে।

#

মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয় কেন?

মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়।

১৯৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের নিয়ে চাফার১ সালের ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়। ১৭ই এপ্রিল এ সরকারের সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। মূলত মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা এবং বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বজনমত গড়ে তোলার লক্ষ্যে মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়।

#

তুমি কি মনে কর, দৃশ্যকল্প-২ এর দেশটি আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করেছিল? উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।

দৃশ্যকল্প-২ এর দেশটি হলো ভারত। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে এ দেশটি প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করে।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারত সুস্পষ্ট সমর্থন জানায়। ২৫শে মার্চ রাত থেকে শুরু হয়ে দীর্ঘ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার ও তাদের এদেশীয় দোসরদের নারকীয় গণহত্যা, লুণ্ঠন ও ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত ছিল। ভারতীয় প্রচারমাধ্যম এ সংবাদ বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরে।

মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ভারত সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ও অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করে সহায়তা করে। এপ্রিলের শেষ দিকে ত্রিপুরাসহ ভারতের মাটিতে বাঙালি তরুণ-যুবকদের সশস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়, যা নভেম্বর পর্যন্ত চালু ছিল। এ ছাড়া পাকিস্তানি সেনাদের হত্যাযজ্ঞ ও নির্মম অত্যাচার থেকে বাঁচতে গ্রাম ও শহরাঞ্চল থেকে লাখ লাখ বাঙালি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়। এসব বাঙালি শরণার্থীকে সাহায্যের জন্য ভারত সরকার তাদের সীমান্ত খুলে দেয়। প্রায় ১ কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিতে পশ্চিমবল্লা, বিহার, আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরায় শরণার্থী শিবির খোজা হয়। পাশাপাশি কলকাতায় অবস্থান করে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার পরিচালনা ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে স্থাপনে ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছিল। দৃশ্যকায়-২ এ দেখা যায়, 'ক' দেশ শরণার্থীদের আশ্রয়দান, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সরবরাহ করে। 'ক' দেশের এই কার্যক্রম মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের সরকার ও জনগণের সহযোগিতাকেই মনে করিয়ে দেয়।

উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, দৃশ্যকল্প-২ এর দৈশ অর্থাৎ ভারত ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করে। ভারতের সার্বিক সহযোগিতা মাত্র নয় মাসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব করে তুলেছিল।