• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • প্রাক ইসলামি আরব
প্রাক ইসলামি আরব

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

সার্কভুক্ত দেশগুলোর মহিলা পরিষদের একটি অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ক্রিস্টিন মেডোনা অধিকার রক্ষায় নারী আন্দোলনের কার্যকর ভূমিকার জন্য বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশে একটি সময় ছিল যখন কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো। তাদের কোনো অধিকার ছিল না। একজন পুরুষ একই সাথে একাধিক স্ত্রী রাখতে পারত। তারা 'জোর যার মুল্লুক তার' এ নীতিতে বিশ্বাসী ছিল।

উদ্দীপকে প্রাক-ইসলামি আরবের নারীদের যে চিত্র ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা করা।

উদ্দীপকে প্রাক-ইসলামি আরবের অধিকারবঞ্চিত নারীদের করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে।

সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও যুগে যুগে নারীরা শিকার হয়েছেন নানা অত্যাচার-নির্যাতন আর বঞ্চনার। তারা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের দাবিদার হলেও কোনো যুগেই সে দাবি পরিপূর্ণভাবে আদায় হয়নি। নারীদের এ অসহায় অবস্থান এবং অধিকার বঞ্চনার দিকটিই উদ্দীপক এবং প্রাক-ইসলামি আরব সমাজে লক্ষণীয়।

উদ্দীপকে জাতিসংঘের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ক্রিস্টিন মেডোনার কথায় ভারতীয় উপমহাদেশে কোনো এক সময়ে বিদ্যমান নারীদের অসহায় অবস্থার চিত্র ফুটে উঠেছে। এখানে কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো বলে জানা যায়। এছাড়া এখানে একজন পুরুষ একই সাথে একাধিক স্ত্রী রাখতে পারতো। নারীরা ছিল সর্বক্ষেত্রে অধিকারবঞ্চিত। এ বিষয়গুলো প্রাক-ইসলামি আরবের নারীদের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। তখনকার সময়ে আরবীয় নারীদের সামাজিক মর্যাদা বা অধিকার বলে কিছুই ছিল না। কন্যাসন্তানের জন্মকে আরববাসীরা অভিশাপ ও লজ্জাকর বলে মনে করত। অনেক পিতা-মাতা দারিদ্র্যের কশাঘাতে এবং সমাজের নিন্দার কারণে কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দিত। আবার, আরব সমাজে পুরুষেরা অবৈধভাবে একাধিক নারী গ্রহণ করত। বিবাহ প্রথা বলতে কিছুই ছিল না বলে তারা নারীদেরকে দাসী, অস্থাবর সম্পত্তি এবং ভোগের সামগ্রী হিসেবে ব্যবহার করত। এক কথায় সমাজে তাদের কোনো অধিকার বা মর্যাদা ছিল না। এ আলোচনা থেকে বোঝা যায়, উদ্দীপকে প্রাক-ইসলামি আরবের অধিকারবঞ্চিত নারীদের দৃশ্যপটই অঙ্কিত হয়েছে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

'ইয়েমেন' শব্দের অর্থ কী?

'ইয়েমেন' শব্দের অর্থ সুখী বা সৌভাগ্যবান।

#

উটকে কেন মরুভূমির জাহাজ বলা হয়? ব্যাখ্যা করো।

মরুজীবনের প্রধান সহায়ক বাহন হওয়ায় উটকে মরুভূমির জাহাজ বলা হয়।

আরবের অধিকাংশ অঞ্চলই মরুময়। আর উত্তপ্ত মরু অঞ্চলে উটই চলাচলের একমাত্র উপযোগী প্রাণী। তাই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় মরুময় আরবে এটি সর্বাধিক গৃহপালিত প্রাণী। মরুবাসীরা খাদ্য ও পানীয় সংগ্রহ, যোগাযোগ এবং ক্রয়-বিক্রয়ের প্রধান বাহন হিসেবে উটকে ব্যবহার করে। তাই একে মরুভূমির জাহাজ বলা হয়।

#

'জোর যার মুল্লুক তার'- উক্তিটি তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

'জোর যার মুল্লুক তার' উক্তিটির মাধ্যমে পাঠ্যপুস্তকে বর্ণিত ইসলামপূর্ব আরবে আইনের শাসনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান অরাজক পরিস্থিতির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

প্রাক-ইসলামি যুগে আরবের রাজনৈতিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত শোচনীয় ও নৈরাশ্যজনক। তৎকালীন আরবের অধিকাংশ অঞ্চলই ছিল স্বাধীন। তবে এখানে কেন্দ্রীয় শক্তির নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ব্যক্তিগত স্বেচ্ছাচারিতাই বেশি প্রাধান্য পেত।

উদ্দীপকের 'জোর যার মুল্লুক তার'- উক্তিটি আরবের এ অবস্থাকেই ধারণ করে।
উদ্দীপকে জাতিসংঘের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ক্রিস্টিন মেডোনা ভারতীয় উপমহাদেশের এক সময়ের কিছু নেতিবাচক চিত্র তুলে ধরেন। এখানে দেখা যায়, তৎকালীন ভারতবাসী 'জোর যার মুল্লুক তার' এ নীতিতে বিশ্বাসী ছিল। অর্থাৎ এখানে স্বেচ্ছাচারমূলক শাসনব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। এমন চিত্র আমরা প্রাক-ইসলামি আরবেও দেখতে পাই। সরকার কাঠামো বা শাসন পদ্ধতি সম্বন্দ্বে তখনকার আরবীয়রা অজ্ঞ ছিল। তাই সেসময়ে আরবের প্রায় সর্বত্রই 'জোর যার মুল্লুক তার' নীতি বিদ্যমান ছিল। রক্তের বদলে রক্ত, চোখের বদলে চোখ, দাঁতের বদলে দাঁত নীতিতে তারা বিশ্বাসী ছিল। কোনো কোনো ক্ষেত্রে Blood Money বা 'আল দিয়াৎ' (ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে খুনের ক্ষতিপূরণ) প্রদান করে হত্যাকারীও মুক্তি লাভ করত। নিজ নিজ ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তারা নানা ধরনের অন্যায়-অত্যাচার করে বেড়াত। কিন্তু তাদের কাজের কোনো জবাবদিহিতা ছিল না। যাদেরই ক্ষমতা ছিল তারাই সমাজে টিকে থাকত। অর্থাৎ সেখানকার শাসন ব্যবস্থা ছিল ব্যক্তিগত দাপট বা শক্তিনির্ভর।

উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত কোনো এক সময়ে ভারতীয় উপমহাদেশে এবং প্রাক-ইসলামি আরবে আইনের শাসনের অভাবে জোর-জবরদস্তিমূলক শাসন কায়েম ছিল।