• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)
পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

জিহাদের দাদা আবুল হোসেন দেশের গল্প শোনাতে গিয়ে জিহাদকে একটি আন্দোলনের বর্ণনা দিলেন, যা ৪০-এর দশকে শুরু হয়ে ৫০-এর দশকে শেষ হয় এবং এ আন্দোলনে অনেক ছাত্র-জনতা শহিদ হয়। দাদার দেওয়া একটি বই পড়ে জিহাদ আরও জানতে পারল, এ দেশের একজন নেতা জনগণের অধিকার আদায়ে শাসকগোষ্ঠীর কাছে তার অঞ্চলের জন্য মুদ্রা, প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ ভোটাধিকারের দাবি পেশ করেন।

উদ্দীপকে জিহাদের দাদা যে আন্দোলনের কথা শোনালেন তা ব্যাখ্যা কর।

উদ্দীপকে জিহাদের দাদা তাকে শুনিয়েছেন ১৯৫২ সালে সংঘটিত মহান ভাষ্য আন্দোলনের কথা।

বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাস প্রথম প্রধান ঘটনাটি হলো ১৯৫২ যালের ভাষা আন্দোলন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রটির জন্মের আগেই নবগঠিত এ রাষ্ট্রটির ভাষা প্রশ্নে বিতর্ক শুরু হয়। মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাবটি প্রথম উত্থাপিত হয়েছিল ১৯৩৭ সালে। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এ প্রস্তাবটি করলে বাঙালি নেতা শেরে বাংলা এ. কে ফজলুল হক এর প্রথম বিরোধিতা করেন। ১৯৪৭-১৯৫২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ পাঁচ বছর 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু এ বিতর্ক চলে। ঘটনার ধারাবাহিক পরিক্রমায় ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদাদানে প্রত্যয়ী ছাত্র জনতার। মিছিলের ওপর পাকিস্তানের অবিবেচক দ্বৈরশাসকের নির্দেশে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে একে একে লুটিয়ে পড়ে রফিক, শফিক, জব্বার, বরকত, সালামসহ নাম না জানা অনেকে। ছাত্র হত্যার এ প্রতিবাদে ক্রমে সারাদেশ উত্তাল হয়ে ওঠে। অতঃপর পাকিস্তান সরকার ১৯৫৪ সালের গণপরিষদ ও ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দানে বাধ্য হয়।

উদ্দীপকে জিহাদের সাদা এমন একটি আন্দোলনের বর্ণনা করেন, যেটি ৪০-এর দশকে শুরু হয়ে ৫০-এর দশকে শেষ হয়। এ আন্দোলনের অনেক ছাত্রজনতা শহিদ হয়, যা ভাষা আন্দোলনকে নির্দেশ করে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

পাকিস্তান সরকারকে কীভাবে আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয়?

আন্দোলনের মাধ্যমে পাকিস্তান সরকারকে আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয়। আগরতলা মামলা শুরু হওয়ার পর দেশব্যাপী তা প্রত্যাহারের জন্য আন্দোলন শুরু হয়। ছাত্র সমাজের ১১ দফার ভিত্তিতে কৃষক-শ্রমিক, ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গণআন্দোলনে রূপ লাভ করে। ৬ দফা ও ১১ দফার আন্দোলনের ফলে যে গণজাগরণ সৃষ্টি হয়, তারই ধারবাহিকতায় পাকিস্তানি স্বৈরশাসক বাধা হয় আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করে নিতে।

#

উদ্দীপকে বর্ণিত নেতার পেশকৃত দাবিনামা বাঙালির অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করে'- বিশ্লেষণ কর।

উদ্দীপকে বর্ণিত নেতার পেশকৃত দবিনামাটি ছিল ঐতিহাসিক ছয় দফা। ছয় দফা বাঙালির অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করে।

বাঙালির অগ্রযাত্রার ইতিহাসে ঐতিহাসিক ছয় দফার তাৎপর্য ছিল অত্যাধিক। কেননা, ছয় দফা ছিল পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিকসহ সকল অধিকারের দাবিসংবলিত ম্যাগনাকার্টা। এতে প্রত্যক্ষভাবে স্বাধীনতার কথা বলা না হলেও এ ৬ দফা কর্মসূচি বাঙালিদের স্বাধীনতার মন্ত্রে গভীরভাবে উজ্জীবিত করে। ৬টি দফা সংবলিত এ দাবিনামার ১ ও ২নং ছিল প্রশাসনিক, ৩.৪ ও ৫নং ছিল অর্থনৈতিক এবং সর্বশেষ ৬নং দাবিটি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বিষয়ে। এর প্রথম দাবিটিই ছিল বাঙালির স্বায়ত্তশাসনের। ঐতিহাসিক সনদটি প্রকাশিত হওয়ায় পর পাকিস্তান সরকার সেটিকে বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মসূচি আখ্যা দিয়ে বাঙালিকে দমনের সর্বপ্রকার ষড়যন্ত্র ও দমনপীড়নের আশ্রয় নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় বাঙালি ক্রমাগত অগ্রসর হয় স্বাধীনতার পথে এবং শেষপর্যন্ত অর্জিত হয় সে স্বাধীনতা।

সুতরাং উদ্দীপকে বর্ণিত ৬ দফা কর্মসূচিই যে বাঙালির অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করেছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়।

#

জাতীয়তাবাদ কী?

নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে নিজস্ব ভাষা, ইতিহাস, ধর্ম, সংস্কৃতি প্রভৃতির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ যে স্বাতন্ত্রবোধ তাই জাতীয়তাবাদ।