- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
যুক্তফ্রন্ট গঠন ও নির্বাচন
:
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের ছাত্র তানভীর কবির বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক জোটগুলোর প্রশংসা করে ঐতিহাসিক জোট গঠনের শিক্ষা কাজে লাগানোর জন্য। তার মনে পড়ে যায় ভাষা আন্দোলনের পরের বছরই ২১ দফা প্রণয়ন করে। ৫টি দল নিয়ে একটি জোট গঠনের কথা ২১ দফাকে তাদের স্বার্থ রক্ষার সনদ বলে মনে করত জনগণ। উত্ত জোট নির্বাচনে জনগণের ব্যাপক সমর্থন লাভ করে।
"শহিদ সালাম, বরকত, জব্বার আমাদের প্রেরণা"- বুঝিয়ে বল।
১৯৫২ সালে মাতৃভাষা প্রতিষ্ঠার দাবিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের দিক থেকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করা হয়। পুলিশ প্রথমে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে, মিছিলে লাঠিচার্জ ও কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে পুলিশ গুলিবর্ষণ করলে আবুল বরকত, জব্বার, রফিক, সালামসহ আরও অনেকে শহিদ হন এবং অসংখ্য লোক আহত হন। ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বিশাল শোক র্যালি বের হয়। এখানে পুলিশের হামলায় শফিউর নামে একজনের মৃত্যু হয়। রাষ্ট্রভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠার দাবিতে তারা অকাতরে নিজেদের প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছেন। তাই বলা যায়, শহিদ সালাম, বরকত, জব্বার আমাদের প্রেরণা।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
'কবর' নাটকটি কে রচনা করেন?
কবর নাটকটি রচনা করেন ড. মুনীর চৌধুরী।
উদ্দীপকে কোন রাজনৈতিক জোট গঠনের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকে যুক্তফ্রন্ট নামক রাজনৈতিক জোটগঠনের কথা বলা হয়েছে।
পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে মুসলিম লীগের শোচনীয় - পরাজয় ঘটানোর লক্ষ্যে ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর আওয়ামী লীগ যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ২১ দফা প্রণয়ন শেষে ৫টি দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। দল ৪টি হলো- আওয়ামী লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দল এবং খেলাফতে রাব্বানি। ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে জনগণ যুক্তফ্রন্টের ২১ দফাকে তাদের স্বার্থরক্ষার সনদ বলে বিবেচনা করে।
উদ্দীপকে তানভীর কবির বর্তমান রাজনৈতিক জোটগুলোর সাথে ঐতিহাসিক যুক্তফ্রন্ট তথা রাজনৈতিক জোটের মধ্যে সাদৃশ্য লক্ষ করেন। বাংলাদেশে এখনও রাজনৈতিক জোট বিদ্যমান রয়েছে। তাই বলা যায়, যুক্তফ্রন্ট রাজনৈতিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উক্ত জোট নির্বাচনে প্রমাণ করে "জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস"-বিশ্লেষণ কর।
ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থই সঠিক বলে বিবেচিত হয়। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর শাসক দল মুসলিম লীগ দীর্ঘদিন নির্বাচনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার গঠনের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। মুসলিম লীগ বার বার পূর্ব বাংলার সাধারণ নির্বাচনের তারিখ পিছাতে থাকে। অবশেষে ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে পূর্ব বাংলায় সাধারণ নির্বাচনের কথা ঘোষণা করা হয়। ১৯৫৪ সালের সাধারণ মুসলিম লীগ মোকাবিলা করার জন্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো একটি যুক্তফ্রন্ট গঠন করে। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, শেরে - বাংলা এ. কে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দল এবং খেলাফতে রাব্বানি সমন্বয়ে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদের ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি, মুসলিম লীগ মাত্র ৯টি লাভ করে। বাকি আসন অন্যরা পায়। এ নির্বাচনে পূর্ব বাংলার জনগণ পাকিস্তানের রাষ্ট্র ক্ষমতায় পশ্চিম পাকিস্তানের কর্তৃত্ব ও প্রভাব থেকে মুক্ত হওয়ার রায় প্রদান করে। পূর্ব বাংলায় বাঙালিদের শাসন দেখতে তারা যে আগ্রহী সেটাই প্রকাশিত হয়। যুস্তফ্রন্ট প্রাদেশিক সরকার -গঠনের রায় লাভ করে। জনগণই যে 'সকল ক্ষমতার উৎস' যুক্তফ্রন্ট | নির্বাচন তাই প্রমাণ করে। জনগণ এ নির্বাচনে মুসলিম লীগকে প্রত্যাখ্যান -করে এবং পূর্ব বাংলায় মুসলিম লীগের শাসনের অবসান ঘটায়।

