- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
১৯৬১ সালের আসামের শিলচর শহরে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার দাবির আন্দোলনে এক তরুণীসহ ১১ জন নিহত হয়। তাদের আন্দোলনের দরুন বাংলা ভাষা শুধু আসামেই নয় পশ্চিমবঙ্গেরও প্রধান ভাষা এবং ভারতবর্ষের প্রধান ৫টি ভাষার একটি হিসেবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পায়।
যুক্তফ্রন্টের বিজয়কে 'ব্যালট বিপ্লব' বলে আখ্যায়িত করা হয় কেন?
১৯৫৪ সালের নির্বানে যুক্তফ্রন্ট একচেটিয়া ভোট পেয়ে বিজয় অর্জন করে। এ কারণে এটিকে 'ব্যালট বিপ্লব' বলা হয়। প্রাদেশিক আইনসভা নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে ২২৩টি আসনেই বিজয় লাভ করে। আর ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ মাত্র ৯টি আসন লাভ করে। মুসলিম লীগের কুশাসন ও শোষণে জর্জরিত পূর্ব বাংলার জনগণের পুঞ্জীভূত বেদনা ও আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ ছিল যুক্তফ্রন্টের এ বিশাল বিজয়। এ কারণেই যুক্তফ্রন্টের বিজয়কে 'ব্যালট বিপ্লব' বলে আখ্যায়িত করা হয়।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
'স্মৃতির মিনার' কবিতাটি রচনা করেন কে?
'স্মৃতির মিনার' কবিতাটি রচনা করেন কবি আলাউদ্দিন আল-আজাদ।
আসামের মতো বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া আন্দোলনটির পটভূমি ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকে ছক-১-এ ভাষা আন্দোলনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ভাষা আন্দোলন পশ্চিম পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক বৈষম্যের পটভূমিতে সংঘটিত হয়।
১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়। পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভাষা, সংস্কৃতি কোনো কিছুরই মিল ছিল না। ফলে পাকিস্তান নামক এ নতুন রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী প্রথমেই বাঙালিকে শোষণ করার কৌশল হিসেবে বাংলা ভাষার ওপর আঘাত হানে। ১৯৪৮ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে ইংরেজির পাশাপাশি উর্দুতে কার্যক্রম শুরু হলে পূর্ব বাংলার কংগ্রেস পার্টির সদস্য কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত এর প্রতিবাদ করেন এবং বাংলাকেও অধিবেশনের অন্যতম ভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। কিন্তু মুসলিম লীগের সকল সদস্য এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। এ ঘটনায় পূর্ব বাংলার ছাত্রসমাজ ব্যাপক প্রতিবাদ করতে থাকে। ছাত্ররা ২৬ ও ২৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮ সালে ছাত্র ধর্মঘট পালন করে এবং ২ মার্চ রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এবং ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা 'উপস্থিত ছাত্ররা তীব্র প্রতিবাদে না না ধ্বনি দিয়ে ওঠে। এসময় সারা পূর্ব পাকিস্তানেই ভাষা আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৪৮ সালের ১৮ নভেম্বর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান এবং ১৯৫২ সালে খাজা নাজিমুদ্দীনের বক্তব্যে জিল্লাহর কথার প্রতিধ্বনি হলে ভাষা আন্দোলন নতুন মাত্রা ও সর্বাত্মক রূপ লাভ করে।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের ছক-১ এ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি জাগ্রত করা হয়েছে। যার পটভূমি ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক বৈষম্য।
'উদ্দীপকের ঘটনাটির মতো বাংলাদেশে ঘটিত আন্দোলনই ছিল বাঙালির মুক্তির প্রথম আন্দোলন'- বিশ্লেষণ কর।
উদ্দীপকের ঘটনাটির মতো বাংলাদেশে সংঘটিত আন্দোলনটি হচ্ছে ভাষা আন্দোলন; যা বাঙালি জাতির মুক্তির প্রথম আন্দোলন হিসেবে বিবেচিত।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালি জাতিকে সুনজরে দেখেনি। বাঙালি জাতির ওপর আধিপত্য বিস্তারের বিশেষ পাঁয়তারা চলছিল। তারা চেয়েছিল বাঙালি জাতির ভাষা ও সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দিতে। ফলে পূর্ব বাংলায় সুসংগঠিত আন্দোলন শুরু হয়। এমতাবস্থায় ১৯৪৮ সালে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলা ভাষাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন করেন। পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত নেয়। একপর্যায়ে শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার জোর প্রচেষ্টা চালায়। কিন্তু গণবিস্ফোরণের কাছে শাসকগোষ্ঠী মাথানত করতে বাধ্য হয়। তারা বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষারূপে মেনে নিতে বাধ্য হয়। অবশেষে ১৯৫৬ সালের পাকিস্তানের প্রথম সংবিধানে বাংলাকে উর্দুর পাশাপাশি রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
উপরিউক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনাটির মতো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতির প্রথম মুক্তি আন্দোলন। কারণ এ আন্দোলনের পথ ধরে পরবর্তী রাজনৈতিক আন্দোলনগুলো সংঘটিত হয় এবং বাঙালি জাতি স্বাধীনতা যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়।

