• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • প্রাক ইসলামি আরব
প্রাক ইসলামি আরব

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

জাতিগত দাঙ্গায় সিয়েরা লিওনের জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত। সামান্য স্বার্থহানি ঘটলেই তারা বড় সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। ফলে তাদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে। এ অবস্থায় জাতিসংঘের উদ্যোগে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনী সেখানে যুদ্ধ, নির্যাতন, অসাম্য দূর করে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে দিনরাত কাজ করছে।

'মালা' কী?

মালা হলো প্রাক-ইসলামি আরবের একটি রাজনৈতিক সংগঠন বা মন্ত্রণাসভা।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

সাবায়ে মুয়াল্লাকাত বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

আরবের উকাজ মেলায় পুরস্কারপ্রাপ্ত সাতটি কবিতাকে সাবায়ে মুয়াল্লাকাত বা 'সপ্ত ঝুলন্ত' কবিতা বলা হতো।

মক্কার নিকটবর্তী উকাজের বার্ষিক মেলায় আরবের প্রখ্যাত কবিগণ কবিতা প্রতিযোগিতার আয়োজন করতেন। উকাজের বাৎসরিক সাহিত্য সম্মেলনে সাতটি কবিতাকে পুরস্কৃত করা হতো। সোনালি হরফে লিপিবদ্ধ করে এ কবিতাগুলো মক্কায় কাবার দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হতো। এ কবিতাগুলোর বিষয়বস্তু ছিল প্রেম, যুদ্ধবিগ্রহ, বীরত্বপূর্ণ কাহিনি, বংশ গৌরব, আরব সমাজের আতিথেয়তা, স্বাধীনচেতা মনোভাব ইত্যাদি। এ কবিতাগুলোই সপ্ত ঝুলন্ত কবিতা বা সাবায়ে মুয়াল্লাকাত নামে পরিচিত ছিল।

#

উদ্দীপকে বর্ণিত জাতিগত দাঙ্গার সাথে প্রাক-ইসলামি আরবের কোন বৈশিষ্ট্যের মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।

উদ্দীপকে বর্ণিত জাতিগত দাঙ্গার সাথে প্রাক-ইসলামি যুগের রাজনৈতিক অবস্থার মিল পাওয়া যায়।

কোনো অঞ্চল বা রাষ্ট্রে একাধিক গোত্র বা দল থাকলে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য হওয়াটা স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে পরমতসহিষ্ণুতা না থাকলে সামান্য বিষয় নিয়েই গোত্রে গোত্রে সংঘাত হতে পারে। আর গোত্রীয় সংঘাত অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্ম দেয়। ফলে শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। যেমনটি প্রাক-ইসলামি আরব এবং উদ্দীপকের সিয়েরা লিওনে লক্ষ করা যায়।

প্রাক-ইসলামি যুগে আরবে তুচ্ছ কারণেই গোত্রীয় কলহের সূত্রপাত হতো এবং এর জের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বংশানুক্রমে চলত। যেমন- মদিনার আউস ও খাজরাজ গোত্রের মধ্যে 'বুয়াসের যুদ্ধ' এবং মক্কার কুরাইশ ও হাওয়াযিন গোত্রদ্বয়ের মধ্যে 'হারবুল-ফুজ্জার' যুদ্ধ (৫৮৪-৫৮৮ খ্রি.) ব্যাপক ও দীর্ঘস্থায়ী হয়েছিল। অনবরত যুদ্ধ-বিগ্রহের এ সময়কে 'আইয়াম আল-আরব' বলা হতো। পানির নহর, তৃণভূমি ও গবাদি পশুকে উপলক্ষ করে এক গোত্রের সঙ্গে অপর গোত্রের যুদ্ধের সূত্রপাত হতো। উদ্দীপকেও সিয়েরা লিওনে সংঘাতের নেতিবাচক ফলাফল তুলে ধরা হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী এ সংঘাতের কারণেই সেখানে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে পড়েছে। সুতরাং প্রাক-ইসলামি আরবের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক অবস্থার সাথে সিয়েরা লিওনের জাতিগত দাঙ্গার তুলনা করা চলে।

#

উদ্দীপকের শান্তিরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ডের আলোকে আরব জীবনে ইসলামের ভূমিকা নিরূপণ করো।

বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনী যেভাবে সিয়েরা লিওনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে, ঠিক একইভাবে অরাজকতাপূর্ণ, বিশৃঙ্খল আরব সমাজে ইসলাম শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়েছে।

ইসলাম শান্তি ও কল্যাণের ধর্ম। এখানে নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা, অরাজকতার কোনো স্থান নেই। আর তাই আজ থেকে প্রায় ১৫০০ শত বছর পূর্বে বিশৃঙ্খল আরব সমাজে আবির্ভাব ঘটেছিল ইসলামের। আর এর ধারক ছিলেন বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত হযরত মুহাম্মদ (স)। তিনি ইসলামের শাশ্বত ও সুমহান বাণী প্রচার করে নৈরাজ্যপূর্ণ আরব সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ইসলামের এ অবদানেরই একটি খণ্ডচিত্র বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীর ভূমিকায় পরিলক্ষিত হয়।
সংঘাতপূর্ণ সিয়েরা লিওনে জাতিসংঘের উদ্যোগে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষী। বাহিনী যুদ্ধ, নির্যাতন ও অসাম্য দূর করে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। ইসলামও এমন বিপর্যন্ত আরব সমাজে সঠিক পথ প্রদর্শন করে সাম্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করেছিল। হত্যা, খুন, রাহাজানি, লুটতরাজ প্রভৃতি অসামাজিক কাজে সমাজ নিমজ্জিত ছিল। সমাজে নারীদের কোনো মর্যাদা ছিল না। তারা পণ্যসামগ্রী হিসেবে বাজারে বিক্রি হতো। কুসিদ প্রথার (চক্রবৃদ্ধি হারে সুদের প্রচলন) বেড়াজালে সমাজে অর্থনৈতিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছিল। গোত্রীয় দ্বন্দ্ব-সংঘাত এত প্রবল ছিল যে সামান্য কারণেই যুদ্ধ লেগে যেত। ব্রিটিশ ঐতিহাসিক এডওয়ার্ড গিবনের (Edward Gibbon) মতে, 'অজ্ঞতার যুগে আরবে প্রায় ১৭০০ যুদ্ধ-বিগ্রহ সংঘটিত হয়েছিল।' এরূপ অরাজকতাপূর্ণ সমাজে শান্তির মহান বার্তা নিয়ে আবির্ভূত হন হযরত মুহাম্মদ (স)। তিনি ইসলামের সুমহান আদর্শের আলোকে সমাজে বৈপ্লবিক সংস্কার সাধন করেন। তিনি সমাজে বিদ্যমান খুন-খারাপি, মদ্যপান জুয়াখেলা, সুদপ্রথা ইত্যাদি অনাচার দূর করেন। নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করে তাদেরকে মা, স্ত্রী, কন্যা হিসেবে সম্মানজনক অবস্থান দান করেন। গোত্রীয় দ্বন্দ্ব নিরসন করে তিনি সাম্যভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। এভাবে তিনি সামাজিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয়, রাজনৈতিক প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামি আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েম করেন।

উপর্যুক্ত আলোচনায় এটা প্রমাণিত যে, উদ্দীপকে বর্ণিত সিয়েরা লিওনে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীর শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা ইসলামের সুমহান আদর্শেরই আংশিক প্রতিফলন।