- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- প্রাক ইসলামি আরব
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
মেজর রাব্বানি জাতিসংঘ শান্তি মিশনের প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে আফ্রিকার একটি দেশে নিযুক্ত হলেন। সেখানে তিনি লক্ষ করলেন বেশির ভাগ মানুষ মদ্যপান, জুয়া খেলা, সুদ খাওয়া ইত্যাদি কাজকে মর্যাদা দিয়ে থাকে। মানুষ দাস হিসেবে বাজারে বিক্রয় হয়। শিশু কন্যাকে জীবিত কবর দেয়া হয়।
উদ্দীপকের আলোকে জাহেলিয়া যুগের সমাজব্যবস্থা বিশ্লেষণ করো।
জাহেলিয়া যুগের সমাজব্যবস্থা ছিল বিশৃঙ্খল ও নৈরাজ্যকর।
ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে আরবের প্রায় একশ বছরকে আইয়ামে জাহেলিয়া বলা হয়। এটি ছিল অজ্ঞতা বা বর্বরতার যুগ। সভ্য সমাজের কোনো বৈশিষ্ট্য তখনকার মানুষের মধ্যে ছিল না। সুষ্ঠু, সুন্দর, সুশৃঙ্খল জীবন সম্পর্কে তারা একেবারেই অজ্ঞ ছিল। তারা সামাজিক অধঃপতনের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল। উদ্দীপকে বর্ণিত দৃশ্যপটও এ ধরনের বৈশিষ্ট্যের ইঙ্গিত প্রদান করছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আফ্রিকার একটি দেশের বেশিরভাগ মানুষ মদ্যপান, জুয়া খেলা, সুদ খাওয়া ইত্যাদি কাজকে মর্যাদা দিয়ে থাকে। সেখানে শিশু কন্যাকে জীবিত কবর দেওয়া হয়। যা আইয়ামে জাহেলিয়া যুগের প্রতিফলন। কেননা প্রাক-ইসলামি আরব সমাজে নারী বা কন্যা শিশুদেরকে অভিশাপ মনে করা হতো। কন্যাসন্তানের বাবা হওয়াকে লজ্জাকর মনে করে তাদেরকে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো। অন্যদিকে, নারীদের কোনো মর্যাদা ছিল না। তাদেরকে ভোগ্যপণ্য ব্যতীত আর কিছুই ভাবা হতো না। আবার মদ, জুয়া ছিল তখনকার সমাজের মানুষের নিত্য দিনের সাথী। ঐতিহাসিক খোদাবক্স এ সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন, মদ, নারী, জুয়া ছাড়া তারা একদিনও চলতে পারত না, যার প্রচলন আফ্রিকার দেশটিতেও লক্ষণীয়।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, আইয়ামে জাহেলিয়া যুগের সমাজব্যবস্থা ছিল অন্ধকারাচ্ছন্ন ও চরমভাবে বিশৃঙ্খল।

