- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- প্রাক ইসলামি আরব
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
সিন্ধু সভ্যতা প্রাচীন সভ্যতাগুলোর অন্যতম। এটি একটি নগরভিত্তিক সভ্যতা। তাদের লিখন পদ্ধতি ছিল চিত্রভিত্তিক। সিন্ধু সভ্যতা নগরসভ্যতা হলেও তারা উন্নত কৃষিব্যবস্থার প্রচলন করেছিল। যব, গম, তুলাসহ নানা প্রকার ফসল তারা উৎপন্ন করত। ফলন বৃদ্ধির জন্য জমিতে বাঁধ দিত। বন্যার পানিকে সংরক্ষণ করে কাজে লাগাত। আবার জলসেচের জন্য নালা কেটে পানি এনে ফসলে দিত।
সিন্ধু সভ্যতার কৃষিব্যবস্থা মিসরীয় সভ্যতার কৃষিব্যবস্থারই প্রতিচ্ছবি- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
পদ্ধতিগত দিক থেকে উদ্দীপকে বর্ণিত সিন্ধু সভ্যতার কৃষি ব্যবস্থা মিসরীয় কৃষি ব্যবস্থারই প্রতিচ্ছবি।
কৃষিকাজের জন্য পানিসেচ ও উর্বর ভূমি প্রয়োজন হয়। নদী অববাহিকায় এ দুইয়ের প্রাপ্তি সুনিশ্চিত হয়। ফলে কৃষি উৎপাদনের জন্য নদীর পার্শ্ববর্তী ভূমি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত। আলোচ্য মিসর ও সিন্ধু সভ্যতা তার প্রমাণ বহন করে।
প্রতিবছর গ্রীষ্মকালের শুরুতে মধ্য আফ্রিকায় প্রচুর বৃষ্টিপাতের ফলে নীলনদে প্লাবন সৃষ্টি হতো। ফলে এর পানি দুকূল ছাপিয়ে যেত। এতে পাহাড়ি মাটি, বরফগলা পানি অজস্র জলজ উদ্ভিদ, আবাদি জমিতে এসে পড়ত। এতে জমিতে প্রচুর পলি জমা হতো, যা জমির উর্বরাশক্তি দ্বিগুণ বাড়িতে দিত।
নীল নদের পানিবাহিত এ পলিমাটিতে মিসরীয়রা চাষাবাদ করে প্রচুর ফসল ফলাতে সমর্থ হয়েছিল। সে সময় কৃষি উৎপাদন হতো প্রচুর পরিমাণে। যার কারণে মিসরের ব্যবসা-বাণিজ্যেও সমৃদ্ধি এসেছিল। আর এ কৃষি উৎপাদন প্রাচীন মিসরীয়দের প্রধান জীবিকা হওয়ায় এ সময় কৃষিকে কেন্দ্র করেই বসতি স্থাপন, বাঁধ নির্মাণ কৌশল, সেচ ব্যবস্থা ও ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশ ঘটেছিল। প্রাচীন মিসরীয়রা কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি সাধন করেছিল। উদ্দীপকে বর্ণিত সিন্ধু সভ্যতাও সিন্ধু নদকে ঘিরে গড়ে উঠেছে। সিন্ধুর অববাহিকায় তারা কৃষির ব্যাপক প্রচলন করেছিল। সিন্ধুর পানি তাদের কৃষি কাজের মূল উৎস ছিল। নদীতে বাঁধ দিয়ে পানি ধরে রেখে তারা কৃষিকাজে ব্যবহার করত, যা মিসরীয় সভ্যতারই অনুরূপ।
পরিশেষে বলা যায়, নদীকেন্দ্রিক সভ্যতা হওয়ায় উদ্দীপকের সিন্ধু এবং প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতা উভ্যাই কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি লাভ করেছিল।

