- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- প্রাক ইসলামি আরব
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
সোমার শহর 'কেশবপুরে' বই মেলা চলছিল। সোমা তার বান্ধবী রূপাকে নিয়ে একদিন বিকেলে বই মেলায় বেড়াতে যায়। সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পেল মেলার একদিকে নতুন নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হচ্ছে। মেলার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে বুক স্টল। সেগুলোতে খ্যাতনামা কবি-সাহিত্যকরা উপস্থিত হচ্ছেন। আরেক প্রান্তে কবিতা প্রযোগিতা হচ্ছে। স্থানীয় কবি ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসে প্রতিযোগীরা এতে অংশ নিচ্ছে। বিচারকমণ্ডলীর রায়ে তিনজন শ্রেষ্ঠ কবিকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। মেলার বিভিন্ন প্রান্তে বই ছাড়াও স্থানীয় জিনিসপত্রের পশরা তাদের চোখে পড়ে।
উদ্দীপকের পুরস্কারের সাথে প্রাক-ইসলামি আরবের কোন পুরস্কারের তুলনা করা যায়? ব্যাখ্যা করো।
কেশবপুর বইমেলায় পুরস্কারের সাথে 'উকাজ মেলায়' নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ কবিতার জন্য প্রদত্ত পুরস্কারের তুলনা করা যায়।
প্রাক-ইসলামি আরবের সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ দিক 'উকাজ মেলার' সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় ছিল কাব্য প্রতিযোগিতা। এ প্রতিযোগিতায় প্রতি বছর এক বা একাধিক কবিতাকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে ঘোষণা করে পুরস্কার দেওয়া হতো। কেশবপুরের বইমেলায়ও সেরা সাহিত্যকর্মের জন্য অনুরূপ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
প্রাক-ইসলামি আরবে হজের মৌসুমে মাসব্যাপী উকাজ মেলা অনুষ্ঠিত হতো। এ মেলায় কবিতা পাঠের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হতো। এ প্রতিযোগিতায় তারাফা আমর, ইবনে কুলসুম, লাবিদ ইবনে রাবিয়া, আনতারা ইবনে শাদদাদ, ইমরুল কায়েস প্রমুখ কবি অংশগ্রহণ করতেন। এখানে শ্রেষ্ঠ কবিতা নির্বাচন করে পুরস্কৃতও করা হতো। এই মেলায় পুরস্কারপ্রাপ্ত সাতটি কবিতা সোনালি অক্ষরে লিপিবদ্ধ করে কাবাঘরের দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হতো। এগুলো 'সাবায়ে মুয়াল্লাকাত' নামে পরিচিত ছিল। উদ্দীপকেও দেখা যায়, কেশবপুরে অনুষ্ঠিত বইমেলায় বাংলাদেশের সাহিত্যক্ষেত্রে অবদানের জন্য পুরস্কার প্রদান করা হয়। এ মেলায় পুরস্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যিকগণকে সম্মানিতও করা হয়। তাই বলা যায়, কেশবপুর বইমেলার পুরস্কারের সাথে 'উকাজ মেলায়' নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ কবিতার জন্য প্রদত্ত পুরস্কারের সাদৃশ্য বিদ্যমান।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

