• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • প্রাক ইসলামি আরব
প্রাক ইসলামি আরব

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

জনাব আলী হায়দার সুনামগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি লক্ষ করলেন যে, জুন থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে সুরমা নদীর উভয় তীর প্লাবিত হয়। প্লাবনের ফলে উভয় তীরের ভূভাগ অত্যন্ত উর্বর হলেও বন্যায় উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ মহাসংকট কাটিয়ে উঠতে তিনি সুরমা নদীর তীরে বাঁধ দেয়ার উদ্যোগ নেন এবং খাল কেটে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। ফলে কৃষিক্ষেত্রে উন্মোচিত হয় এক নতুন দিগন্ত। তবে শিল্পবাণিজ্য ও সংস্কৃতিতে সুনামগঞ্জ থাকে অবহেলিত।

কোন শব্দ থেকে ব্যাবিলন শব্দের উৎপত্তি?

'বাব ইল' শব্দ থেকে ব্যাবিলন শব্দের উৎপত্তি।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

উদ্দীপকের সুরমা নদীর সাথে কোন নদীর সামঞ্জস্য পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।

উদ্দীপকের সুরমা নদীর সাথে মিসরীয় সভ্যতার নীল নদের সামঞ্জস্য রয়েছে।

প্রকৃতির অপার দান নদী একদিকে যেমন মানুষের জীবন-জীবিকায় ব্যাপক প্রভাব ফেলে, তেমনি প্লাবন কিংবা বন্যায় নদীতীরবর্তী অঞ্চলগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে নদী শাসনের যথাযথ কৌশল গ্রহণ করে এ ধরনের সংকট নিরসন করা সম্ভব হয়, যেমনটি লক্ষ করা যায় মিসরীয়দের বর্ষা মৌসুমে নীল নদে বাঁধ নির্মাণ করে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থার মধ্যে। এভাবে পানি ধরে রেখে তা কৃষি কাজে ব্যবহার করায় মিসরীয়রা কৃষিক্ষেত্রে অভাবনীয় উন্নতি সাধন করেছিল। নীল নদকে কেন্দ্র করেই তারা সভ্যতার সূচনা করেছিল। উদ্দীপকে সুরমা নদীর এমন অবদানের চিত্রই লক্ষণীয়।

বর্ষা মৌসুমে প্লাবন বা বন্যা দেখা দিলে সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর পানি বেড়ে গিয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এ সংকট উত্তরণে জেলা প্রশাসক জনাব আলী হায়দার সুরমা নদীতে বাঁধ দিয়ে এবং খাল কেটে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করেন, যা কৃষির ব্যাপক উন্নতিতে অবদান রাখে। একই পরিস্থিতি লক্ষ করা যায় প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতায়। ইতিহাসে 'নীল কন্যা' নামে খ্যাত প্রাচীন মিসরে প্রতিবছর জুন থেকে অক্টোবর মাসে বন্যায় বা প্লাবনে নীল নদের উভয় তীর প্লাবিত হতো। ফলে ফসলের প্রচুর ক্ষতি হতো। ফসলের ক্ষতি এড়াতে তারা নীল নদে বাঁধ দিয়ে পানি ধরে রাখার কৌশল উদ্ভাবন করে। ফলে দেখা যায়, বন্যা শেষে নীল নদের উভয় তীর পলি মাটিতে ভরে যেত, যা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক ছিল। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, সুনামগঞ্জবাসীর জীবনে সুরমা নদীর অবদানের সাথে মিসরীয় সভ্যতায় নীল নদের অবদান সাদৃশ্যপূর্ণ।

#

জাজিরাতুল আরব বলতে কী বুঝ? ব্যাখ্যা করো।

জাজিরাতুল আরব বলতে আরব ভূখণ্ডকে বোঝায়।

'জাজিরা' আরবি শব্দ। এর অর্থ উপদ্বীপ। আর আরব একটি ভূখন্ডের নাম। সুতরাং জাজিরাতুল আরব অর্থ আরব উপদ্বীপ। এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত আরব দেশ বিশ্বের সর্ববৃহৎ উপদ্বীপ। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে এটি একটি বৈচিত্র্যময় দেশ। এর তিন দিক বিশাল জলরাশি এবং একদিক বিস্তীর্ণ মরুপ্রান্তর দ্বারা বেষ্টিত। এরূপ ত্রিভুজাকৃতির ভৌগোলিক অবস্থানের জন্যই আরব দেশকে জাজিরাতুল আরব বলা হয়।

#

জনাব আলী হায়দারের জেলার তুলনায় তোমার পঠিত সভ্যতাটি কোন অর্থে অধিক সমৃদ্ধ? যুক্তি দাও।

শিল্প, সংস্কৃতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করায় মিসরীয় সভ্যতা জনাব আলী হায়দারের জেলার তুলনায় অধিক সমৃদ্ধ।

উদ্দীপকের বর্ণনানুযায়ী জনাব আলী হায়দারের জেলাটি কৃষি ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রগতি অর্জন করলেও শিল্প, বাণিজ্য, সংস্কৃতি প্রভৃতি দিক থেকে বেশ অবহেলিত। কিন্তু মিসরীয় সভ্যতায় এর ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।

আধুনিক সভ্যতার মূলভিত্তি রচনাকারী মিসরীয়রা শিল্প, সংস্কৃতি, স্থাপত্য, ব্যবসায়-বাণিজ্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। তাদের অবদানের কাছে পরবর্তী প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের সকল সভ্যতাই ঋণী। মিসরীয়রা স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জের ব্যবহারের সাহায্যে নানা প্রকার অলংকার ও আসবাবপত্র নির্মাণ করত। অস্ত্র-শস্ত্র তৈরিতে তারা অনেক পারদর্শী ছিল। সুতি, পশমি এমনকি নানা প্রকার কারুকার্যখচিত বয়ন তৈরিতেও তারা দক্ষ ছিল। শিক্ষা, সাহিত্য, দর্শন প্রভৃতি ক্ষেত্রে তাদের অবদান ছিল অসামান্য। তারাই প্রথম লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন করে। 'হায়ারোগ্লিফিক' (Hieroglyphic) নামক চিত্রভিত্তিক লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন করে তারা মনের ভাব প্রকাশ করত। তাদের নির্মিত পিরামিডগুলো প্রাচীন বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের মধ্যে অন্যতম ছিল। তাদের স্থাপত্য শিল্পের কলাকৌশল গ্রিক ও রোমান স্থাপত্য শিল্প ও মধ্যযুগীয় ইউরোপীয় স্থাপত্য শিল্পকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছে। তাদের সাহিত্য ও দর্শন চর্চা ছিল ধর্মভিত্তিক। 'পিরামিড টেকস্টস' 'মেফিস ড্রামা', 'রয়াল সান হিম', 'মৃতদের পুস্তক' ইত্যাদি তাদের সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য নিদর্শন। এভাবে মিসরীয়রা শিল্প, সাহিত্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে অবদান রেখে বিশ্বকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

উদ্দীপকে বর্ণিত জেলা অর্থাৎ সুনামগঞ্জ সুরমা নদীর দানে ও নানা কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে মিসরীয়দের মতো কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে। কিন্তু শিল্প, সংস্কৃতি, স্থাপত্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে তারা কোনো অবদান রাখতে পারেনি। তাই উল্লিখিত আলোচনার প্রেক্ষিতে এটি প্রমাণিত যে, সুনামগঞ্জের চেয়ে মিসরীয় সভ্যতা অধিক সমৃদ্ধ।