- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
'চিত্র 'খ'-এ প্রদর্শিত বৈষম্যের কারণেই ছয় দা দাবি তোলা হয়েছিল' তুমি কি এ বক্তব্যের সাথে একমত? তোমার উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি দাও।
উদ্দীপকের চিত্র 'খ' এ প্রদর্শিত বৈষমাটি হলো অর্থনৈতিক বৈষম্য। শুধুমাত্র অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণেই ছ্যা দফা দাবি তোলা হয়েছিল- আমি এ বক্তব্যের সাথে পুরাপুরি একমত নই।
পাকিস্তান সরকারের বৈষম্যমূলক নীতির কারণে পূর্ব বাংলার চেয়ে পশ্চিম পাকিস্তান অনেক বেশি অর্থনৈতিক সুবিধা লাভ করেছিল। পূর্ব বাংলার পাট, চা, চামড়া প্রভৃতি বিদেশে রপ্তানি করে যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হতো, তার সিংহভাগ পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে ব্যয় হতো। ফলে ব্যবসায় বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন, কৃষিসহ অর্থনীতির সকল ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তানের চাইতে কয়েকগুণ পিছিয়ে পড়ে। এ বিবেচনায় ছয় দফা দাবির অন্যতম প্রেক্ষাপট ঐ হিসেবে অর্থনৈতিক বৈষম্যকে বিবেচনা করা যায়।
ছয় দফা দাবির বেশির ভাগ দাবি অর্থনৈতিক বৈষম্যকে কেন্দ্র করে রচিত হলেও এটিকেই একমাত্র কারণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। কেননা, ছয় দফার প্রথম দফাতে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় সংসদীয় পদ্ধতির সরকার গঠনের কথা বলা হয়েছে, যা রাজনৈতিক বৈষমোর প্রতিফলন। আবার দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতা বণ্টনের যে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে, তা প্রশাসনিক বৈষম্যের ফল। অনুরূপভাবে যষ্ঠ দফায় প্রদেশগুলোতে আধা-সামরিক বা প্যারা মিলিশিয়া বাহিনী গঠনের দাবিটির মধ্য দিয়ে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্যের বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
পরিশেষে বলা যায়, চিত্র 'খ' এ প্রদর্শিত বৈষম্য অর্থাৎ অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণেই ছয় দফা দাবি তোলা হয়েছিল- এ বক্তব্যটি পুরাপুরি, সঠিক নয়। আমি সংগত কারণে এ বিষয়টির সাথে দ্বিমত পোষণ করছি।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
কত সালে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়?
১৯৫৩ সালে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
বাংলাদেশের জাতীয় চেতনা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ বলতে কী বোঝায়?
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আমাদের মধ্যে যে জাতীয় চেতনার জন্ম হয়, তাই বাংলাদেশের জাতীয় চেতনা। আর বাংলা ভাষা-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বাঙালির জাতিগত পরিচয়ে যে জাতীয় ঐকা গঠিত হয়, তাই বাঙালি জাতীয়তাবাদ। বাংলাদেশের জাতীয় ও চেতনা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ, পরবর্তী সময়ে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলা ভাষা-সাহিতা, ইতিহাস-ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বাঙালির জাতিগত পরিচয়ে যে জাতীয় ঐক্য গড়ে ওঠে, সে জাতীয় ঐকাকে বলা হয় বাঙালি জাতীয়তাবাদ। মূলত ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আমাদের মধ্যে যে জাতীয় চেতনার জন্ম হয়, তাই বাঙালি জাতীয়তাবাদ। বাঙালি জাতীয়তাবাদ হচ্ছে বাঙালি জাতির ঐক্যের প্রতীক।
ছয় দফার কোন দাবি চিত্র 'ক' এ প্রদর্শিত তর্যের আলোকে উত্থাপিত হয়েছিল তা ব্যাখ্যা কর।
ছয় দফার আধা-সামরিক বাহিনী গঠনের দাবিটি চিত্র 'ক'-এ প্রদর্শিত তথ্যের আলোকে উত্থাপিত হয়েছিল।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভের পর প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর স্থল, নৌ ও বিমানবাহিনীতে বাঙালিদের নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে চরম বৈষমা বিরাজ করছিল। মোট অফিসারের মাত্র ৫%, সাধারণ সৈনিকদের মাত্র ৪%, নৌবাহিনীর উচ্চপদে ১৯%, নিম্নপদে ৯%, বিমানবাহিনীর পাইলটদের, ১১% এবং টেকনিশিয়ানদের ১.৭% ছিল বাঙালি। অধিকন্তু আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো নিয়মিত ও প্রশিক্ষিত বাহিনী না থাকায় পূর্ব পাকিস্তান সম্পূর্ণরূপে অরক্ষিত ছিল। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ এ বিষয়টি পভীরভাবে উপলব্ধি করে।
উদ্দীপকের 'ক' এ প্রদর্শিত তথ্যে মূলত প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের বৈষম্যের চিত্রটিই ফুটে উঠেছে। যার ফলশ্রুতিতে আঞ্চলিক নিরাপত্তাও ছিল হুমকির মুখে। এ উপলব্ধি থেকে শেখ মুজিবুর রহমান তার ছয় দফা দাবিনামায় আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টি উত্থাপন করে।
এতে বলা হয়, "আঞ্চলিক সংহতি রক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থায় যথাযথ ভূমিকা পালনের জন্য অঙ্গরাজ্যগুলোকে তাদের নিজস্ব কর্তৃত্বাধীনে আধা-সামরিক বাহিনী বা আত্মালিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা দিতে হবে।" অতএব বিব্যাটি স্পষ্ট যে, ছয় দফার আধা-সামরিক বাহিনী গঠনের দাবিটি চিত্র 'ক' এ প্রদর্শিত তথ্যের আলোকে উত্থাপিত হয়েছিল।

