- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- প্রাক ইসলামি আরব
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
জাওয়াদ নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অনার্স ক্লাসের ছাত্র। সে প্রামীণ অর্থনীতি ও সংস্কৃতির ওপর মাঠকর্মীর কাজ করতে গিয়ে নদীর তীরে অবস্থিত একটি গ্রামে যায়। এখানে সে লক্ষ করে, অধিকাংশ মানুষ কৃষি কাজ নিয়ে ব্যস্ত। মাঠের মাঝে মাঝে ত্রিকোণাকার পাথরের স্থাপনা তার চোখে পড়ে। কৃষকদের সাথে তাদের আয়-রোজগারের কথা বলতে গিয়ে দেখে, তাদের ফসলের যাবতীয় হিসাব একটি খাতায় যোগ-বিয়োগ করে রেখেছে।
উদ্দীপকে জাওয়াদ যে গ্রামে গিয়েছিল সেই গ্রামাবাসীদের জীবনযাপনের সাথে প্রাচীন কোন সভ্যতার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকে জাওয়াদ যে গ্রামে গিয়েছিলেন সেই গ্রামবাসীদের জীবনযাপনের সাথে প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার মানুষের জীবনযাপন পদ্ধতির সাদৃশ্য রয়েছে।
বিশ্বসভ্যতার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিশ্বের অধিকাংশ দেশের মানুষের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি কৃষি। আর এ কৃষিকাজকে গতিময় করার ক্ষেত্রে প্রকৃতির দান হিসেবে নদীর ভূমিকা যে অপরিসীম তার প্রমাণ রয়েছে উদ্দীপকের গ্রামটিতে এবং প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার পরতে পরতে।
নীল নদকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি ছিল কৃষি। আর এ কৃষির উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে নীল নদ। প্রতি বছর জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত নীল নদের উভয় তীর প্লাবিত হয় এবং নদীর উভয় তীর পলিমাটিতে ভরে যায়। পলিমাটি সঞ্চিত উর্বর ভূমিতে নানা ধরনের ফসল উৎপাদন করে মিসরীয়রা তাদের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করে তোলে। নদীতে বাঁধ দিয়ে পানি ধরে রেখে মিসরীয়রা কৃষিকাজকে চালা করে তোলে। উদ্দীপকের গ্রামটিও নদীর তীরে অবস্থিত এবং এ গ্রামের মানুষেরা কৃষিকাজের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নের চেষ্টায় লিপ্ত। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, মিসরীয় সভ্যতার কৃষিজীবী মানুষগুলোর সাথে উদ্দীপকের গ্রামবাসীর জীবনযাপন পদ্ধতির গভীর মিল রয়েছে।

