- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- ১৯৭১ (উপন্যাস)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
মিথ্যা চুরির অপরাধে কেরামত আলিকে ধরে নিয়ে যায় পঞ্চায়েতের লোকজন। তারা গঞ্জের হাটে প্রতি রাতের চুরির তথ্য জানতে চায় কেরামত আলির কাছ থেকে। নিরপরাধ কেরামত আলি এর কিছুই জানে না বলে কোনো তথাও দিতে পারে না। ফলে তাকে বেধড়ক মারধরের শিকার হতে হয়। এরূপ পরিস্থিতিতে পঞ্চায়েত প্রধান কেরামত আলিকে চুরির দায় স্বীকার করে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলে। অন্যথায় তাকে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকিও দেওয়া হয়। জীবন বিপন্ন জেনেও কেবল মান-সম্মানের কথা বিবেচনা করে কেরামত আলি মিথ্যা চুরির দায় স্বীকার করে না। ফলে তাকে করুণভাবে মৃত্যুবরণ করতে হয়।
মেজর এজাজ ইস্ট-বেঙ্গল রেজিমেন্টের কথিত দলটির প্রতি এতটা ক্ষুদ্ধ হয়েছিল কেন?
ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের দলটির সদস্যরা দুজন মিলিটারি অফিসারকে ধরে নিয়ে যাওয়ায় সেই দলটির প্রতি মেজর এজাজ ক্ষুব্ধ হয়েছিল।
'১৯৭১' উপন্যাসে নীলগঞ্জ গ্রামে ঢুকে পাকিস্তানি মিলিটারি মেজর এজাজ গ্রামের মানুষদের ডেকে নিয়ে তাদেরকে গ্রামের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করে। গ্রামের আজিজ মাস্টারকেও জিজ্ঞাসাবাদ করে। মেজর একসময় তার কাছে জানতে চায় গ্রামের জঙ্গলা মাঠে কিছু আছে কিনা। কিন্তু আজিজ মাস্টার জানায় সেখানে কিছুই নেই। পরে মেজর এজাজ জানায় তারা জানে যে জঙ্গালা মাঠে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বেশ কিছু জোয়ান এবং কয়েকজন অফিসার লুকিয়ে আছে। তারা দুজন মিলিটারি অফিসারকে ধরে নিয়ে গেছে। এর মধ্যে একজন হলো মেজর এজাজের বন্ধু। এজন্যই মেজর এজাজ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কথিত সেই দলটির প্রতি ক্ষুব্দ হয়েছিল।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
নীলগঞ্জের কার বাড়িতে ট্রানজিস্টার আছে?
নীলগঞ্জের আজিজ মাস্টার, নীলু সেন ও জয়নাল মিয়ার বাড়িতে ট্রানজিস্টার আছে।
উদ্দীপকের কেরামত আলির সংশ্লিষ্ট ঘটনার সঙ্গে '১৯৭১' উপন্যাসের কোন চরিত্রের মিল রয়েছে? বর্ণনা কর।
উদ্দীপকের কেরামত আলির সংশ্লিষ্ট ঘটনার সঙ্গে '১৯৭১' উপন্যাসের আজিজ মাস্টার চরিত্রের মিল রয়েছে।
বাংলাদেশে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সাধারণ মানুষের উপর নির্মম অত্যাচার ও নিপীড়ন করে। মুক্তিবাহিনী সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার জন্য তারা নিরপরাধ মানুষের উপর অমানবিক-নির্যাতন চালায়।
উদ্দীপকের কেরামত আলিকে পঞ্চায়েতের লোকজন মিথ্যা চুরির অপরাধে ধরে নিয়ে যায়। তারা কেরামতের কাছ থেকে গঞ্জের হাটে প্রতি রাতের চুরির তথ্য জানতে চায় অথচ সে সেগুলোর কিছুই জানে না। চুরির দায় স্বীকার করার শর্তে তাকে গঞ্জ ছেড়ে চলে যেতে বলে। আর স্বীকার না করলে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় লোকজন। জীবন বিপন্ন জেনেও কেবল মান-সম্মানের কথা বিবেচনা করে কেরামত আলি মিথ্যা চুরির দায় স্বীকার করে না। শেষ পর্যন্ত তাকে করুণভাবে মৃত্যুবরণ করতে হয়।
'১৯৭১' উপন্যাসের আজিজ মাস্টার কিছু না জানা সত্ত্বেও মেজর এজাজ তার প্রতি অমানবিক নির্যাতন করে। মেজর এজাজের বহুমাত্রিক নির্যাতনে শেষপর্যন্ত নিজের আত্মসম্মান রক্ষার জন্য আজিজ মাস্টার মৃত্যুকেই বেছে নেয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের কেরামত আলির সংশ্লিষ্ট ঘটনার সঙ্গে '১৯৭১' উপন্যাসের আজিজ মাস্টার চরিত্রের মিল রয়েছে।
"মহৎ মানুষেরা জীবনের চেয়েও সম্মান ও ব্যক্তিত্বকে অধিক মূল্যবান মনে করে।" উদ্দীপক ও '১৯৭১' উপন্যাস অবলম্বনে এই মন্তব্যের প্রাসঙ্গিকতা নিরূপণ কর।
"মহৎ মানুষেরা জীবনের চেয়েও সম্মান ও ব্যক্তিত্বকে অধিক মূল্যবান মনে করে।" মন্তব্যটি প্রাসঙ্গিক।
মহৎ মানুষেরা যেকোনো মুহূর্তে তাদের ব্যক্তিত্ব ও মানসম্মানকে গুরুত্ব দেয়।
ষড়যন্ত্রকারীরা তাদেরকে যখন মিথ্যা আর মৃত্যুর মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে বলে তারা নির্দ্বিধায় মৃত্যুকেই হাসিমুখে গ্রহণ করে।
উদ্দীপকের কেরামত আলিকে পঞ্চায়েতের 'লোকজন মিথ্যা চুরির অপরাধে ধরে নিয়ে বেধড়ক মারধর করে। পঞ্চায়েত প্রধান তাকে চুরির দায় স্বীকার করে এলাকা ছেড়ে যেতে বলে নতুবা তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। জীবন বিপন্ন জেনেও কেবল মান-সম্মানের কথা বিবেচনায় মিথ্যা চুরির দায় স্বীকার না করে মৃত্যুকেই আলিঙ্গন করে। উদ্দীপকের কেরামত আলি এবং '১৯৭১' উপন্যাসের আজিজ মাস্টার একই চেতনার অধিকারী। আজিজ মাস্টারকে মেজর এজাজ আটকে রেখে তার কাছে গ্রাম সম্পর্কে নানা বিষয়ে জিজ্ঞেস করে। কিন্তু আজিজ মাস্টার এগুলোর কোনোটিই জানে না। মেজর এজাজ একসময় তাকে মৃত্যু এবং লজ্জাজনক শাস্তি থেকে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে বললে আজিজ মাস্টার পরে মৃত্যুকেই বেছে নেয়।
'১৯৭১' উপন্যাসে আজিজ মাস্টারের উপর মেজর এজাজের অমানবিক আচরণের বিভিন্ন দিক ফুটে উঠেছে। আজিজ মাস্টার একজন ভীতু প্রকৃতির মানুষ। গ্রামের অনেক কিছুই সে জানে না। অথচ মেজর জোরপূর্বক তার কাছ থেকে তথ্যগুলো জানতে চায়। ব্যর্থ হয়ে মেজর লজ্জাজনক শাস্তি হিসেবে তাকে উলঙ্গ করে রাখে। কিন্তু আজিজ মাস্টার এমন শাস্তি থেকে মৃত্যুকেই তার জন্য অধিক মূল্যবান মনে করে। তাই আত্মসম্মান ও ব্যক্তিত্বকে সমুন্নত রাখার জন্য মৃত্যুকে হাসিমুখে আলিঙ্গন করে, যা উদ্দীপকের কেরামত আলির মধেও ফুটে উঠেছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি সত্যিকার অর্থেই প্রাসঙ্গিক।

