• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)
পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

দৃশ্যপট-১: দশম শ্রেণির ছাত্রী রীমা টিভিতে নাটক দেখছিল। নাটকে একটি মেডিকেল কলেজের দিক থেকে সরকারি নিষেধাজ্ঞা ভল করে একটি মিছিল এগিয়ে আসতে দেখা যায়, হঠাৎ পুলিশ মিছিলের ওপর আক্রমণ চালায়। এতে বেশ কয়েকজন হতাহত হয়।

দৃশ্যপট-২: রীমার দাদা রীমাকে একটি নির্বাচনের কথা বলেন। নির্বাচনটিতে একটি দল বিপুল ভোটে জয়লাভ করার পরও ক্ষমতাসীন সরকার দলটির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে টালবাহানা শুরু করে।

রীমার দেখা নাটকের ঘটনাটি তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন ঘটনাকে ইঙ্গিত করছে? ব্যাখ্যা কর।

উদ্দীপকের রীমার দেখা নাটকের ঘটনাটি আমার পাঠ্যপুস্তকের ভাষা আন্দোলনকে ইঙ্গিত করছে।

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র জন্মলাভের পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালির মায়ের ভাষা নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করে। আর তখন থেকেই শুরু হয় আন্দোলন। আন্দোলনের একপর্যায়ে ১৯৫২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সরকারি এক ঘোষণায় ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪৪ ধারী জারি করা হয়।

আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ১০ জন করে মিছিল বের করার সিদ্ধান্ত হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজের দিক থেকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল এগিয়ে চলে। পুলিশ প্রথমে কয়েকজনকে গ্রেফতার করে, মিছিলে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে পুলিশ গুলিবর্ষণ করলে আবুল বরকত, জব্বার, রফিক, সালামসহ আরও অনেকে শহিদ হন এবং অনেকে আহত হন। এ সময় ভাষা আন্দোলন চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে। বাঙালি জাতি মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার লাভ করে।

উদ্দীপকে দেখা যায় যে, রীমা একটি নাটক দেখছিল, যেখানে মেডিকেল কলেজের দিক থেকে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একটি মিছিল এগিয়ে আসে। সেই মিছিলে আবার পুলিশ আক্রমণ চালালে বেশ কয়েকজন হতাহত হয়। উক্ত মিছিলের প্রকৃতি, গতিপথ ও পরিণতির সাথে ভাষা আন্দোলনের সম্পূর্ণ সাদৃশ্যতা রয়েছে। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের ঘটনায় কার্যত ভাষা আন্দোলনের ঘটনাই ইঙ্গিত রয়েছে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()