- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
একটি দেশের দুটি অঞ্চলের মধ্যে 'E' নামক অঞ্চলটি সম্পূর্ণ অরক্ষিত ছিল। এটিকে সুরক্ষার জন্য ঐ অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য নেতা কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের নিকট কিছু অধিকার আদায়ের দাবি উত্থাপন করেন। যা ‘E' অঞ্চলের জনগণের সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিল।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'E' অঞ্চলের জনগণের অধিকার আদায়ের দাবি উত্থাপনের পটভূমি ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'E' অথলের জনগণের অধিকার আদায়ের দাবিটির সাথে সামঞ্জস্য রয়েছে ১৯৬৬ সালের ৬ দফা দাবির আন্দোলনের। এ দাবি উত্থাপনের পটভূমি হিসেবে প্রাধান্য পেতে পারে ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধ।
১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের সময় পূর্ববঙ্গ বা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ ছিল সম্পূর্ণ অরক্ষিত। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এ অঞ্চলের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার কোনো গুরুত্ব ছিল না। সম্পূর্ণভাবে ভারতের দয়ার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল পূর্ব বাংলাকে। উপরোক্ত ঘটনাবলি এবং আইয়ুব খানের নির্যাতন-নিপীড়নের পটভূমিতে শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলীয় সম্মেলনে ৬ দফা দাবি উপস্থাপন করেন।
সুতরাং বলা যায়, শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত ছয় দফা দাবির মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ নিজেদের সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার জন্য স্বায়ত্তশাসনের গুরুত্ব নতুনভাবে উপলব্ধি করেছিল।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
মৌলিক গণতন্ত্র কী?
প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান নিজের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে যে পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি চালু করেন, তাকে মৌলিক গণতন্ত্র বলে।
'যুক্তফ্রন্ট' কেন গঠিত হয়েছিল? ব্যাখ্যা কর।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর মুসলিম লীগ শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তারা নির্বাচনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার গঠনের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এছাড়া প্রাদেশিক সরকার নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের টালবাহানা পূর্ব বাংলার জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে শাসক দল মুসলিম লীগের শোচনীয় পরাজয় ঘটানোর লক্ষ্যে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর সমমনা পাঁচটি দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন করা হয়।
‘E' অঞ্চলের স্বাধীনতার পক্ষে উক্ত দাবিসমূহ বিশেষ ভূমিকা রেখেছে"-বিশ্লেষণ কর।
হ্যাঁ, 'E' অঞ্চলের অর্থাৎ বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে ৬ দফা দাবিসমূহ বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিল।
বস্তুত ৬ দফা ছিল পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিকসহ সকল অধিকারের কথা তুলে ধরে। এ কর্মসূচি বাঙালির জাতীয় চেতনার মূলে বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে প্রত্যক্ষভাবে স্বাধীনতার কথা বলা না হলেও এ কর্মসূচি বাঙালিদেরকে স্বাধীনতার মন্ত্রে গভীরভাবে উজ্জীবিত করে। ৬ দফা কর্মসূচি ঘোষণার পর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী এটিকে বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মসূচি হিসেবে অবিহিত করে পাকিস্তান সরকার ৬ দফা গ্রহণ না করে, দমনপীড়ন শুরু করলে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য স্বাধীনতার পথা খোঁজা অনিবার্য হয়ে ওঠে। তার ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলের মানুষ তার ভূখণ্ডকে স্বাধীন বাংলাদেশ নামে আত্মপ্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়। জন্ম হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের।
সুতরাং উদ্দীপকের 'E' অঞ্চলের স্বাধীনতার পক্ষে ১৯৬৬ সালের ৬ দফা দাবিসমূহ, যে বিশেষ সনদ ভূমিকা পালন করেছিল তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়।

