- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা ও প্রতিকার
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
দৃশ্যকল্প-১: ৯ম শ্রেণির ছাত্র রাজন প্রায়ই স্কুলে না গিয়ে বন্ধুদের নিয়ে রাস্তার মোড়ে আড্ডা দেয়, ধূমপান করে, স্কুলগামী মেয়েদের দেখলে বাজে মন্তব্য করে।
দৃশ্যকল্প-২: ১০ বছর বয়সি জামিলকে তার বাবা স্কুল ছাড়িয়ে ঢাকায় নিয়ে যান এবং ঝালাইয়ের কাজে লাগিয়ে দেন।
উদ্দীপকের রাজনের কার্যক্রম কোন সামাজিক সমস্যাকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকের কিশোর রাজনের কার্যক্রম কিশোর অপরাধ নামক ওয়াবহ একটি সামাজিক সমস্যাকে ইঙ্গিত করে।
কিশোর অপরাধ বর্তমানে একটি উদ্বেগজনক সামাজিক সমস্যা। মূলত সামাজিক সুষ্ঠু পরিবেশ ও মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত হয়ে খারাপ সঙ্গ এবং পাচারকারী ও বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত ব্যক্তির সাথে জড়িত হয়ে শিশু-কিশোররা অপরাধী হয়ে ওঠে। এক্ষেত্রে পারিবারিক অভাব-অনটন, শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং বাবা-মায়ের দায়িত্বহীন আচরণ ও নিয়ন্ত্রণের অভাবে শহরের বস্তিতে বসবাসকারী কিশোররা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে বেশি জড়িয়ে পড়ে। যেমনটি ঘটেছে উদ্দীপকের ৯ম শ্রেণির ছাত্র রাজনের ক্ষেত্রে। স্কুলে না গিয়ে সে বন্ধুদের নিয়ে রাস্তার মোড়ে আড্ডা দেয়, ধূমপান করে, স্কুলগামী মেয়েদের বাজে মন্তব্য করে প্রভৃতি। এক্ষেত্রে কিশোর অপরাধ আইন অনুযায়ী কিশোরদেরকে শাস্তি নয়, বরং তাদেরকে সংশোধনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী অভিযুক্ত ও দোষী শিশু-কিশোরদের কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে প্রেরণ করতে হবে।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের রাজনের কর্মকান্ডে কিশোর অপরাধ নামক সামাজক সমস্যাকে ইঙ্গিত করেছে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
নারীর প্রতি সহিংসতা কী?
নারী বা পুরুষ কর্তৃক যেকোনো বয়সের নারীর প্রতি শুধু নারী হওয়ার কারণে সে সহিংস আচরণ করা হয় তাই নারীর প্রতি সহিংসতা।
সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণ ব্যাখ্যা কর।
সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণ নিম্নরূপ:
১. সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অভাব;
২. আইনের শাসনের দুর্বলতা;
৩. সমাজস্থ মানুষের সহনশীলতার অভাব:
৪. বিশৃঙ্খল পরিবেশ দ্বারা মূল্যবোধের অবক্ষয়;
৫. ধর্মীয় অপব্যাখ্যা মানুষকে মূল্যবোধহীন ভাবে পরিচালিত করে। প্রভৃতি।
দৃশ্যকল্প-২-এর জামিলের সমস্যা নিরসনে বাংলাদেশে প্রচলিত আইন কতটুকু কার্যকর? মূল্যায়ন কর।
উদ্দীপকে 'দৃশ্যকল্প-২'-এ বিবৃত জামিলের সমস্যাটি হলো শিশুশ্রম। সমস্যাটি নিরসনে বাংলাদেশে প্রচলিত আইন যথাযথ আছে, তবে তা শতভাগ কার্যকর নয়।
শিশুশ্রম নিরসনে বাংলাদেশে প্রচলিত আইন:
১: সংবিধানে শিশু অধিকার: বাংলাদেশের সংবিধানে শিশুসহ সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
২. শ্রম আইন-২০০৬ বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ শিশু ও কিশোরদের সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে গিয়ে শিশুর ন্যূনতম বয়স ১৪ বছর এবং কিশোরের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
৩. জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ, ১৯৮৯- ১৯৮৯ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক প্রণীত শিশু অধিকার সনদে শিশু শ্রম বিষয়ে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ১৯৯০ সালে এ সনর্দ অনুসমর্থন করেছে।
৪. জাতীয় শিশু শ্রমনীতি- ২০১০: শিশুশ্রম বিলোপ সাধনে এ নীতি কতকগুলো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ আইন অনুযায়ী শিশুশ্রম প্রতিরোধ ও নির্মূলে কৌশলগত ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত হতে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসনে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
এরূপ বিবিধ আইন বলবৎ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে অবলীলায় চলছে শিশুশ্রম। তার কারণ হলো- আইন থাকলেও তা পুরাপুরি কার্যকর ও ফলপ্রসূ নয়।

