- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- প্রাক ইসলামি আরব
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
সিরিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশৃঙ্খলাপূর্ণ এবং হতাশাব্যাঞ্জক। দেশটিতে শাস্তি এবং নিরাপত্তার লেশমাত্র নেই বললেই চলে। খুনের বদলে খুন, রক্তের বিনিময়ে রক্ত এসব প্রথা এখানে প্রচলিত। বিভিন্ন সহিংস ঘটনায় এখানে প্রতিনিয়ত জানমালের বিপুল ক্ষতি সাধিত হয়। সিরিয়ার বিদ্রোহী গ্রুপ ফ্রি সিরিয়ান আর্মির প্রতিষ্ঠাতা কর্নেল রিয়াদ আল-আসাদ গত মার্চ মাসে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে পা হারিয়েছেন। সিরিয়ার জনগণ জানে না এ যুদ্ধের অবসান হবে কবে।
উদ্দীপকে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়টির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকে আমার পাঠ্যবইয়ের প্রাক-ইসলামি যুগের রাজনৈতিক অবস্থার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
কোনো অঞ্চল বা রাষ্ট্রে একাধিক গোত্র বা দল থাকলে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য হওয়াটা স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে পরমতসহিষ্ণুতা না থাকলে সামান্য বিষয় নিয়েই গোত্রে গোত্রে সংঘাত হতে পারে। আর গোত্রীয় সংঘাত অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্ম দেয়। ফলে শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। যেমনটি প্রাক-ইসলামি আরব এবং উদ্দীপকের সিরিয়ায় লক্ষ করা যায়।
প্রাক-ইসলামি যুগে আরবে তুচ্ছ কারণেই গোত্রীয় কলহের সূত্রপাত হতো এবং এর জের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বংশানুক্রমে চলত। যেমন- মদিনার আউস ও খাজরাজ গোত্রের মধ্যে 'বুয়াসের যুদ্ধ' এবং মক্কার কুরাইশ ও হাওয়াযিন গোত্রদ্বয়ের মধ্যে 'হারবুল-ফুজ্জার' যুদ্ধ (৫৮৪-৫৮৮ খ্রি.) ব্যাপক ও দীর্ঘস্থায়ী হয়েছিল। অনবরত যুদ্ধ-বিগ্রহের এ সময়কে 'আইয়াম আল-আরব' বলা হতো। পানির নহর, তৃণভূমি ও গবাদি পশুকে উপলক্ষ করে এক গোত্রের সঙ্গে অপর গোত্রের যুদ্ধের সূত্রপাত হতো। উদ্দীপকেও সিরিয়া সংঘাতের নেতিবাচক ফলাফল তুলে ধরা হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী এ সংঘাতের কারণেই সেখানে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে পড়েছে। সুতরাং প্রাক-ইসলামি আরবের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক অবস্থার সাথে সিরিয়ার রাজনৈতিক অবস্থার তুলনা করা চলে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
মিশরীয়দের লিখন পদ্ধতির নাম লিখ।
মিশরীয়দের লিখন পদ্ধতির নাম হায়ারোগ্লিফিক।
উক্ত বিষয়টির সাথে গোত্রদ্বন্দ্ব জড়িত ছিল- মতামত দাও।
প্রাক-ইসলামি যুগের রাজনীতির সাথে গোত্রদ্বন্দ্ব জড়িত ছিল বলে আমি মনে করি।
ইসলামপূর্ব যুগে আরবের অধিবাসীরা দুই শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল। যথা-শহরের বাসিন্দা ও মরুবাসী যাযাবর। শহরবাসী আরবদের রাজনৈতিক অবস্থা কিছুটা ভালো থাকলেও মরুবাসী আরবদের রাজনৈতিক অবস্থা ছিল নৈরাজ্যজনক।
গোত্রপ্রীতি ছিল বেদুইন আরবদের প্রধান বৈশিষ্ট্য। গোত্রপ্রীতিকে কেন্দ্র করে আরবদের মাঝে সর্বদা সংঘাত লেগেই থাকত। পানির নহর, গবাদি পুশু, তৃণভূমি দখল, ঘোড়দৌড়ের মতো অতি সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক গোত্রের সাথে অন্য গোত্রের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হতো। প্রত্যেক গোত্রে একজন করে গোত্রপতি থাকত যাকে শেখ বলা হতো। যুদ্ধ সন্ধি, ব্যবসায়িক যোগাযোগ প্রভৃতি ক্ষেত্রে শেখের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত ছিল। সরকারপদ্ধতি বা শাসনপদ্ধতি সম্বন্ধে আরববরা ছিল সম্পূর্ণ অজ্ঞ। তৎকালীন সমাজে আইনের শাসন বলতে কিছু ছিল না। ফলে 'জোর যার মুল্লুক তার' নীতি প্রচলিত ছিল। রক্তের বদলে রক্ত, চোখের বদলে চোখ, দাঁতের বদলে দাঁত নীতিতে তারা বিশ্বাসী ছিল। আরবদের এই গোত্রপ্রীতিকে বলা হয় আসাবিয়া। মক্কার নেতৃত্ব ইসলামপূর্ব আরবে গোত্রীয় কমনওয়েলথ গড়ে উঠেছিল। ঐতিহাসিক বালাজুরির মতে, আরবের পার্শ্ববর্তী সিরিয়া, ইয়ামেন, আম্মান প্রভৃতি অঞ্চলের রাজন্যবর্গের সাথে বিভিন্ন শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হওয়ায় সত্যিকার অর্থেই আরবে একটি গোত্রীয় কমনওয়েলথ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল
উপরের আলোচনার আলোকে বলা যায়, প্রাক-ইসলামি যুগের রাজনীতিতে গোত্রম্বন্দ্বের উপস্থিতি ছিল।

