- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
ঘটনা-১: বিদ্যালয়ে 'স্বাধীনতা দিবস' উদ্যাপনের দিন কালাম স্যার বক্তৃতা দিতে যেয়ে বলেন, পল্লশের দশকে পূর্ব বাংলায় একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চারটি দল সম্মিলিতভাবে অংশগ্রহণ করে।
ঘটনা-২: জনাব মামুন ১৬ ডিসেম্বর তারিখের দৈনিক পত্রিকা পড়ে জানতে পারেন যে, পূর্ব বাংলায় এক ব্যক্তির এক ভোটের ভিত্তিতে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে পূর্ব বাংলায় প্রধান রাজনৈতিক দল বিপুল ভোটে বিজয় অর্জন করে।
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান কী?
ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা ও ছাত্রসমাজের ১১ দফার প্রেক্ষিতে পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ১৯৬৯ সালে যে অভ্যুত্থান ঘটেছিল ডাকে তাই ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রভাব কি?
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফলে পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এর পূর্বে তিনি 'ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা' তুলে নেন। জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নতুন সামরিক সরকার বাধ্য হয় ১৯৭০ সালে পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন দিতে। এর মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনার বিকাশ ঘটে। ১৯৭০-এর নির্বাচন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের ব্যাপক প্রভাব ছিল।
ঘটনা-১-এর নির্বাচনের সাথে পাকিস্তান আমলের কোন নির্বাচনের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকের ঘটনা-১ এর নির্বাচনের সাথে পাকিস্তান আমলের ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের সাদৃশ্য রয়েছে।
পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির কয়েক বছরের মধ্যেই ক্ষমতাসীন, মুসলিম লীগ অভ্যন্তরীণ কোন্দল, ব্যর্থ শাসন, অঞ্চলভেদে বৈষম্যমূলক নীতি ইত্যাদি কারণে জনগণ থেকে ক্রমেই দূরে সরে যায়। ফলে নতুন নতুন রাজনৈতিক দল গঠিত হয়। ১৯৪৯ সালের ২৩-২৪ জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে 'পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ' নামে দল গঠিত হয়। আওয়ামী মুসলিম লীগের নেতৃত্বে সদ্য প্রতিষ্ঠিত দলগুলো জোট করে। উদ্দেশ্য ছিল মুসলিম লীগকে পরাজিত করা, যা যুক্তফ্রন্ট নামে পরিচিত। পাঁচটি বিরোধী দল-১. আওয়ামী মুসলিম লীগ, ২. কৃষক-শ্রমিক পার্টি, ৩. নেজামে ইসলামী পার্টি, ৪. গণতন্ত্রী দল ও ৫. খিলাফত-ই-রাব্বানি দল নিয়ে গঠিত হয় এই জোট। যুক্তফ্রন্ট ২১ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করে নৌকা প্রতীক নির্বাচন করে। ৩০৯টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আমন লাভ করে পূর্ব বাংলায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। মুসলিম লীগের অন্যায়, বৈষম্যমূলক ও ব্যর্থ শাসনের বিরুদ্ধে ১৯৫৪ সালের এ নির্বাচন ছিল পূর্ব বাংলার জনগণের ব্যালট বিপ্লব।
আমরা উদ্দীপকে দেখতে পাই, বিদ্যালয়ে 'স্বাধীনতা দিবস' উদযাপনের দিন কালাম স্যার বক্তৃতা দিতে যেয়ে বলেন, পঞ্চাশের দশকে পূর্ব বাংলার একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চারটি দল সম্মিলিতভাবে অংশগ্রহণ করে। যা ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
অতএব বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত নির্বাচনের সাথে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের সাদৃশ্য রয়েছে।
বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পিছনে ঘটনা-২-এর নির্বাচনের প্রভাব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল- বিশ্লেষণ কর।
দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লিখিত ঘটনাটি ছিল ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের সাধারণ পরিষদের নির্বাচন। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পিছনে ১৯৭০ সালের নির্বাচনের প্রভাব ছিল অপরিসীম।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭০ সালের পূর্বে কোনো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। অবশেষে ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর সর্বপ্রথম 'এক ব্যক্তি এক ভোটের ভিত্তিতে' সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। ফলে ৬ দফা ও ১১ দফার প্রতি জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের সরকার ও স্বার্থান্বেষী মহলের জন্য এটি ছিল বিরাট পরাজয়। তারা বাঙালির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিরোধিতা ও ষড়যন্ত্র করতে থাকে। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ পশ্চিম পাকিস্তানের কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে অবস্থান গ্রহণ করে। ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের পিছনে নির্বাচনের অপরিসীম গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এ নির্বাচন বাঙালি জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রাকে মুক্তিযুদ্ধের চরিত্রদানে বিশাল ভূমিকা রাখে। পরিণতিতে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।
উপরিউক্ত আলোচনার আলোকে প্রতীয়মান হয় যে, ঘটনা-২ এ উল্লিখিত ঘটনাটি ছিল ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন এবং এ গুরুত্ব বিবেচনায় এ নির্বাচনকে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা যুক্তিসংগত।

