• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • প্রাক ইসলামি আরব
প্রাক ইসলামি আরব

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

'দীপা হত্যার বিচার চাই', 'নারী নির্যাতন বন্ধ কর', 'নিরাপদ সমাজ চাই', অধিকার নিয়ে বাঁচতে চাই প্রভৃতি শ্লোগানে সজ্জিত ব্যানার নিয়ে বিশ্ব নারী দিবসে রাস্তার পাশে মানববন্ধন করছিল সবুজপত্র বিদ্যানিকেতনের ছাত্র-ছাত্রীরা। তারা শিশু, কিশোরী, ছাত্রী, বন্ধু, পুত্রবধূ সবার নিরাপত্তা চায়। তাদের প্রতি পাশবিক, নিষ্ঠুর ও অমানবিক অত্যাচার নির্যাতনের অবসান চায়। তারা নিঃসংকোচে বেড়ে ওঠার নিশ্চয়তা চায়, নারীর প্রতি ঘৃণিত অত্যাচারের অধ্যায়ের সমাপ্তি চায়। মানববন্ধনে অংশ নিয়ে নারীনেত্রী জুলেখা চৌধুরী বলেন যে, নারী নির্যাতন বন্ধের জন্য নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, তাদের লেখা পড়া শেখাতে হবে, সম্পত্তির অধিকার দিতে হবে, তাদের মর্যাদা দিতে হবে। তবেই নারীর প্রতি পাশবিক আচরণ বন্ধ হবে।

জুলেখা চৌধুরীর বক্তব্যটি যেন নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর গৃহীত সংস্কারের আদর্শিক প্রতিফলন।' বিশ্লেষণ করো।

জুলেখা চৌধুরীর বক্তব্যটি যেন নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় হযরত মুহাম্মদ (স)-এর গৃহীত সংষ্কারের আদর্শিক প্রতিফলন- উক্তিটি যথার্থ।

ইসলাম শান্তির ধর্ম। এতে নারী-পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ, নির্বিশেষে সবার সমান অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে। বিশ্বের ইতিহাসে বিশ্বনবি মুহাম্মদ (স) সর্বপ্রথম নারীর সম্মান ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করেন। উদ্দীপকেও নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাসুল (স)-এর ভূমিকার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

উদ্দীপকে দেখা যায়, নারী নেত্রী জুলেখা চৌধুরী নারী নির্যাতন বন্ধের জন্য তাদের সম্পত্তির অধিকার এবং মর্যাদা নিশ্চিতকরণের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। জুলেখা চৌধুরীর কথায় রাসুল (স)-এর নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংস্কারমূলক কাজের প্রতিফলন ঘটেছে। কেননা রাসুল (স) অবহেলিত নারী জাতিকে স্বীয় পিতা ও স্বামীর সম্পদের অংশ প্রদান করেছেন। সকল প্রকার অবৈধ বিবাহ প্রথা বাতিল করে বৈধ বিবাহের প্রচলন করেন। মোহরানা প্রথার মাধ্যমে নারীদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। তিনিই প্রথম নারীকে মাতা, কন্যা, বোন ও স্ত্রী হিসেবে সমাজে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেন, তিনি ঘোষণা করেন, 'মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহশত।' নারীদের অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করে বিদায় হজের ভাষণে রাসুল (স) বলেন 'নারীর ওপর পুরুষের যতটুকু অধিকার আছে, পুরুষের ওপর নারীর ততটুকু অধিকার আছে।' রাসুল (স) কন্যাসন্তান পছন্দ করতেন। তিনি অপরিসীম স্নেহ, মমতা দিয়ে তার কন্যাদের বড় করে তোলেন। তিনি ইসলামের নির্দেশ অনুযায়ী নারীকে সকল অধিকার প্রদান করেন।

উপর্যুক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয়, জুলেখা চৌধুরীর বক্তব্যে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাসুল (স)-এর সংস্কারসমূহই প্রতিফলিত হয়েছে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()