- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
ভাষা আন্দোলনের পটভূমি ও তাৎপর্য
:
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
চীনের দক্ষিণ অংশে উইঘুর সম্প্রদায়ের বসবাস। তাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্ম আছে। প্রকাশ্যে তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড, না করার জন্য চীন সরকার একটি অধ্যাদেশ জারি করেছে। তাই উইঘুর সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব জাতীয়তা টিকিয়ে রাখার জন্য আন্দোলন শুরু করেছে।
উল্লিখিত উদ্দীপক অনুসারে পাকিস্তান আমলে বাংলাদেশে কোন আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল? সংক্ষেপে তার বর্ণনা দাও।
উদ্দীপক অনুসারে পাকিস্তান আমলে বাংলাদেশে ভাষা আন্দোলন সংঘটিত হওয়ার ঘটনাটি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা 'বাংলা না উর্দু এ নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের এক জনসভায় পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু ঘোষণা করলে উপস্থিত ছাত্র-জনতা তার প্রতিবাদ জানান। আবার বাঙালিরা তাদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাংলা ভাষায় পালন করলে পাকিস্তানিরা সেখানে হস্তক্ষেপ করে। গোঁড়া হিন্দুত্ববাদী হিসেবে পরিচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সকল গান, কবিতা পরিবেশন থেকে বাঙালিদের দূরে থাকার আদেশ দেয় পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। কিন্তু কিছু বাঙালি রবীন্দ্রনাথের গান, কবিতাগুলোকে নিজস্ব সংস্কৃতির অংশ হিসেবে মনে করত। তাই নিজেদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পুলিশের জারিকৃত ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করা - হয়। এর ফলে ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপ প্রকাশ পায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, চীনের উইঘুর সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের নিজস্ব ভাষা, ধর্ম ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড প্রকাশ করতে চাইলে চীন সরকার এসব কর্মকান্ড না করার জন্য একটি অধ্যাদেশ জারি করে। তাই উইঘুর সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব জাতীয়তা টিকিয়ে রাখার জন্য আন্দোলন শুরু করে, পাকিস্তান আমলে বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

