- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- প্রাক ইসলামি আরব
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
জাতীয় মসজিদের খতিব খুতবায় বলেছেন যে, এমন একটা সময় ছিল যখন আরবে কোনো ধর্মের বালাই ছিল না। মূর্তিপূজা, সৌরপূজা, জড়পূজায় লিপ্ত ছিল আরববাসী। সেই আরবে আমরা প্রতি বছর হজ করতে যাই। ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক উক্ত দেশে জন্মগ্রহণ করেন।
'প্রাক-ইসলামি আরবে একেশ্বরবাদী সম্প্রদায়ও বিদ্যমান ছিল'-উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।
প্রাক-ইসলামি আরবে একেশ্বরবাদী সম্প্রদায়ও বিদ্যমান ছিল-উক্তিটি যথার্থ।
প্রাক-ইসলামি আরবে বহু ঈশ্বরের ধারণা প্রচলিত ছিল। বিভিন্ন ধরনের দেব-দেবীর পূজায় তারা সারাক্ষণ মগ্ন থাকত। সে সময় সমগ্র আরববাসীরা নিজেদের পৌত্তলিকতায় নিমজ্জিত রেখেছিল কিন্তু এ ধর্মীয় অরাজকতার যুগেও আরবের এক শ্রেণির মানুষ একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী ছিলেন।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, প্রাক-ইসলামি আরবের লোকেরা মূর্তিপূজা, সৌরপূজা, জড়পুজায় লিপ্ত ছিল। এরূপ তমসাচ্ছন্ন অবস্থায়ও আরবের মদিনা নগরীর মুষ্টিমেয় লোক আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাসী ছিলেন। তারা স্বতন্ত্রভাবে ধর্মীয় জীবনযাপন করত। তারা পাপাচারে নিমজ্জিত ছিল না এবং মদ, নারী ও জুয়ার মোহে তারা আসক্ত ছিল না। বিশেষ করে পৌত্তলিকতা ও প্রকৃতিপূজায় তারা কখনই অংশগ্রহণ করত না। এই সম্প্রদায়ই ইতিহাসে হানিফ নামে পরিচিত ছিল। এরা একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী ছিলেন। তারা হযরত ঈসা (আ) ও হযরত ইদরিস (আ) এর অনুসারী ছিলেন। বিবি খাদিজার চাচাতো ভাই ওরাকা বিন নওফেল, উমাইয়া বিন আবি সালত ও জায়েদ প্রমুখ এ সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন। তারা যাবতীয় মোহ উপেক্ষা করে ঐ অরাজকতা পরিস্থিতিতেও এক আল্লাহর উপাসনা করতেন।
উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, প্রাক-ইসলামি আরবে পৌত্তলিকতাসহ সমস্ত পাপাচার উপেক্ষা করে একেশ্বরবাদী সম্প্রদায় হযরত ইবরাহিম (আ)-এর ধর্ম অনুসরণ করতেন।

