- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
দৃশ্যপট-১: দশম শ্রেণির ছাত্রী রীমা টিভিতে নাটক দেখছিল। নাটকে একটি মেডিকেল কলেজের দিক থেকে সরকারি নিষেধাজ্ঞা ভল করে একটি মিছিল এগিয়ে আসতে দেখা যায়, হঠাৎ পুলিশ মিছিলের ওপর আক্রমণ চালায়। এতে বেশ কয়েকজন হতাহত হয়।
দৃশ্যপট-২: রীমার দাদা রীমাকে একটি নির্বাচনের কথা বলেন। নির্বাচনটিতে একটি দল বিপুল ভোটে জয়লাভ করার পরও ক্ষমতাসীন সরকার দলটির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে টালবাহানা শুরু করে।
দৃশ্যপট-২-এর "নির্বাচন পরবর্তী জনগণের স্বাধীনতা সংগ্রামের। চেতনাকে আরও বেগবান করেছিল।"- বিশ্লেষণ কর।
দৃশ্যপট-২ নির্বাচন তথা ১৯৭০ সালের নির্বাচন পরবর্তীতে জনগণের স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনাকে আরও বেগবান করেছিল। বক্তব্যটি যথার্থ।
উদ্দীপকের রীমার দাদার বর্ণিত নির্বাচনের বৈশিষ্ট্য অভিন্ন হওয়ায় সুস্পষ্টভাবে বলা যায় যে, উদ্দীপকে ইঙ্গিতপূর্ণ নির্বাচনটি হলো ১৯৭০ সালের নির্বাচন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে জয়লাভ করার পরেও পাকিস্তানের তৎকালীন সরকার ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে।
১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় এবং প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। ফলে ৬ দফা ও ১১ দফার প্রতি জনগণের অকুন্ঠ সমর্থনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। বাঙালি জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক বিজয় ঘটে।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের সরকার ও স্বার্থান্বেষী মহলের জন্য এটি ছিল বিরাট পরাজয়। তারা বাঙালির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিরোধিতা এবং ষড়যন্ত্র আঁটতে থাকে। পূর্ব বাংলার জনগণ পশ্চিম পাকিস্তানের কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে অবস্থান গ্রহণ করে। ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের পিছনে এ নির্বাচনের অপরিসীম গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এ নির্বাচন বাঙালি জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রাকে মুক্তিযুদ্ধের চরিত্রদানে বিশাল ভূমিকা রাখে। পরিণতিতে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।
অতএব, ১৯৭০ সালের নির্বাচন পরবর্তী ফলাফল ও এর প্রভাব যে বাংলাদেশি জনগণের স্বাধীনতা সংগ্রামকে অবশ্যম্ভাবী করে তুলেছিল, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আর তাই বলা যায় যে, ১৯৭০ সালের নির্বাচন বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রায়ের চেতনাকে আরও বেগবান করেছিল।

