• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • প্রাক ইসলামি আরব
প্রাক ইসলামি আরব

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

আরাফাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ছাত্র। সে একটি সভ্যতা নিয়ে গবেষণা করছিল, যে সভ্যতার লোকজন সর্বপ্রথম লিখন পদ্ধতির আবিষ্কার করে। সে গবেষণা করে পায় যে স্থাপত্য শিল্পে তাদের দক্ষতার জন্য তারা ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ নির্মাতা হিসেবেও পরিচিত।

উদ্দীপকে আরাফাত কোন সভ্যতা নিয়ে গবেষণা করছিল? ব্যাখ্যা দাও।

উদ্দীপকে আরাফাত প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতা নিয়ে গবেষণা করেছিল।

প্রাচীন সভ্যতাসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো মিসরীয় সভ্যতা। আর ইতিহাসে এ সভ্যতার প্রধান অবদান হলো লিখন পদ্ধতির আবিষ্কার। মিসরীয়দের এ লিখন পদ্ধতি আধুনিক বিশ্ব সভ্যতাকে সমৃদ্ধ করেছে। তবে মিসরীয়রা স্থাপত্যের ক্ষেত্রেও অসামান্য অবদান রেখেছে। উদ্দীপকেও মিসরীয় সভ্যতার প্রতি ইজ়িাত করা হয়েছে।

উদ্দীপকে দেখা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আরাফাত একটি সভ্যতা নিয়ে গবেষণা করছিল। সে সভ্যতার লোকজন সর্বপ্রথম লিখন পদ্ধতির আবিষ্কার করে। এছাড়া তারা স্থাপত্যশিল্পে অসামান্য অবদানের জন্য ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ নির্মাতা হিসেবেও পরিচিত। আর আরাফাতের গবেষণাকৃত এ সভ্যতাটি নিশ্চিত ভাবেই প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতা। কেননা সভ্যতার ইতিহাসে মিসরীয়রাই সর্বপ্রথম লিখন পদ্ধতির আবিষ্কার করে। যা 'হায়ারোগ্লিফিক' নামে পরিচিত। যার অর্থ পবিত্র লিপি। এ পদ্ধতিতে ২৪টি চিহ্ন ছিল। প্রতিটি চিহ্ন বিশেষ অর্থ নির্দেশ করত। প্রতিটি চিহ্ন পাশাপাশি খোদিত করে শব্দ বা বাক্য গঠন করে মনের ভাব প্রকাশ করা হতো। এছাড়াও মিসরীয়রা স্থাপত্যশিল্পে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। এক্ষেত্রে মিসরীয়দের শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো 'পিরামিড'। পিরামিড হলো পাথরের তৈরি আকাশচুম্বী বিশাল এক অন্যান্য শিল্পে মিসরীয়দের বাস্তবধর্মী ও সমৃদ্ধ ও সমৃদ্ধ শিল্পকলার নিদর্শন পাওয়া যায়। তাই বলা যায়, আরাফাতের গবেষণায় প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতারই প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

আলেকজান্ডারের শিক্ষক কে ছিলেন?

আলেকজান্ডারের শিক্ষক ছিলেন এরিস্টটল।

#

উক্ত সভ্যতার লোকজন ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ নির্মাতা হিসেবে পরিচিত- কথাটি মূল্যায়ন কর।

উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার লোকজন ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ নির্মাতা হিসেবে বিশ্বে পরিচিত লাভ করেছিল।

বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসে মিসরীয় সভ্যতার অবদান অসামান্য। পৃথিবীর ইতিহাসে তারা শ্রেষ্ঠ নির্মাতা ছিল। কেননা পাথর কেটে প্রকাণ্ড সৌধ বানাতে তারা ছিল সিদ্ধহস্ত। বিশেষ করে পিরামিড নির্মাণের ক্ষেত্রে তারা শ্রেষ্ঠ স্থপতি হিসেবে বিবেচিত হয়। মৃত ফারাওয়ের দেহ ও তাদের সঙ্গে দেওয়া মূল্যবান সামগ্রীর নিরাপত্তার জন্য তারা এসব পিরামিড নির্মাণ করেছিল। বিশালাকার পিরামিড তাদের জ্যামিতিক জ্ঞানের পরিচয় বহন করে। সবচেয়ে বিখ্যাত পিরামিড ছিল ফারাও খুফুর পিরামিড। পিরামিড এক সময় সপ্তাশ্চর্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। পিরামিডের পাশাপাশি তাদের স্থাপত্যশিল্পে জায়গা করে নেয় ধর্মমন্দির। মূলত পুরোহিতদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তারা অনেক বৃহৎ সুদৃশ্য ধর্মমন্দির নির্মাণ করেছিল। এগুলো অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ হলেও এটি নির্মাণে প্রচুর ব্যয় হতো। ধর্মমন্দির গুলোর মধ্যে কর্নাফ ও লাকজ ছিল বিখ্যাত।

পিরামিড ছাড়া আরও একটি স্থাপত্যশিল্প ছিল, যা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। বিশেষ করে পিরামিড গড়ার সাথে সাথেই মিসরে ভাস্কর্য শিল্পের বিকাশ ঘটে। বিভিন্ন সমাধিসৌধ, ধর্মমন্দির ও প্রাসাদের প্রবেশপথে ভাস্কর্য বিদ্যমান ছিল। স্ফিংকস ছিল মিসরীয় ভাস্কর্যের প্রধান উদাহরণ। এছাড়াও ভাস্করগণ নরম পাথরে মানুষের মূর্তি গড়তেন। ফারাও ইখনাটন ও রানি নেফারতিতির মূর্তি এর উজ্জ্বল নিদর্শন।

উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রমাণিত হয়, পৃথিবীর ইতিহাসে মিসরীয়রাই শ্রেষ্ঠ নির্মাতা।