• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • বাংলাদেশের স্বাধীনতা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধন ও মায়ানমার থেকে। রোহিঙ্গারা পালিয়ে আসার ফলে সৃষ্ট সমস্যা-সমাধানে এবং রোহিঙ্গাদের পক্ষে বিশ্ব জনমত সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন কূটনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭এবং ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ তারিখে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সভায়, বাংলাদেশের প্রধানুমন্ত্রী রোহিঙ্গা সমস্যা যথাযথভাবে তুলে ধরেন। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য, মায়ানমারের 'ওপর চাপ প্রয়োগ, করতে তিনি বিশ্ব নেতাদের আহ্বান জানান। বৈশ্বিক চাপ ও কূটনৈতিক। তৎপরতার ফলে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে নিরাপত্তা পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে চীন ও রাশিয়া ভেটো দেওয়ায় রোহিঙ্গা সমস্যার কোনো সমাধান ছাড়াই সভা শেষ হয়। এতে সংস্থাটির সক্রিয় ভূমিকার অভাব রয়েছে বলে মনে করা হয়।

বাংলাদেশ যেভাবে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছে ও এ" ব্যাপারে কূটনৈতিক প্রচারণা চালিয়েছে, এ দেশের মুক্তিযুদ্ধে একটি দেশের ভূমিকাও এরকম ছিল- পাঠ্যবই অনুসারে দেশটির অবদান মূল্যায়ন করো।

উদ্দীপকের বর্ণনানুযায়ী বাংলাদেশ সরকার যেভাবে রোহিংগাদের আশ্রয় দিয়েছে ও তাদের পক্ষে বিশ্ব জনমত সৃষ্টিতে কাজ করেছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারত একইভাবে সহযোগিতা করেছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সরাসরি সমর্থন জানায় প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারত। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের কালরাত্রির বীভৎস হত্যাকাণ্ড ও পরবর্তী ন'মাস ধরে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর চালানো নারকীয় গণহত্যা, লুণ্ঠন ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ভারত বিশ্ববাসীর কাছে সার্থকভাবে তুলে ধরে। এর ফলে বিশ্ববিবেক জাগ্রত হয়। ভারত লক্ষ লক্ষ শরণার্থীকে আশ্রয় এবং মুক্তিযোদাদের অস্ত্র, সরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষণ দিয়ে সাহায্য করে। মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী 'যৌথ কমান্ড' গড়ে তোলে। যৌথ বাহিনীর তীব্র আক্রমণের ফলে ৯৩ হাজার পাক সেনা নিঃশর্তে যৌথ কমান্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। ভারতের বহু সৈন্য বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ হারায়। দেশটির রাজনৈতিক নেতারা বিভিন্ন-দেশে, বাংলাদেশের পক্ষে প্রচারণা চালান।

উদ্দীপকের দেখা যায়, বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের, আশ্রয় দিয়েছে। তাদের পক্ষে বিশ্বে জনমত সৃষ্টিতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছে। 'ভারতও একইভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতা করেছিল।

উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকা অপরিসীম।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কী নামে আখ্যায়িত করা হয়?

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে 'গণযুদ্ধ' বা 'জনযুদ্ধ' নামে আখ্যায়িত করা হয়।

#

আমাদের মুক্তিযুদ্ধে গ্রেট ব্রিটেনের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে গ্রেট ব্রিটেন বা যুক্তরাজ্যের ভূমিকা ছিল অপরিসীম।

১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালিদের স্বায়ত্তশাসনের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছিল গ্রেট ব্রিটেন। দেশটির প্রচার মাধ্যমে, বিশেষত বিবিসি এবং লন্ডন থেকে প্রকাশিত পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর ২৫শে মার্চের নির্মম' হামলার চিত্র উঠে আসে। তখন সাইমন ড্রিং-এর মতো সাহসী ব্রিটিশ সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ গণহত্যার সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশ করেন। এছাড়া যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডন ছিল পুরো বিশ্বের কাছে মুক্তিযুদ্ধের প্রচারের প্রধান কেন্দ্র।

#

"বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও সাম্প্রতিককালের রোহিঙ্গা সমস্যা' সমাধানে জাতিসংঘ নিষ্ক্রিয় থাকলেও সোভিয়েত ইউনিয়ন রিপরীত ভূমিকা পালন করে" পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ও বর্তমান রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘ কার্যত নিষ্ক্রিয় থাকলেও সোভিয়েত ইউনিয়ন একাত্তরে বিপরীত ভূমিকা পালন করেছিল।

বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা জাতিসংখের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলেও, পূর্ব, পাকিস্তানে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে সংঘটিত গণহত্যার বিরুদ্ধে সংস্থাটি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। বরং যুদ্ধে পাকিস্তানের পরাজয়ের সম্ভাবনা দেখা দিলে মুস্তরাষ্ট্র ও চীন নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব করে। রাশিয়া (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন) এ প্রস্তাবে ভেটো দেয় যা আমাদের যুদ্ধ অয়ে সহায়ক হয়।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে, আমাদের মুক্তিযুদ্ধে জাতিসংঘ কোনো কার্যকরশাস ভূমিকা পালন করতে পারেনি। প্রকৃতপক্ষে 'ভেটো' ক্ষমতাসম্পন্ন পাঁচটি.এন দেশের সিখায়ের বাইরে গিয়ে জাতিসংঘের নিজস্ব উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষমতা ষরাবরই অত্যন্ত সীমিত।
উদ্দীপকে বর্ণিত সাম্প্রতিককালের রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য জাতিসংঘ সভা আয়োজন করলেও তা ব্যর্থ হয়েছে। আবার রোহিঙ্গা সমস্যার বিষয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে অবস্থান নিলেও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাকবাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশে গণহত্যা, ও নির্যাতন বন্ধ করার জন্য সোভিয়েত রাষ্ট্রপ্রধান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে আহ্বান জানান। আবার জাতিসংঘে পাকিস্তানের পক্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবন্ধের প্রস্তাব, সোভিয়েত ইউনিয়ন 'ভেটো' (বিরোধিতা করা) দিয়ে বাতিল করে দেয়। এতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভ করা সহজ হয়।