- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- প্রাক ইসলামি আরব
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
আতিক ঢাকাস্থ কামরাঙ্গীর চরে ঘুরতে গিয়ে এক শ্রেণির কিছু মানুষ দেখল যারা তাঁবু খাঁটিয়ে পরিবার মিলে বসবাস করছে। তাদের কাছে খোঁজ নিয়ে আতিক জানতে পারে তারা এখানে কিছুদিন হলো পটুয়াখালী থেকে এসেছে। আবার তারা সপ্তাহ খানিক পর জামালপুর যাবে। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়েই তারা এক স্থান থেকে অন্যস্থানে গমন করে। এক জায়গায় তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করে না।
আতিকের দেখা মানুষগুলোর সাথে ইসলামপূর্ব আরবের কোন সম্প্রদায়ের মানুষের সাদৃশ্য বিদ্যমান? ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকে আতিকের দেখা মানুষগুলোর সাথে বেদুইন সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য বিদ্যমান। ইসলামপূর্ব আরবের আরব বেদুইনরা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে এবং তৃণ অঞ্চলে তাঁবু খাটিয়ে জীবনযাপন করতে অভ্যন্ত। ছন্দময় চলার পথেই তারা প্রচুর আনন্দ লাভ করে। পশুচারণই তাদের প্রধান জীবিকা। জীবনধারণের প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী নিয়ে তারা একস্থান হতে অন্যস্থানে গমন করে। তারা সাদাসিধা জীবনযাপন করে। তারা উটের দুধ, মাংস খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করে। কৃষিকাজ ও ব্যবসা বাণিজ্যের প্রতি তারা আদৌ মনোযোগী ছিল না। তারা মনে করে শিকার এবং লুণ্ঠনই জীবনধারণের মোক্ষম উপায়। লুণ্ঠনকে তারা অপরাধ মনে করত না। বরং অনুর্বর ভূমিতে লুণ্ঠন করে খাওয়া তারা ঈশ্বর প্রদত্ত অধিকার বলে মনে করত। উদ্দীপকে কামরাঙ্গীর চরেও আরব বেদুইনদের মতো কিছু উদ্বাস্তু মানুষের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়, যারা জীবিকার তাগিদে একস্থান থেকে অন্যস্থানে ঘুরে বেড়ায়। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের মানুষগুলো আরব বেদুইনদেরই প্রতিনিধিত্ব করে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
প্রাচীন আরবের আয়তন কত?
প্রাচীন আরবের আয়তন প্রায় ১০,২৭,০০০ বর্গমাইল।
উক্ত সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য মূল্যায়ন করো।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতবহ প্রাক-ইসলামি যুগের আরব বেদুইনরা ছিল ভিন্নধর্মী চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। আইয়ামে জাহেলিয়া যুগের আরব বেদুইনরা বুক্ষ্ম প্রকৃতির মধ্যে কঠিন সংগ্রামের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করত। ফলে তাদের চরিত্রে স্বাভাবিকভাবেই নির্দয়তা ও নিষ্ঠুরতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল। কিন্তু বেদুইনদের চরিত্রের মধ্যে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, পৌরুষত্ব, কষ্টসহিষ্ণুতা, অতিথিপরায়ণতা এবং গোত্রপ্রীতি অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল। তারা শুধু পানির জন্য বা তৃণভূমির অধিকারের মানসে বেপরোয়া হয়ে উঠত। আঞ্চলিকতাভিত্তিক রূপমণ্ডুকতা কখনও তাদের স্পর্শ করতে পারেনি। নিজেদের পৌরুষত্ব জাহির করার ক্ষেত্রে তারা সর্বত্র সমভাবে অবিচল থাকত। জলবায়ু, প্রকৃতিগত অবস্থার প্রতিকূলতা তাদেরকে সর্বাগ্রে সংগ্রামী মনোবৃত্তির অধিকারী করে তুলেছিল। বেদুইন নারীগণ পূর্ণ স্বাধীনতার আছাদ লাভে কখনও বঞ্চিত হতো না। প্রয়োজনবোধে স্বামীকে পরিত্যাগ করার অধিকারও সংরক্ষণ করত।
উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, প্রকৃতির কঠোরতার জন্যই আরব বেদুইনরা নিষ্ঠুর প্রকৃতির ছিল।

