• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)
পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচন ও পরবর্তী ঘটনা

:

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

মিশুর পিতা কোনো নির্বাচনে ভোট দিতে চায় না। তিনি মনে করেন। নির্বাচন জনগণের কোনো কাজে আসে না। মিশু তার পিতাকে ঐতিহাসিক একটি নির্বাচনের কিছু তথ্য একটি বই থেকে পড়ে শোনান। নির্বাচনটি নিয়ে নানা আশঙ্কা ছিল। নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয় এক ব্যক্তির এক ভোটের ভিত্তিতে। একটি দল ছয় দফার পক্ষে নির্বাচনকে গণভোট হিসেবে অভিহিত করেছিল।

উদ্দীপকে মিশুর তথ্যে পাঠ্যপুস্তকের যে নির্বাচনের প্রতিফলন ঘটেছে তার ব্যাখ্যা দাও।

উদ্দীপকে মিশুর তথ্যে পাঠ্যপুস্তকের ১৯৭০ সালের নির্বাচনের প্রতিফলন ঘটেছে।
১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ইস্তফা দেন। ইয়াহিয়া খান উক্ত পদে আসীন হন। তিনি ২৮ মার্চ এক ঘোষণায় পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। তবে পাকিস্তানে ইতোপূর্বে কোনো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ায় এ নির্বাচন নিয়েও নানা আশঙ্কা ছিল। কোনো নিয়মকানুনও ছিল না। অবশেষে ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর সর্বপ্রথম 'এক ব্যক্তির এক ভোটের ভিত্তিতে' নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মিশুর বর্ণনায়ও আমরা এমন পদ্ধতি দেখতে পাই। আওয়ামী লীগ হয় দফার পক্ষে নির্বাচনকে গণভোট হিসেবে অভিহিত করে। নির্বাচনে ৫ কোটি ৬৪ লাখ ভোটারের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানে ছিল ৩. কোটি ২২ লাখ। ১৯৭০ সালের ৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় আইন পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন লাভ করে। ১৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত প্রাদেশিক পরিষদনির্বাচনে ৩০০টির মধ্যে ২৮৮টি আসন আওয়ামী লীগ পায়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এ বিজয় ছিল নজিরবিহীন। অর্থাৎ মিশুর তথ্যে ১৯৭০ সালের নির্বাচনেরই প্রতিফলন ঘটেছে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের যে শিক্ষক শহিদ হন তার নাম কী ছিল?

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা শহিদ হন।

#

'আগরতলা মামলা' কথাটি বুঝিয়ে বল।

পাকিস্তানি সরকার ১৯৬৮ সালের জানুয়ারিতে শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে মোট ৩৫ জন সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার, মিথ্যা মামলা দায়ের করে। এ মামলাটি ইতিহাসে আগরতলা মামলা বলে পরিচিতি লাভ করে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, তারা সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে পাকিস্তান রাষ্ট্র থেকে পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ভারতের আগরতলায় ষড়যন্ত্র করেছিলেন। এ মামলায় বিচারকার্যের জন্য একটি স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।

#

পাঠ্যপুস্তকের আলোকে উক্ত নির্বাচনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

উদ্দীপকে যে নির্বাচনের কথা বর্ণনা করা হয়েছে তার মধ্যে ১৯৭০ সালের নির্বাচনের চিত্র ফুটে উঠেছে।

১৯৭০ সালের নির্বাচন পূর্ব বাংলার জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সাফল্য বাঙালিদের ঐক্য জোরদার করে। তারা আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে ওঠে। যা স্বাধিকার আদায়ের গতিকে ত্বরানিত করে। ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় এবং প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। ফলে ছয় দফা ও ১১ দফার প্রতি জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। আওয়ামী লীগ যে বাঙালিদের একাত্র প্রতিনিধি তা এ নির্বঅচনের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বাঙালি জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক বিজয় ঘটে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের সরকার ও স্বার্থান্বেষী মহলের জন্য এটি ছিল বিরাট পরাজয়। তারা বাঙালির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিরোধিতা ও যড়যন্ত্র আঁটতে থাকে। পূর্ব বাংলার জনগণ পশ্চিম পাকিস্তানের কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে অবস্থান গ্রহণ করে। ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের পিছনে এ নির্বাচনের অপরিসীম গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এ নির্বাচন বাঙালি জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রাকে মুক্তিযুদ্ধের চরিত্র দানে বিশাল ভূমিকা রাখে। পরিণতিতে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। পূর্ব বাংলার মানুষের স্বার্থরক্ষায় এবং জাতিকে উজ্জীবিত করার জন্য ১৯৭০ সালের নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উদ্দীপকে মিশুর তথ্যে পাঠ্যপুস্তকের যে নির্বাচনের প্রতিফলন ঘট | বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (নবম-দশম শ্রেণি) | Uddoyon