- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
ঘটনা | সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি |
X | আবদুল মতিন |
কাজী গোলাম মাহবুব | |
Y | ইস্কান্দার মীর্জা |
আইয়ুব খান | |
Z | ড. শামসুজ্জোহা |
আসাদুজ্জামান আসাদ |
যুক্তফ্রন্টের শিক্ষাসংক্রান্ত দফাটি লেখ।
যুক্তফ্রন্টের শিক্ষাসংক্রান্ত দফাটি হলো- "অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন করা। শিক্ষকদের ন্যায়সংগত বেতন ও ভাতার ব্যবস্থা করা।"
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
৬-দফার উল্লিখিত রাজস্বসংক্রান্ত প্রস্তাবটি ব্যাখ্যা কর।
৬ দফার রাজস্বসংক্রান্ত প্রস্তাবটি ছিল নিম্নরূপ- "সকল প্রকার কর ধার্য করার ক্ষমতা থাকবে আঞ্চলিক সরকারের হাতে, আঞ্চলিক সরকারের আদায়কৃত রাজস্বের একটি নির্দিষ্ট অংশ কেন্দ্রীয় সরকারকে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।" অর্থাৎ ফেডারেল বা যুক্তরাষ্ট্রীয় পদ্ধতির সরকারব্যবস্থায় সকল প্রকার রাজস্ব সংগ্রহের দায়িত্ব থাকবে আঞ্চলিক বা প্রাদেশিক সরকারের হাতে এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা বিষয়াদি তদারকি ও সরকার পরিচালনার নিমিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব প্রাদেশিক সরকার কর্তৃক দেওয়া হবে।
ঘটনা Y দ্বারা কোন ঐতিহাসিক বিষয়কে নির্দেশ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকের 'ঘটনা-Y' দ্বারা নির্দেশ করা হয়েছে পাকিস্তানের সামরিক শাসনপর্বকে।
বস্তুত ১৯৫৮ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ অন্তঃকোন্দলকে ইসা করে ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা সামরিক শাসন জারি করেন। ১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর ইস্কান্দার মির্জাকে উৎখাত করে জেনারেল আইয়ুব খান ক্ষমতা হস্তগত করেন। এরপর ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৯ দীর্ঘ ১১ বছর তিনি সেনাশাসনের র্যাঁতাকলে পাকিস্তানের রাজনীতিকে পিষ্ট করে দেন এবং সামরিক শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী করতে তিনি ১৯৬০ সালে মৌলিক গণতন্ত্র নামে অভিনব এক গণতন্ত্র চালু করেন। এ গণতন্ত্রের অধীনে ১৯৬৫ সালে ৮০ হাজার কাউন্সিল সদস্যের ভোটে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন এবং সর্বোপরি, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১১ বছরের আইয়ুব সরকারের স্বৈরশাসনের পতন ঘটে। উদ্দীপকের 'Y' দ্বারা চিহ্নিত অংশে ইস্কান্দার মির্জা ও আইয়ুব খানের উল্লেখ রয়েছে। যারা পাকিস্তান আমলের সামাজিক শাসক হিসেবে পরিচিত।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের 'ঘটনা-Y' দ্বারা পাকিস্তানের ঐতিহাসিক সামরিক শাসনপর্বকেই নির্দেশ করা হয়েছে।
'স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেরণাদায়ক শক্তি হিসেবে X ও Z ঘটনার তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর?
উদ্দীপকের 'X' এবং 'Z' ঘটনা দুটি হলো যথাক্রমে ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেরণাদায়ক শক্তি হিসেবে ঘটনা দুটির তাৎপর্য অত্যধিক।
১. ভাষা আন্দোলন: ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতির জীবনে একটি অবিস্মরণীয় সংগ্রামী বিজয়ের নাম। এ সংগ্রামের অন্যতম দুই সৈনিক ছিলেন আবদুল মতিন এবং কাজী গোলাম মাহবুব। ভাষা আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে তাদের নেতৃত্বেই সংগ্রাম পরিষদ গড়ে উঠেছিল এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে ভাষা আন্দোলনের' নেতৃত্ব তারাই দিয়েছিলেন। ঐতিহাসিক এ ভাষা আন্দোলনের বিজয় ও তার সুদূরপ্রসারী তাৎপর্য হিসেবে বাঙালি জাতি মুক্তির অনুপ্রেরণায় মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।
২. ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান মহান মুক্তিযুদ্ধকে পিছন থেকে ত্বরান্বিত করেছিল এরূপ অপার একটি প্রভাব বিস্তারকারী সংগ্রাম ছিল ঐতিহাসিক ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান। এ. অভ্যুত্থানে ঘৈর শাসক আইয়ুব সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তর, ইয়াহিয়া খান কর্তৃক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি, সর্বোপরি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন, বাঙালিদের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা প্রভৃতি ঘটনাক্রমের ধারাবাহিকতায় পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল।
সুতরাং মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেরণাদায়ক শক্তি হিসেবে উদ্দীপকের ঘটনাদ্বয়ের ভূমিকা যে অধিক তাৎপর্যপূর্ণ তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়।

