• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতি
ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতি

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

পৃথিবীতে এমন একটি সংস্কৃতি আছে যা, কুরআন ও হাদিস থেকে উৎসারিত। এ সংস্কৃতি ধর্ম ও কর্মের সমন্বিত রূপ। এতে ইহকালীন ও পরকালীন জীবন একই সূত্রে গাঁথা। এ সংস্কৃতি স্রষ্টা ও সৃষ্টির মাঝে নিবিড় বন্ধন সৃষ্টি করে। বান্দা ও আল্লাহর মাঝে দূরত্ব কমিয়ে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার পথ দেখায়। প্রত্যেক জাতির জন্য সে সংস্কৃতি অস্তিত্বের রক্ষাকবচ।

সংস্কৃতি কাকে বলে?

কোনো জাতির পরিশীলিত, পরিমার্জিত কার্যকলাপের বহিঃপ্রকাশকে সংস্কৃতি বলে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

নৈতিকতা বলতে কি বোঝ?

নৈতিকতা হলো সততা ও নীতির অনুশীলন।

সততা, সদাচার, সৌজন্যমূলক আচরণ, সুন্দর স্বভাব, মিষ্টি কথা ও উন্নত চরিত্র- এ সবকিছুর সমন্বয় হলো নৈতিকতা। একজন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের চাল-চলন, উঠা-বসা, আচার-ব্যবহার, লেন-দেন সবকিছুই যখন প্রশংসনীয় ও গ্রহণযোগ্য হয় তখন তাকে নৈতিক গুণাবলিসম্পন্ন ব্যক্তি বলে। এই নৈতিকতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে রাসুলুল্লাহ (স.) সর্বোত্তম লোক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, "নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি উত্তম, যার চরিত্র উত্তম।" (বুখারি ও মুসলিম)

#

উদ্দীপকে উল্লেখিত সংস্কৃতিটি যে ভারসাম্যপূর্ণ সংস্কৃতি তা ব্যাখ্যা কর।

উদ্দীপকে উল্লেখিত সংস্কৃতি তথা ইসলামি সংস্কৃতি হলো ভারসাম্যপূর্ণ।

ইসলামি সংস্কৃতি একটি আদর্শিক সংস্কৃতি। ইসলামের নীতি-আদর্শ ঘিরে এ সংস্কৃতি গড়ে ওঠেছে। মানবজাতির জীবনযাপনের যে বিধিব্যবস্থা ইসলাম দিয়েছে তার ব্যাবহারিক দিক হলো ইসলামি সংস্কৃতি। ইসলামি সংস্কৃতি হলো ধর্ম ও কর্মের সমন্বিত রূপ। উদ্দীপকে এরই প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।'

উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে, পৃথিবীতে এমন একটি সংস্কৃতি আছে যা, কুরআন ও হাদিস থেকে উৎসারিত। এ সংস্কৃতি ধর্ম ও কর্মের সমন্বিত রূপ। এতে ইহকালীন ও পরকালীন জীবন একই সূত্রে গাঁথা। এর দ্বারা ইসলামি সংস্কৃতির কথা বোঝানো হয়েছে। বস্তুত ইসলামি সংস্কৃতি মানব জীবনের সামগ্রিক অজ্ঞানে বিস্তৃত ও ব্যাপৃত। এটি একটি বিশ্বজনীন সংস্কৃতি। সার্বজনীন ভ্রাতৃত্ব ও সর্বজনীন নীতির ওপর এর ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত এবং এ সংস্কৃতি দুনিয়া ও আখিরাতের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে। আল্লাহ তাঁর এমন বান্দাকে অপছন্দ করেন, যে দুনিয়া ও আখিরাতের কর্ম থেকে উদাসীন থাকে। (মিশকাত)

সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, ইসলামি সংস্কৃতি একটি ভারসাম্যপূর্ণ সংস্কৃতি।

#

প্রত্যেক জাতির জন্য তাদের সংস্কৃতি অস্তিত্বের রক্ষাকবচ- এ কথাকে তুমি কি সমর্থন কর? বিশ্লেষণ কর।

প্রত্যেক জাতির জন্য তাদের সংস্কৃতি অস্তিত্বের রক্ষাকবচ, এ কথাকে আমি সমর্থন করি।

সংস্কৃতি হলো কোনো জাতির পরিচালিত পরিমার্জিত কার্যকলাপের বহিঃপ্রকাশ। এটা কোনো জাতির রক্ষাকবচ। উদ্দীপকে একথাই বলা হয়েছে।

উদ্দীপক অনুসারে সংস্কৃতি একটি জাতির জন্য অস্তিত্বের রক্ষাকবচ। বস্তুত সংস্কৃতি অত্যন্ত শক্তিশালী একটি অস্ত্র। অনেক সময় বিজয়ী জাতির সাংস্কৃতিক প্লাবনে বিজিত জাতির অস্তিত্ব পর্যন্ত বিলুপ্ত হয়ে যায়। ইংরেজরা আমাদের স্বাধীনতার ওপরই আক্রমণ চালায়নি বরং তারা আমাদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির ওপরও মারাত্মক আঘাত হেনেছিল।

মুসলিমদের অস্তিত্ব ও স্বাতন্ত্র্য রক্ষার জন্য মহানবি (স.) অন্যদের অনুকরণ করতে নিষেধ করেন। তিনি বলেন, "যে ব্যক্তি অন্য জাতির অনুকরণ করে তাকে সেই জাতির অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করা হবে।" অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় প্রতীক গ্রহণ করা মুসলিমদের জন্য কড়াকড়িভাবে নিষিদ্ধ।

হিন্দুদের অনুকরণে তিলক কাটা, পৈতা পরিধান করা, বিষ্টানদের অনুকরণে ক্রস পরিধান করা, মোমবাতি জ্বালিয়ে জন্মদিন পালন করা, প্রদীপ জ্বালিয়ে মঙ্গল প্রার্থনা করা ইত্যাদি নিষিদ্ধ। এসব ইসলামি সংস্কৃতির এবং ইসলামি আকিদা বিশ্বাসের পরিপন্থি কাজ বলে বিবেচিত।

অতএব, আমাদের ধর্মীয় আকিদা-বিশ্বাস, আমল, অনুভূতি উজ্জীবিত রাখার জন্য ইসলামি সংস্কৃতি অনুসরণ করা অপরিহার্য।