• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)
পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

জাতীয়তাবাদের উন্মেষ

:

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

নেপালের ছাত্র অনুপ চিকিৎসা বিজ্ঞানে পড়াশুনার জন্য ঢাকার মিটফোর্ড মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হয়। সে তার বন্ধুর সাথে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সামনে স্থাপিত একটি স্মৃতিস্তম্ভ দেখতে পায়। বাংলাদেশি বন্ধুর কাছ থেকে সে জানতে পারল স্তম্ভটি একটি ঐতিহাসিক আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত।

যুক্তফ্রন্ট সরকারকে কেন বাতিল করা হয়েছিল? ব্যাখ্যা কর।

পূর্ব বাংলার জনগোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষ থাকায় পাকিস্তান সরকার পূর্ব বাংলার যুক্তফ্রন্ট সরকারকে মনেপ্রাণে গ্রহণ করতে পারেনি। তাই তারা যড়যন্ত্রের পথ বেছে নেয়। পাকিস্তান সরকার আদমজী পাটকল ও কর্ণফুলি পাটকলে কর্মরত বাঙালি ও অবাঙালিদের মধ্যে ইন্ধন যুগিয়ে দাঙ্গা সৃষ্টি করে। আর এর দোষ চাপানো হয় যুক্তফ্রন্ট সরকারের ওপর এবং এরই পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বরখাস্ত করা হয়।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

কে দ্বিজাতি তত্ত্ব প্রবর্তন করেন?

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ দ্বিজাতি তত্ত্ব প্রবর্তন করেন।

#

উদ্দীপকে উল্লিখিত স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণের ঐতিহাসিক পটভূমি ব্যাখ্যা কর।

উদ্দীপকে উল্লিখিত ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে স্থাপিত স্মৃতিস্তপ্তটি শহিদ মিনার নামে পরিচিত। শহিদ মিনার নির্মাণের পটভূমিতে রয়েছে একটি বাঙালিদের আত্মত্যাগের এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। ভাষা আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী শহিদের স্মরণে এটি নির্মাণ করা হয়েছে।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশদের নাগপাশ থেকে মুক্তিলাভের পর পাকিস্তানের শাসনভার পশ্চিম পাকিস্তানের ধনীক শ্রেণির হাতে বেন্দ্রীভূত ছিল। পূর্ব বাংলার ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজ ব্যবস্থা পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী নিজেদের করায়ত্ত করতে শুরু করে এবং বৈষম্য সৃষ্টি করে। তারা উর্দুকে আমাদের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার জোর প্রচেস্টা চালায়। মাতৃভাষা বাংলাকে রক্ষা করার জন্য শুরু হয় ভাষা আন্দোলন। পাকিস্তানি শাসনপর্বে এটি ছিল বাঙালিদের জাতীয় মুক্তির প্রথম আন্দোলন। জাতীয় মুক্তির এ আন্দোলনের সূচনা হয় ১৯৪৭ সালে এবং পরিসমাপ্তি ঘটে ১৯৫২ সালে। ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে রাজপথে আন্দোলন করতে গিয়ে শহিদ হন আব্দুস সালাম, আবুল বরকত, আবদুল জব্বার, শফিউর রহমান, রফিকউদ্দিন আহমেদসহ আরও অনেকে। তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের মাতৃভাষার অধিকার ফিরে পাই। শহিদদের স্মৃতি অমর করে রাখার জন্য ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতা ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে একটি শহিদ মিনার নির্মাণ করে।

অতএব বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত স্মৃতিস্তপ্তটি হচ্ছে শহিদ মিনার। যা নির্মাণে রয়েছে ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগের এক গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহাসিক পটভূমি।

#

উক্ত স্মৃতিস্তম্ভের সাথে সম্পর্কিত' আন্দোলনটি বাঙালিদের জাতীয় মুক্তির প্রথম আন্দোলন- বিশ্লেষণ কর।

উদ্দীপকে উল্লিখিত স্মৃতিস্তম্ভের সাথে সম্পৃক্ত আন্দোলনটি অর্থাৎ ভাষা আন্দোলন বাঙালিদের জাতীয় মুক্তির প্রথম আন্দোলন- মন্তব্যটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

বাংলাদেশ ইংরেজদের শাসন থেকে মুক্ত হয়ে পূর্ব পাকিস্তান হিসেবে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তির ফলে এ অঞ্চলের মানুষ পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী দ্বারা যে শোষণ নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে ভাষা আন্দোলন ছিল প্রথম পদক্ষেপ।

লাহোর প্রস্তাবের পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের ! অধীনে রাখার ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকান্ডের ব্যাপারে জনগণ ছিল উদাসীন। কিন্তু ভাষা নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে জনগণের মোহভঙ্গ, ঘটে। পাকিস্তানি শাসকেরা রাষ্ট্রভাষা উর্দু করার কট্টর নীতি গ্রহণ করলে এদেশের ছাত্রজনতা প্রতিবাদ করে। ফলে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদের রক্তের বিনিময়ে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। বিষয়টি পরবর্তীতে এদেশের মানুষকে স্বাধীনতা আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করে।

পরিশেষে বলা যায়, ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে স্বাধীনতার প্রথম ধাপে পা রেখেছিল বাংলাদেশ। যার চূড়ান্ত সফলতা আসে স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে। অর্থাৎ, স্মৃতিস্তম্ভের সাথে জড়িত ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালিদের জাতীয় মুক্তির প্রথম আন্দোলন। যার চূড়ান্ত বিজয় ঘটেছে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।