- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- প্রাক ইসলামি আরব
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
পদ্মা নদীর সাথে আজীবন সংগ্রাম করে আসছে সুজন। সে হচ্ছে মুন্সীগঞ্জের বাসিন্দা। এ এলাকা হচ্ছে তার বাপ-দাদার ভিটে। সিলেটের বন্ধু মাহফুজ তার এলাকায় বেড়াতে গিয়ে জানতে পারল, প্রতিবছর জুন হতে অক্টোবর মাসের মধ্যে পদ্মা নদীর উভয় তীর প্লাবিত হয়। তবে প্লাবনের ফলে পলিমাটির গুণে প্রচুর শস্য জন্মে।
উদ্দীপকে মুন্সীগঞ্জের কৃষি ব্যবস্থার যে বর্ণনা দেয়া হয়েছে তা কোন প্রাচীন সভ্যতার কৃষি ব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকে মুন্সীগঞ্জের কৃষিব্যবস্থার যে বর্ণনা দেয়া হয়েছে তা প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার কৃষিব্যবস্থায় সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কৃষিকাজের জন্য উর্বর ভূমির কোনো বিকল্প নেই। নদী তীরবর্তী অঞ্চলের জমি সাধারণত উর্বর হয়। এ কারণে বর্ষার সময় নদী প্লাবিত হলে জমিতে উর্বর পলিমাটি জমে। এ প্রাকৃতিক ঘটনাটিই উদ্দীপক ও মিসরীয় সভ্যতার কৃষিব্যবস্থার মধ্যে মিল সৃষ্টি করেছে। উদ্দীপকে উল্লিখিত মুন্সীগঞ্জ পদ্মা নদী বিধৌত অঞ্চল। প্রতিবছর জুন হতে অক্টোবর মাসের মধ্যে এই পদ্মা নদীর উভয় তীর প্লাবিত হয়। প্লাবনের ফলে জমিতে পলিমাটি জমে এবং সেখানে প্রচুর শস্য জন্মে। নীল নদের অববাহিকায় অবস্থিত মিসরীয় সভ্যতায়ও এরূপ পরিস্থিতি দেখা যায়। মিসরে প্রতিবছর গ্রীষ্ম কালের শুরুতে আফ্রিকার মধ্য অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট প্লাবনে নীল নদের দুকূল ছাপিয়ে যেত। এ সময় পাহাড়ি মাটি, বরফগলা পানি ও অজস্র জলজ উদ্ভিদ আবাদি জমিতে এসে পড়ত। এতে জমিতে পলি জমে প্রচুর ফসল উৎপাদিত হতো। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, নদীবাহিত পলিমাটির কারণেই মুন্সীগঞ্জ ও প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার কৃষিব্যবস্থা উন্নত রূপ লাভ করেছে।

