- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
'ক' রাষ্ট্রের একটি প্রদেশের জনগণ পূর্ণ স্বায়ত্ত শাসনের আন্দোলন করে আসছে। তাই আগামী প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে ক্ষমতাশীল রাজনৈতিক দলের বিপক্ষে কয়েকটি দল জোটবন্ধ হয়ে। অংশ নিতে যাচ্ছে। সংবাদপত্রে এ ধরনের একটি সংবাদ পড়ে দশন শ্রেণির ছাত্রী লাভলী তার পাঠ্যবইয়ের পড়া একটি নির্বাচনের সাথে এ নির্বাচনের মিল খুঁজে পেল। সেই সাথে প্রত্যাশা করল এ নির্বাচনের পরিণতি যেন পাঠ্যপুস্তকের সেই নির্বাচনের মতো না হয়।
উক্ত নির্বাচন "বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে।"-উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
উক্ত নির্বাচন তথা ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি সুদৃঢ় করে- প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।
পশ্চিম 'পাকিস্তানি শাসকদের শাসন ও শোষণ থেকে মুক্তির জন্য বাঙালিরা ঐক্যবদ্ধ হয়। এ লক্ষ্যে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের শোচনীয় পরাজয় ঘটানোর লক্ষ্যে যুক্তফ্রন্ট পঠিত হয়। নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট পায় ২২৩টি শাসন, আর মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৯টি আসন। এ নির্বাচনের মাধ্যমেই বাঙালিরা মুসলিম লীগকে প্রত্যাখ্যান করে এবং নিজেদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার হয়ে ওঠে।
উদ্দীপকেও কয়েকটি দল জোটবন্ধ হয়ে নির্বাচন করে, যা ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনকে যুক্তফ্রন্টকে নির্দেশ করে।
নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয় বাঙালিদের মধ্যে জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটায়। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে। এছাড়া ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের পেছনে এ নির্বাচনের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। অর্থাৎ ১৯৫৪-এর নির্বাচন বাঙালি জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রাকে মুক্তিযুদ্ধের চরিত্রদানে বিশাল ভূমিকা রাখে এবং এরই প্রেক্ষাপটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করতে ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
মুক্তিযুদ্ধকালীন "চরমপত্র" কী?
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান হলো চরমপত্র।
মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাঙালিদের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।
মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাঙালিদের ভূমিকা ব্যাপক। প্রবাসী বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধে নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেন। বিভিন্ন দেশে তারা মুক্তিযুদ্ধের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছেন। বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন আদায়ে পার্লামেন্ট সদস্যদের নিকট ছুটে গিয়েছেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় প্রতিনিধি দল প্রেরণ করেছেন, পাকিস্তানকে অস্ত্রগোলাবারুদ সরবরাহ না করতে সরকারের নিকট আবেদন করেছেন। এক্ষেত্রে ব্রিটেনের প্রবাসী বাঙালিদের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখ্য। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনে তারা কাজ করেছেন।
লাভলী তার পড়া কোন নির্বাচনের সাথে দৃশ্যকল্পের নির্বাচনের মিল খুঁজে পেল? ব্যাখ্যা কর।
প্রেক্ষাপট-১ এ ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে।
পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর শাসক দল মুসলিম লীগ দীর্ঘদিন নির্বাচনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার গঠনের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। পরবর্তীতে পূর্ব বাংলায় প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হলে মুসলিম লীগের শোচনীয় পরাজয় ঘটানোর লক্ষ্যে ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর চারটি দলের সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন করা হয়। নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২১ দফা ঘোষণা করে। জনগণ যুক্তফ্রন্টের ২১ দফাকে তাদের স্বার্থরক্ষার সনদ বলে বিবেচনা করে। ফলে নির্বাচনে ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন পেয়ে সংগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
উদ্দীপকের প্রেক্ষাপট-১ এ দেখা যায়, 'ক' অঞ্চল 'খ' অঞ্চলের মানুষকে বিভিন্ন অধিকার থেকে বঞ্চিত করে রাখে। একপর্যায়ে একটি নির্বাচনে একটি বিশেষ দলকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করার জন্য কয়েকটি দল নিয়ে একটি জোট গঠন করে। নির্বাচনে এই জোট নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে। এসব বৈশিষ্ট্যে ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের যুক্তফ্রন্ট জোটকে নির্দেশ করে। তাই বলা যায়, প্রেক্ষাপট-১ দ্বারা ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে।

