- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- সৌরজগৎ ও ভূমণ্ডল
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
স্থান | অক্ষরেখা | দ্রাঘিমা রেখা | তারিখ | সময় |
|---|---|---|---|---|
A | ৩০° উত্তর | ১০৫° পশ্চিম | ২২শে জুন | ৭টা (সকাল) |
B | ৫০° দক্ষিণ | ৫৬° পশ্চিম | ২২শে জুন | ? |
উক্ত তারিখে দুটি স্থানে দিবারাত্রির দৈর্ঘ্য কি একইরূপ হবে? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করো।
উদ্দীপকে উল্লিখিত তারিখে অর্থাৎ ২২শে জুন A ও B স্থান দুটিতে দিবা-রাত্রির দৈর্ঘ্য একইরূপ হবে না।
বার্ষিক গতির ফলে পৃথিবীতে দিন ও রাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। পৃথিবীর নিজ কক্ষপথে একটি নির্দিষ্ট সময়ে ও নির্দিষ্ট দিকে সূর্যের চারিদিকে "পরিক্রমণকে বার্ষিক গতি বলে। সূর্যের চারিদিকে পৃথিবীর এ পরিক্রমণ কালে এক সময় উত্তর মেরু সূর্যের কাছাকাছি হয়। আবার একটি নিদিষ্ট সময় পর দক্ষিণ মেরু সূর্যের কাছাকাছি যা। যে মেরু যখন সূর্যের নিকটে থাকে সেখানে দিন বড় ও রাত ছোট হয় এবং বিপরীত মেরুতে দিন ছোট রাত বড় হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত এ স্থানটি ৩০° উত্তর অক্ষরেখা অর্থাৎ উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত। অন্যদিকে ও স্থানটি ৫০° দক্ষিণ অক্ষরেখা অর্থাৎ দক্ষিণ
গোলার্ধে অবস্থিত। উদ্দীপকে বর্ণিত তারিখ ২২শে জুন পৃথিবী সূর্যকে পরিক্রমণকালে কক্ষপথের এমন অবস্থানে পৌছে যেখানে উত্তর মেরু সূর্যের দিকে বেশি ঝুঁকে থাকে এবং দক্ষিণ মেরু সূর্য থেকে দূরে থাকে। অর্থাৎ এ দিন উত্তর গোলার্ধের এ স্থানে সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়, ফলে এ স্থানে দিন বড় এবং রাত ছোট হয়। অন্যদিকে দক্ষিণ গোলার্ধের B স্থানে সর্য তির্যকভাবে কিরণ দেয় এবং স্থানটিতে দিন ছোট ও রাত বড় হয়।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে, বলতে পারি যে, স্থান দুটি বিপরীত গোলার্ধে অবস্থানের কারণে এবং বার্ষিক গতির কারণে ২২শে জুন তারিখে A ও B স্থানে দিবা-রাত্রির দৈর্ঘ্যের মধ্যে সম্পূর্ণ বিপরীত রূপ বিরাজ করবে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
মেরুরেখা কাকে বলে?
পৃথিবীর কেন্দ্র দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে কল্পিত রেখাকে অক্ষ (Axis) বা মেরুরেখা বলে।
সৌরকলঙ্ক কী? ব্যাখ্যা করো।
সূর্যের মধ্যে মাঝে মাঝে যে কালো দাগ দেখা যায় তাকে সৌরকলঙ্ক বলে।
১৬১১ সালে গ্যালিলিও তার নব আবিষ্কৃত টেলিস্কোপ দিয়ে প্রথম সৌরকলঙ্ক প্রত্যক্ষভাবে জনসমক্ষে উপস্থাপিত করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পদার্থবিজ্ঞানী সূর্যের আলোকতরঙ্গ ব্যাখ্যা করেন। তাদের ব্যাখ্যার মাধ্যমে জানা যায়, সূর্যের উপরিভাগ্নে তাপমাত্রা প্রায় ৫৭০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু কখনো কখনো কোথাও কোথাও এ তাপমাত্রা কমে যায়। ফলে কম উত্তপ্ত জায়গাগুলো কালো দেখায় যা সৌরকলঙ্ক নামে পরিচিত।
ছকের A চিহ্নিত স্থানটির স্থানীয় সময় সকাল ৭টা হলে B চিহ্নিত স্থানটির স্থানীয় সময় কত হবে?
ছকের এ চিহ্নিত স্থানটির দ্রাঘিমা ১০৫° পশ্চিম এবং ছকের B চিহ্নিত স্থানটির দ্রাঘিমা ৫৬° পশ্চিম। উক্ত স্থান দুটির দ্রাঘিমার পার্থক্য হলো ১০৫°-৫৬°= ৪৯°। প্রতি ১০ দ্রাঘিমার পার্থক্যের কারণে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট। অতএব ৪৯° দ্রাঘিমার ব্যবধানের জন্য সময়ের
পার্থক্য হবে মিনিট।
১৯৬ মিনিট = ৩ ঘণ্টা ১৬ মিনিট
A চিহ্নিত স্থান ও B চিহ্নিত স্থান উভয়টিই পশ্চিম দ্রাঘিমায় অবস্থিত তবে এখানে ও স্থানটির দ্রাঘিমা স্থানের চেয়ে কম হওয়ায় ৪ স্থানটি A স্থানের পূর্বে অবস্থিত, তাই ৪ স্থানের সময় বেশি হবে।
A থেকে B চিহ্নিত স্থানটির সময়ের পার্থক্য হলো ৩ ঘণ্টা ১৬ মিনিট।
ছকে A স্থানের সময় দেওয়া আছে সকাল ৭টা।
B চিহ্নিত স্থানটির স্থানীয় সময় হবে সকাল ৭টা ৩ ঘণ্টা ১৬ মিনিট সকাল ১০টা ১৬ মিনিট
সুতরাং, ৪ স্থানের স্থানীয় সময় হবে সকাল ১০টা ১৬ মিনিট।

