- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
দৃশ্যকল্প-১: 'X' এবং 'Y' দুজন একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করেন। তারা একই দেশের ভিন্ন দুটি অঞ্চলের বাসিন্দা। দেশের শাসনক্ষমতায় 'Y' এর অঞ্চলের প্রাধান্য রয়েছে। যে কারণে 'Y' যত সুযোগ পায় 'X' তত সুযোগ পায় না। এ ধরনের বৈষম্য 'x' কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না।
দৃশ্যকল্প-২: 'X' এর এলাকার নেতা ঐ বৈষম্যসমূহ দূর করার জন্য। বেশকিছু পরিকল্পনা করেন। তার পরিকল্পনাগুলো কোনো না কোনোভাবে শাসকগোষ্ঠীর নিকট পৌঁছে যায়। ফলে নেতাসহ অনেককে মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। এলাকার লোকজন। তীব্র প্রতিবাদ করলে শাসকগোষ্ঠী তাদের মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।
২১ দফার প্রথম দফাটি কী?
২১ দফার প্রথম দফাটি হলো- "বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা।"
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
'বিশ্বদরবারে আজ বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত'- ব্যাখ্যা কর।
মাতৃভাষা রক্ষা আন্দোলনে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি আবুল বরকত, জব্বার, রফিক, সালামসহ আরও অনেকে শহিদ হন। মাতৃভাষার জন্য এরূপ জীবনদান পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। এ কারণে জাতিসংঘের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইউনেস্কো বাংলাদেশের ২১শে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবসকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষাকে বিশ্বদরবারে এক অনন্য মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।
দৃশ্যকল্প-১ দ্বারা তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ধারণার ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
দৃশ্যকল্প-১ দ্বারা আমার পাঠ্যবইয়ের পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্যের ইঙ্গিত রয়েছে।
পাকিস্তান সৃষ্টির আগে পূর্ব বাংলা অর্থনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পশ্চিম পাকিস্তানের চেয়ে অগ্রসর ছিল। কিন্তু ১৯৪৭সালে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসনশোষণ প্রতিষ্ঠার ফলে পূর্ব পাকিস্তান দ্রুত পিছিয়ে যেতে থাকে। বৃদ্ধি পেতে থাকে দুই অঞ্চলের মধ্যকার -বৈষম্য। সে সময় পাকিস্তান সরকারের বৈষম্যমূলক নীতির কারণে পূর্ব পাকিস্তানের চেয়ে পশ্চিম পাকিস্তান অনেক বেশি অর্থনৈতিক সুবিধা লাভ করেছিল। পূর্ব বাংলার পাট, চা, চামড়া প্রভৃতি বিদেশে রপ্তানি করে যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হতো, তার সিংহভাগ পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে ব্যয় হতো। ফলে ব্যবসায় বাণিজ্য, শিল্প - উৎপাদন, কৃষিসহ অর্থনীতির সকল ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তানের তুলনায় অনেক পিছিয়ে ছিল। সে সময় প্রতিরক্ষা, শিক্ষ্য ও সামাজিক ক্ষেত্রেও বৈষম্য ছিল চরমে। এমতাবস্থায় পূর্ব বাংলার জনগণের প্রতি পাকিস্তান রাষ্ট্রের চরম বৈষম্যমূলক আচরণ ও অবহেলার বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম অনিবার্য হয়ে ওঠে।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ 'X' ও 'Y' এর অঞ্চল দুটির মধ্যেও একই চিত্র দেখতে পাই। যা আমাদের দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অনুরূপ। অতএব নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ দ্বারা পশ্চিম - পাকিস্তান কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্যের ধারণার ইঙ্গিত রয়েছে।
"দৃশ্যকল্প-২ এর ঘটনাটি পূর্ব বাংলার জনগণকে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রেরণা যুগিয়েছিল" বিশ্লেষণ কর।
দৃশ্যকল্প-২ এর ঘটনাটি অর্থাৎ ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা পূর্ব বাংলার জনগণকে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রেরণা যুগিয়েছিল- প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
পূর্ব বাংলার জনগণের প্রতি পাকিস্তান রাষ্ট্রের চরম বৈষম্যমূলক আচরণ ও অবহেলার কারণে শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা দাবি পেশ করেন। কিন্তু আইয়ুব সরকার একে 'বিচ্ছিন্নবাদী কর্মসূচি' হিসেবে আখ্যায়িত করে। এরপর পাকিস্তান সরকার ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা দায়ের করে এবং পূর্ব পাকিস্তানের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাসহ ৩৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এমতাবস্তায় মামলা প্রত্যাহারের জন্য আন্দোলন শুরু হয়। ছাত্রসমাজের ১১ দফার ভিত্তিতে কৃষক-শ্রমিক-ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গণআন্দোলনের রূপ লাভ করে। আন্দোলনের মুখে সরকার সকল আসামিকে মুক্তি দিতে। বাধ্য হন।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এর 'X' এর ঘটনাটি ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা ঘটনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বাংলার জনগণের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেরণা জোগাতে এ মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অতএব, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।

