- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
নজরুল সাহেব তার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে জাতীয় জাদুঘর পরিদর্শনে যান। সেখানে একটি গ্যালারির কিছু দৃশ্যের ওপর তাদের চোখ আটকে যায়। চিত্রে বহু যুদ্ধাস্ত্র ও যুদ্ধের খণ্ড চিত্র ধারণ করা হয়েছে। নিরীহ জনগণের ওপর জুলুম, নির্যাতন, তাদের বাড়ি-ঘর ও সহায়-সম্পত্তি ধ্বংস, পাল্টা আক্রমণ এবং, গ্যালারির শেষ প্রান্তে অত্যাচারীদের আত্মসমর্পণের দৃশ্য দেখে তারা অত্যন্ত ব্যথিত হওয়ার পাশাপাশি আনন্দিতও হয়।
বক্তাবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ বাঙালি জাতির ইতিহাসে অবিস্মরণীয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ ছিল মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতার দিকনির্দেশনা। এ কারণে এটি বাঙালি জাতির ইতিহাসে অবিস্মরণীয়।
বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের পরদিন থেকে সমগ্র দেশে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়ে যায়। তার নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত, কল-কারখানা সব বন্ধ হয়ে যায়। তার এ ভাষণে প্রত্যক্ষভাবে স্বাধীনতা আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছিল। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে পরবর্তী সময়ে বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। এজন্য বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ বাঙালি জাতির ইতিহাসে অবিস্মরণীয়।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
মুজিবনগর সরকার কখন গঠিত হয়েছিল?
১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়েছিল।
উদ্দীপকে উল্লেখিত চিত্রসমূহ কোন যুদ্ধকে স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকে উল্লেখিত চিত্রসমূহ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। যুদ্ধের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাক-হানাদার বাহিনী বাংলার নিরীহ মানুষের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালায়। বাংলার মানুষের ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। তাদের অর্থ-সম্পত্তি ধ্বংস এবং নির্বিচারে মানুষ হত্যা করে। উদ্দীপকের চিত্রসমূহে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের এ ঘটনাগুলোই প্রকাশিত হয়েছে।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ জয়লাভ করলে পশ্চিম পাকিস্তানি নেতৃবৃন্দ ক্ষমতা ধরে রাখতে গণরায়ের বিরোধিতা ও ষড়যন্ত্র করতে থাকে। তারা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ওপর অত্যাচারের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র, নিরীহ ও স্বাধীনতাকামী সাধারণ মানুষের ওপর নির্মম এবং বর্বর গণহত্যা চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ২৬শে মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরপর তিনি ২৭শে মার্চ তারিখে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আবারও স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এরপর বাংলার মানুষ পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র স্বাধীনতা, সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়ে পাকবাহিনী গণহত্যা, লুণ্ঠন, নারী নির্যাতনের বিভীষিকা সৃষ্টি করে। ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল 'মুজিবনগর সরকার' গঠিত হলে প্রতিরোধ সংগ্রাম 'মুক্তিসংগ্রাম' বা 'স্বাধীনতা যুদ্ধে' পরিণত হয়। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। উদ্দীপকের নজরুল সাহেব শিক্ষার্থীদের নিয়ে জাতীয় জাদুঘরে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর জুলুম নির্যাতন ও আত্মসমর্পণের চিত্রই দেখেছেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের চিত্রসমূহ স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘটনাকেই স্মরণ করিয়ে দেয়।
গ্যালারির শেষ প্রান্তের দৃশ্যাবলি দেখে পরিদর্শকদের মনে যে আনন্দানুভূতি জাগ্রত হয় তা পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
মুক্তিযুদ্ধের প্রথমদিকের ইতিহাস ছিল বেদনাদায়ক, কষ্টদায়ক। কিন্তু এর শেষ দিকে পাকিস্তানিদের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা ছিল অনেক আনন্দদায়ক এবং উল্লাসের।
বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাক-হানাদার বাহিনীর আক্রমণের বিরুদ্ধে বাঙালিরাও পাল্টা আক্রমণ চালায়। তাদের সকল আক্রমণ প্রতিহত করে মুক্তিযোদ্ধারা তাদেরকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করে। হানাদার বাহিনীর পরাজয় ও আত্মসমর্পণের দৃশ্য দেখলে আনন্দে মন ভরে ওঠে। উদ্দীপকেও এ ঘটনার প্রতিফলন ঘটেছে।
মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা আমাদেরকে পৃথিবীর বুকে একটি আত্মমর্যাদাশীল স্বাধীন জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। মুক্তিবাহিনীর বীরত্বপূর্ণ লড়াই, সমগ্র দেশবাসীর দৃঢ় ঐক্য, মিত্রবাহিনীর সক্রিয় সহায়তার মাধ্যমেই স্বাধীনতা অর্জিত হয়। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ধর্ম, বর্ণ, জাতি, নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুক্তিযুদ্ধ হয়ে দাঁড়ায় বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনার বহিঃপ্রকাশ। ডিসেম্বরের প্রথম দিকে মুক্তিবাহিনীর সাথে ভারতীয় মিত্রবাহিনী যোগ দিলে যুদ্ধে নতুন মাত্রা যোগ হয়। অবশেষে ১৬ই ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ৯৩,০০০ সৈন্যসহ জেনারেল নিয়াজী আত্মসমর্পণ করেন। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতার যে সূচনা হয়েছিল ১৬ই ডিসেম্বর তা পূর্ণতা পায়। বিশ্ব মানচিত্রে উদ্ভাসিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। পরিশেষে বলা যায়, হানাদার বাহিনীর আক্রমণের প্রতিরোধে বাঙালিদের পাল্টা আক্রমণ এবং তাদের আত্মসমর্পণের দৃশ্য আমাদের যেমন আনন্দিত করে, তেমনি বাঙালি হিসেবে আমাদের গর্বিত করে।

