- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
যুক্তফ্রন্ট সরকার
:
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
'ক' নামক দেশে একটি রাজনৈতিক জোটের অন্তর্ভুক্ত। কৃষক-শ্রমিক পার্টির নেতা মোঃ দস্তগির একসময় দেশটির মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মাত্র ৫৬ দিন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিল। মোঃ দস্তগির ছিল দেশটির পূর্ব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী; কেন্দ্রীয় সরকার এ সরকারকে মনেপ্রাণে গ্রহণ। করতে, পারেনি। তারা যড়যন্ত্রের পথ বেছে নেয় এবং একসময় এ সরকারকে বরখাস্ত করে কেন্দ্রীয় সরকার।
তুমি কি মনে কর, এ ধরনের সরকার ভেঙে যাওয়ার পরই সামরিক শাসন চালু করা হয়েছিল? মতামতের সপক্ষে যুক্তি দাও।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, এ ধরনের সরকার ভেঙে যাওয়ার পরই সামরিক শাসন চালু করা হয়েছিল।
পাকিস্তানে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে নস্যাৎ করার জন্য পশ্চিম পাকিস্তানভিত্তিক সামরিক-বেসামরিক শাসকগোষ্ঠী তৎপরতা চালিয়ে যেতে থাকে। ফলে সংসদ ও সরকার কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। কেন্দ্রে ও প্রদেশে ঘন ঘন সরকারের পরিবর্তন ঘটতে থাকে। ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠী ক্ষমতা দখলের জন্য অপ্রীতিকর ঘটনায় ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলী গুরুতর আহত হয়ে পরবর্তীতে হাসপাতালে মারা যান। এরই সুযোগ নিয়ে ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মীর্জা সামরিক আইন জারি করেন। তিনি দায়িত্ব নিয়ে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তা হচ্ছে-
- ১৯৫৬ সালের সংবিধান, বাতিল,
- কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ ভেঙে দেওয়া,
- রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা,
- বেশ ক'জন রাজনৈতিক নেতাকে জেলে প্রেরণ,
- সকল মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া ইত্যাদি।
সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনায় স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, যুক্তফ্রন্ট সরকার ভেঙে যাওয়ার পরই সামরিক শাসন চালু করা হয়েছিল।

