- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্য
:
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
তুহিন ও তুষার একই দেশের যথাক্রমে পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে বসবাস করে। তুহিনের অংশে দেশটির সরকার তেমন কোনো শিল্পকারখানা স্থাপন করেনি। ব্যবসায় বাণিজ্যেও এ অংশটি তুষারের অঞ্চল থেকে পিছিয়ে। চাকরির ক্ষেত্রে দেখা যায়, তুহিনের অঞ্চলের চেয়ে তুষারের অঞ্চলের অনেক বেশি লোক দেশটির বড় বড় পদে চাকরি করে।
১৯৫৪ সালের ৩০ মে কে যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বরখাস্ত করে?
১৯৫৪ সালের ৩০ মে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বরখাস্ত করে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
'যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা ছিল গণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক'- ব্যাখ্যাকর।
যুক্তফ্রন্ট পূর্ব বাংলার গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করে ২১ দফাভিত্তিক ইশতেহার প্রণয়ন করে। যুক্তফ্রন্ট এ কর্মসূচির ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। নির্বাচনে জনগণ যুক্তফ্রন্টের ২১ দফাকে তাদের স্বার্থরক্ষার সনদ বলে বিবেচনা করে। যুক্তফ্রন্ট প্রণীত ২১ দফা ছিল মূলত পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসনের দাবি। যে কারণে পূর্ব বাংলার জনসাধারণ যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার প্রতি অকুন্ঠ সমর্থন জানায়। তাই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি সঠিক হয়েছে বলা যায়।
উদ্দীপকে পূর্বাণালের যে বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছে পাঠ্যবইয়ের আলোকে তার ব্যাখ্যা দাও।
উদ্দীপকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছে।
পাকিস্তান সরকারের বৈষম্যমূলক নীতির কারণে পূর্ব বাংলার চাইতে পশ্চিম পাকিস্তান অনেক বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল। যেমন ১৯৫৫-৫৬ সাল থেকে ১৯৫৯-৬০ সাল পূর্ব পাকিস্থান লাভ করেছিল ১১৩ কোটি ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। অপরদিকে, পশ্চিম পাকিস্তান তখন পেয়েছিল ৫০০ কোটি টাকা। একইভাবে ১৯৬০-৬১ থেকে ১৯৬৪-৬৫ সালে পূর্ব পাকিস্তান লাভ করে ৬৪৮ কোটি টাকা আর পশ্চিম পাকিস্তানের ক্ষেত্রে তা ছিল ২২,২৩০ কোটি টাকা। ফলে ব্যবসায় বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন, কৃষিসহ অর্থনীতির সকল ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তানের চাইতে কয়েকগুণ পিছিয়ে পড়ে। পাকিস্তানের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় পূর্ব পাকিস্তানের ভূনিকা ছিল অতি নগণ্য। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বৈষম্য ছিল ব্যাপক। উদ্দীপকের তুহিনের অংশে দেশটির সরকার তেমন কোনো শিল্পকারখানা স্থাপন করেনি। পূর্ব বাংলার অংশেও তখন দেশটির সরকার কোনো শিল্পকারখানা স্থাপন করেনি। ব্যবসায় বাণিজ্যেও তুহিনের অংশ তুষারের অংশের চেয়ে অনেক পিছিয়ে ছিল। পূর্ব বাংলার ব্যবসায় বাণিজ্য পশ্চিম পাকিস্তানের থেকে পিছিয়ে ছিল।
তুমি কি মনে কর তুহিনের অঞ্চলটি পূর্ব পাকিস্তানের মতো প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও বৈষম্যের শিকার হয়েছিল? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, তুহিনের অঞ্চলটি পূর্ব পাকিস্তানের মতো প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও বৈষম্যের শিকার হয়েছিল।
পাকিস্তান সৃষ্টির আগে পূর্ব বাংলা অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পশ্চিম পাকিস্তানের চাইতে অগ্রসর ছিল। কিন্তু ১৯৪৭সালে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসন-শোষণ প্রতিষ্ঠার ফলে পূর্ব পাকিস্তান দ্রুত পিছিয়ে যেতে থাকে। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের সম্পর্কের মধ্যে ব্যবধান হয়ে দাঁড়ায় বিরাট। পাকিস্তানি শাসনামলে পূর্ব পাকিস্তান মারাত্মক অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার হয়। ফলে পূর্ব পাকিস্তান অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারেনি। প্রাদেশিক সরকারের হাতে মুদ্রাব্যবস্থা ও অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণে কোনো ক্ষমতা ছিল না। কেন্দ্র সরাসরি এসব নিয়ন্ত্রণ করত বলে পূর্ব পাকিস্তানের সমূদয় আয় পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যেত। পাকিস্তানে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় পূর্ব পাকিস্তানের ভূমিকা ছিল অতি নগণ্য। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে ব্যাপক বৈষম্য ছিল। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও বৈষম্য লক্ষ করা যায়। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীতে বাঙালিদের নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য বিরাজ করেছিল। মোট অফিসারের মাত্র ৫%, সাধারণ সৈনিকের মাত্র ৪ শতাংশ, নৌবাহিনীর উচ্চপদে ১৯%, নিম্নপদে ৯%, বিমান বাহিনীর পাইলটদের ১১%, টেকনিশিয়ানদের ১.৭% ছিলেন বাঙালি। এ থেকে দেখা যায়, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক বৈষম্য ছাড়াও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্য রয়েছে। তাই বলা যায়, তুহিনের অঞ্চলটি পূর্ব পাকিস্তানের মতো প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও বৈষম্যের শিকার হয়েছিল।

