- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- প্রাক ইসলামি আরব
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
চৌধুরী সাহেব একটি নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনীত হয়ে একটি গঠনতন্ত্র তৈরি করেন। সে গঠনতন্ত্রে সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি কর্তব্যে অবহেলা, অন্যায় কাজে লিপ্ত হওয়া, অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া এবং অনৈতিক কাজে জড়িতদের বহিষ্কারের কথাও লিপিবদ্ধ করা হয়। এছাড়া তিনি উক্ত প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সম্মুখে একটি 'ন্যাচারাল ঘড়ি' স্থাপন এবং প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষাকার্যক্রম যুগোপযোগী করার জন্য একটি 'বার্ষিক শিক্ষাকর্মসূচি' প্রকাশ করেন, যা ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের কর্মকাণ্ড পরিচালনায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
শুধু নিয়ম-নীতি প্রণয়নই নয়, বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও সুমেরীয়রা অনেক অবদান রেখেছিল- উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
শুধু নিয়ম-নীতি প্রণয়নই নয়, বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও সুমেরীয়রা ব্যাপক অবদান রেখেছিল।
বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে সুমেরীয়রা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। তারা বছরকে ১২ মাস, দিন-রাত্রিকে ঘণ্টায় এবং ঘণ্টাকে মিনিটে বিভক্ত করে। দিন এবং রাতের সময় নিরূপণের জন্য সুমেরীয়রা পানিঘড়ি ও স্বর্ণঘড়ি আবিষ্কার করে। তারা ২৪ ঘন্টায় এক দিন, ৭ দিনে এক সপ্তাহ এবং ৬০ মিনিটে এক ঘণ্টার নিয়ম প্রবর্তন করে। তারা গুণ, ভাগ, বর্গমূল ও ঘনমূলের ব্যবহার জানত। তারা '০' (শূন্য)-এর আবিষ্কার করে। কাপড় ও জমি পরিমাপের জন্য সুমেরীয়রা কাঠের পরিমাপদণ্ড ব্যবহার করত।
উদ্দীপকে গভর্নিং বডির সভাপতি নিয়মনীতি প্রণয়নের পাশাপাশি তার সদস্যদেরকে বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তোলার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। একইভাবে সুমেরীয়রাও আইন প্রণয়নের সাথে সাথে জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে ব্যাপক অবদান রেখেছিল। সুমেরীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সূর্য ও চন্দ্রের আপেক্ষিক অবস্থিতি নির্ণয় করেছিল এবং গ্রহের সময় নিরূপণ করতে সক্ষম হয়েছিল। পরিবর্তনশীল তারকারাজির প্রতি তাদের আগ্রহ থাকায় নভোমণ্ডল সম্বন্দ্বে জ্ঞান প্রসার লাভ করে। তারা রাশিচক্রকে বারো ভাগে ভাগ করে নক্ষত্রপুঞ্জের নামকরণ করে। সুমেরীয়রা চন্দ্র ও সূর্য গ্রহণ সম্বন্ধেও ভবিষ্যদ্বাণী করতে সক্ষম ছিল। সুমেরীয়দের চিকিৎসাশাস্ত্র জাদুবিদ্যা দ্বারা প্রভাবিত ছিল। খ্রিষ্টপূর্ব ২২০০ অব্দে সুমেরীয় চিকিৎসকেরা বেশ কিছু রসায়নের গুণ ও প্রণালী নির্ণয় করে। ভেষজ চিকিৎসাশাস্ত্রেও তারা অধিক সাফল্য দেখিয়েছে।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষাপটে বলা যায় যে, আইনের পাশাপাশি বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে সুমেরীয়রা যুগান্তকারী পরিবর্তন সাধন করেছিল।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
'ইয়ামেন' শব্দের অর্থ কী?
'ইয়ামেন' শব্দের অর্থ সুখী বা সৌভাগ্যবান।
কিউনিফর্ম বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
কিউনিফর্ম হলো সুমেরীয়দের আবিষ্কৃত লিখন পদ্ধতি।
সভ্যতার প্রথম দিকে সুমেরীয় লিপি ছিল মিসরীয়দের মতো চিত্রলিপিভিত্তিক। পরবর্তীকালে নিজেদের লেখাকে গতিশীল করতে তারা নতুন লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন করে, যা 'কিউনিফর্ম' (Cuneiform script) বা কীলকাকর নামে পরিচিত। সুমেরীয়রা কাদামাটির প্লেটে খাগের কলম (Reed Pen) দিয়ে কৌণিক কিছু রেখা ফুটিয়ে তুলত। খাঁজকাটা চিহ্নগুলো দেখতে অনেকটা ছিল তীরের মতো। কিউনিফর্মকে বলা হয় অক্ষরভিত্তিক চিত্রলিপি। এ লিপি বামদিক থেকে ডানদিকে লেখা হতো।
উদ্দীপকে উল্লিখিত সভাপতির গঠনতন্ত্রের সাথে প্রাচীন সুমেরীয় সম্রাট ভুগির কোন কার্যক্রমটির সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকে উল্লিখিত সভাপতির নিয়মনীতির সাথে প্রাচীন সুমেরীয় সম্রাট ডুঙ্গির প্রণীত আইনের সাদৃশ্য রয়েছে।
সুশৃঙ্খল ও সুন্দর সমাজব্যবস্থার জন্য আইনের কোনো বিকল্প নেই। সুমেরীয় সভ্যতায় এজন্য আইনের প্রবর্তন করা হয়েছিল। একই উদ্দেশ্যে অর্থাৎ শৃঙ্খলা রক্ষার্থে উদ্দীপকেও একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য আইনের ন্যায় কিছু নিয়ম-নীতি প্রবর্তিত হয়েছে। উদ্দীপকের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি যেমন সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা লিপিবদ্ধ করে একটি গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করেন, তেমনি সুমেরীয় সম্রাট ভুঙ্গি সাম্রাজ্য পরিচালনার জন্য সুমেরীয় আইন প্রণয়ন করেন। ভুঙ্গি তার সাম্রাজ্য সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য স্থানীয় প্রচলিত আইনগুলো সংগ্রহ করে সংকলন করেন। প্রতিটি অপরাধের জন্য অপরাধীকে সমান কষ্টদায়ক সাজা প্রদান সুমেরীয় ফৌজদারি আইনের বিধান ছিল। এক্ষেত্রে চোখের বদলে চোখ, অঙ্গের বদলে অজা কর্তনের বিধান ছিল। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি নিজেকে বা তার পরিবারকে উদ্যোগী হয়ে ন্যায়বিচারের প্রার্থনা করতে হতো। বিচারালয় তখন বাদি ও বিবাদির মধ্যে মধ্যস্থতাকারী বা সংযোগ স্থাপনকারী হিসেবে কাজ করতো। উদ্দীপকের সভাপতিও তার গভর্নিং বডি পরিচালনার জন্য উক্ত সম্রাটের ন্যায় কিছু নিয়ম তৈরি করেছেন। এ নিয়মে কর্তব্যে অবহেলা ও অন্যায়ের জন্য শাস্তির বিধানও রয়েছে। তাই এ নিয়মনীতিকে সম্রাট ভুক্তির প্রণীত আইনের সাথে তুলনা করা যেতে পারে।

