- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- প্রাক ইসলামি আরব
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা শিক্ষাসফরে গিয়ে প্রতিবেদনে লিখল-এলাকাটির আবহাওয়া শুষ্ক, উষ্ণ ও রুক্ষ। এখানকার অধিকাংশ মরুভূমি। বাকি এলাকাগুলোর মধ্যে সামান্যতম অংশে সমভূমি, মালভূমি ও পর্বতমালা রয়েছে। মূল ভৌগোলিক অবস্থান ও বৈশিষ্ট্যের কারণে এরকম প্রাকৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এমন ভৌগোলিক পরিবেশ এ অঞ্চলের অধিবাসীদের ওপর বিশেষ প্রভাব বিস্তার করেছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত অঞ্চলের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ে উল্লিখিত কোন অঞ্চলের মিল আছে? ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকে বর্ণিত অঞ্চলের সাথে আমার পাঠ্যপুস্তকের আরব উপদ্বীপের মিল আছে।
ইসলামের জন্মভূমি আরব দেশ পৃথিবীর সর্ববৃহৎ উপদ্বীপ। এর আবহাওয়া অত্যন্ত শুষ্ক, উত্তপ্ত ও রুক্ষ। এটি ভূ-প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে তিন ভাগে বিভক্ত, যথা- পাহাড়ি মরু এবং উর্বর অঞ্চল। উদ্দীপকে এ বিষয়টিই লক্ষণীয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত অঞ্চলটিও পৃথিবীর সর্ববৃহৎ উপদ্বীপ এবং এর আবহাওয়া অত্যন্ত শুষ্ক, উষ্ণ ও বুক্ষ। এখানকার অধিকাংশ এলাকা মরুভূমি এবং বাকি এলাকার মধ্যে সামান্য অংশে সমভূমি, মালভূমি ও পর্বতমালা রয়েছে। আরব উপদ্বীপেও এ রকম ভৌগোলিক অবস্থা ও বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এখানকার অধিকাংশ এলাকা মরুময় এবং অনুর্বর। এ মরু অঞ্চল প্রায়ই শুষ্ক থাকে। অতিরিক্ত উষ্ণতা ও ভূমির অনুর্বরতার জন্য এ অঞ্চল বসবাসের অনুপোযোগী। মরু অঞ্চল ছাড়া আরবের উত্তরে নজদ, হেজাজ প্রদেশ, ওমান ও হাজরামাউতে অনেক পাহাড়-পর্বত ও উচ্চ মালভূমি পরিদৃষ্ট হয়। আরব ভূখন্ডে উর্বর তৃণভূমি অঞ্চলও বিদ্যমান। এ অঞ্চলই বসবাসের উপযোগী। বৈচিত্র্যময় ভৌগোলিক অবস্থানের জন্য এ উপদ্বীপের জনগণের জীবনযাত্রায় অনেক পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। সুতরাং উদ্দীপকে বর্ণিত অঞ্চলটিকে আরব উপদ্বীপ বলাই যুক্তিযুক্ত।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
সর্ববৃহৎ পিরামিডের নাম কী?
সর্ববৃহৎ পিরামিডের নাম ফারাও খুফুর পিরামিড।
উকাজ মেলা সম্পর্কে ব্যাখ্যা করো।
প্রাক-ইসলামি আরবে মক্কার নিকটবর্তী উকাজ নামক স্থানে যে বার্ষিক মেলার আয়োজন করা হতো, তা-ই উকাজ মেলা নামে পরিচিত ছিল।
উকাজ মেলায় তৎকালীন আরবীয়দের সাংস্কৃতিক জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠত। এ মেলায় নানা দ্রব্য-সামগ্রীর কেনা-বেচা ছাড়াও কবিতা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হতো। শ্রেষ্ঠ সাতটি কবিতাকে পুরস্কৃত করা হতো এবং এগুলো সোনালি হরফে লিপিবদ্ধ করে কাবার দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হতো, যা 'সাবায়ে মুয়াল্লাকাত' নামে পরিচিত ছিল। অর্থাৎ উকাজ মেলা প্রাক-ইসলামি আরবের সংস্কৃতি চর্চার একটি উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠান ছিল।
উদ্দীপকে বর্ণিত অধিবাসীদের জীবনাচরণের ওপর ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের প্রভাব ব্যাপক- উক্তিটি পর্যালোচনা করো।
উক্ত অঞ্চল তথা আরব উপদ্বীপের অধিবাসীদের জীবনাচরণের ওপর এর ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের প্রভাব ব্যাপক- মন্তব্যটি যথার্থ।
আরব উপদ্বীপের অধিবাসীদের দেহ, মন, চরিত্র ও সকল প্রকার কর্মকান্ডের ওপর বৈচিত্র্যময় ভৌগোলিক অবস্থান ও পরিবেশের ওপর যথেষ্ট প্রভাব লক্ষ করা যায়। দিগন্ত বিস্তৃত মরুর মুক্ত পরিবেশ এর অধিবাসীদের করে তুলেছে স্বাধীনচেতা ও স্বতন্ত্রমনা। শুষ্ক আবহাওয়া, অনাবৃষ্টি, ভূমির অনুর্বরতা, পানির অভাব, চারণভূমির স্বল্পতা প্রভৃতি প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিবেশের সাথে তাদের প্রতিটি মুহূর্ত সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে হয়। আর ভৌগোলিক পরিস্থিতির প্রভাবে এর অধিবাসীরা সংগ্রামী হয়ে ওঠে। শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়া এবং খাদ্য ও পানীয়ের অভাব আরবদের দুর্ধর্ষ ও সংঘাতময় জীবনযাত্রায় প্ররোচিত করেছে, যা তাদেরকে যুদ্ধপ্রিয় জাতিতে পরিণত করেছে। অন্যদিকে পশুচারণ ছিল প্রাচীন আরবীয়দের জীবিকার প্রধান অবলম্বন। পশুপালন ও খাদ্যের সন্ধানে তাদের এ স্থান থেকে অন্য স্থানে কাফেলাবদ্ধভাবে যেতে হতো। এর ফলে তারা গোত্রবন্ধ হয় এবং তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে আসাবিয়া বা গোত্রপ্রীতি। ভৌগোলিক অবস্থা ও আবহাওয়ার প্রভাবে তথা লু হাওয়া এবং উত্তপ্ত বালু মিশ্রিত আবহাওয়া থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তারা ঢিলেঢালা লম্বা আলখাল্লার পশমের জোব্বা ও পাগড়ি পরিধান করত। অপরদিকে ভৌগোলিক প্রভাবে আরবদের মধ্যে মুক্ত চিন্তার উন্মেষ ঘটে, যা তাদেরকে কাব্যচর্চায় অনুপ্রেরণা যোগায়। সুতরাং বলা যায়, বৈচিত্র্যময় ভৌগোলিক পরিবেশের প্রভাবে আরবজাতির জীবনাচরণে বৈচিত্র্য পরিলক্ষিত হয়।

