• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • প্রাক ইসলামি আরব
প্রাক ইসলামি আরব

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

পাহাড়পুরের গাবতলী গ্রামে আলাল সাহেবের দুটি কন্যা সন্তান। তাদের বয়স ১১ ও ৮ বছর। পুত্র সন্তান না হওয়ায় আলাল তার স্ত্রীর উপর অমানুষিক নির্যাতন চালাতেন। সম্প্রতি সে গোপনে তার বিষয় সম্পত্তি বিক্রি করে তার স্ত্রী ও কন্যাদের ফেলে পার্শ্ববর্তী দেশে চলে যায়। আর মোবাইল ফোনে স্ত্রীকে হুমকি দিয়ে যায় ঐ দেশে গেলে তারা কন্যা সন্তানদের বিক্রি করে দেবে।

ঐ যুগে নারীদেরকে কীভাবে দেখা হতো? মতামত দাও।

ঐ যুগে অর্থাৎ আইয়ামে জাহেলিয়া যুগে কন্যাসন্তানের জন্মদানকে। অপমানজনক এবং নারীদের বিনোদনের বস্তু মনে করা হতো।

প্রাক-ইসলামি যুগে নারীর অবস্থা ছিল সীমাহীন অবমাননাকর ও হৃদয়বিদারক। মানবতাবিবর্জিত জাহেলিয়া যুগে নারীর কোনো মূল্যই ছিল না। তৎকালীন আরব সমাজ সম্পর্কে ঐতিহাসিক খোদাবক্স বলেন 'আরববাসীরা মদ, নারী ও যুদ্ধে লিপ্ত থাকতো।' পুরুষেরা একাধিক বিয়ে করতে ও বিচ্ছেদ ঘটাতে পারতো। এ ব্যাপারে নারীর মতামত বা অনুভূতির কোনো তোয়াক্কাই করা হতো না। নারীর কোনো মানবীয় সত্তা, মানবিক আবেগ-অনুভূতি, পছন্দ-অপছন্দের সামান্যতম স্বীকৃতি ছিল না প্রাক-ইসলামি যুগে কলুষিত আরব সমাজে একজন পুরুষ যেমন একাধিক নারী গ্রহণ করতো তেমনি বংশের বীর্যবান সন্তান লাভের আশায় স্ত্রীকে সম্ভ্রান্ত বংশের বীরপুরুষদের শয্যাশায়িনী হতে বাধ্য করা হতো। পিতা ও স্বামীর সম্পত্তিতে তাদের কোনো অধিকার ছিল না। কন্যার জন্ম সংবাদ দেওয়া হলে তাদের চেহারা অপমানে কালো হয়ে যেত। অসম্মান ও দারিদ্র্যের ভয়ে কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দিতেও তাদের হৃদয় কাঁপত না। পাষন্ড আরব পুরুষেরা এরূপ হত্যাকাণ্ড দর্শনে উল্লাস প্রকাশ করত। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রতীয়মান হয় যে, প্রাক-ইসলামি আরবে নারীদের কোনো মান-সম্মান বা অধিকার ছিল না। তারা সর্বক্ষেত্রে অবহেলিত, নিগৃহীত হয়ে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করত।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()