- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- প্রাক ইসলামি আরব
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
গ্রিনলিফ ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি 'Z' তার ক্লাবের জন্য একটি গঠনতন্ত্র তৈরি করেন। সেখানে ক্লাবের সদস্যদের সকল দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা লিপিবদ্ধ করা হয়। পাশাপাশি কর্তব্যে অবহেলা, অন্যায় কাজে লিপ্ত হওয়া ও অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া এবং অনৈতিক কাজে লিপ্ত হওয়া ইত্যাদি বিষয়ে জড়িতদের বহিষ্কারের কথাও উল্লেখ করা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত সভাপতির কাজের সাথে প্রাচীন সভ্যতার কোন শাসকের কাজের ইঙ্গিত পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকে উল্লিখিত সভাপতির নিয়মনীতির সাথে প্রাচীন সুমেরীয় সম্রাট ভুলির প্রণীত আইনের সাদৃশ্য রয়েছে। সুশৃঙ্খল ও সুন্দর সমাজব্যবস্থার জন্য আইনের কোনো বিকল্প নেই। সুমেরীয় সভ্যতায় এজন্য আইনের প্রবর্তন করা হয়েছিল। একই উদ্দেশ্যে অর্থাৎ শৃঙ্খলা রক্ষার্থে উদ্দীপকেও একটি ক্লাবের জন্য আইনের ন্যায় কিছু নিয়ম-নীতি প্রবর্তিত হয়েছে। উদ্দীপকের গ্রিনলিফ ক্লাবের সভাপতি ক্লাবের সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা লিপিবদ্ধ করে একটি গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করেন। অনুরূপভাবে সুমেরীয় সম্রাট ভুগি সুষ্ঠুভাবে সাম্রাজ্য পরিচালনার জন্য সুমেরীয় আইন প্রণয়ন করেন। ডুঙ্গি তার সাম্রাজ্যে শান্তি-শৃঙ্খলার জন্য স্থানীয় প্রচলিত আইনগুলো সংগ্রহ করে, সংকলন করেন। অপরাধের জন্য প্রত্যেক অপরাধীকে সমান কষ্টদায়ক সাজা প্রদান সুমেরীয় ফৌজদারি আইনের বিধান ছিল। এক্ষেত্রে চোখের বদলে চোখ, অজোর বদলে অজা কর্তনের বিধান ছিল। এক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজে বা তার পরিবার উদ্যোগী হয়ে ন্যায়বিচারের প্রার্থনা করতে পারত। বিচারালয় তখন বাদি ও বিবাদির মধ্যে মধ্যস্থতাকারী বা সংযোগ স্থাপনকারী হিসেবে কাজ করতো। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীঙ্খকের সভাপতি 'Z' এর কাজে প্রাচীন সুমেরীয় শাসক ভুঙ্গির কাজের ইঙ্গিত রয়েছে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
কোন নদীর তীরে মিসরীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছিল?
নীলনদকে কেন্দ্র করে মিসরীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
উক্ত শাসকের প্রণীত আইনের বৈশিষ্ট্যসমূহ একটি আদর্শ রাষ্ট্রের প্রতিচ্ছবি- মূল্যায়ন করো।
উদ্দীপকের ইঙ্গিতবহ সম্রাট ভুগির প্রণীত আইনের বৈশিষ্ট্যসমূহ একটি আদর্শ রাষ্ট্রের প্রতিচ্ছবি- উত্তটি যথার্থ। আইন একটি সমাজে বসবাসরত মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সমাজকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে পরিচালিত করে। সুমেরীয় সভ্যতায় এ জন্য আইনের প্রবর্তন করা হয়েছিল। সুষ্ঠুভাবে শাসনকার্য পরিচালনার জন্য সুমেরীয় সম্রাট ভুক্তিঙ্গ নিয়মনীতি সংবলিত একটি আইন কাঠামো প্রণয়ন করেন। উদ্দীপকে বর্ণিত গঠনতন্ত্রে ক্লাবের সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা লিপিবদ্ধ করা হয়। এ নিয়মে কর্তব্যে অবহেলা, অন্যায় কাজে লিপ্ত হওয়া, অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া এবং অনৈতিক কাজে লিপ্ত হওয়ার জন্য বহিষ্কার তথা শান্তির উল্লেখ আছে। অনুরূপভাবে সুমেরীয় সম্রাট ভুঙ্গি সাম্রাজ্য পরিচালনার জন্য সুমেরীয় আইন প্রণয়ন করেন। ভুগি তার সাম্রাজ্য সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য স্থানীয় প্রচলিত আইনগুলো সংগ্রহ করে সংকলন করেন। প্রত্যেক অপরাধের জন্য অপরাধীকে সমান কষ্টদায়ক সাজা প্রদান সুমেরীয় ফৌজদারি আইনের বিধান ছিল। এক্ষেত্রে চোখের বদলে চোখ, অজোর বদলে অঙ্গ কর্তনের বিধান ছিল। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি নিজে বা তার পরিবার উদ্যোগী হয়ে ন্যায় বিচারের প্রার্থনা করতে হতো। বিচারালয় তখন বাদি ও বিবাদির মধ্যে মধ্যস্থতাকারী বা সংযোগ স্থাপনকারী হিসেবে কাজ করতো। উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয়, সম্রাট ভুঙ্গির প্রণীত আইনের বৈশিষ্ট্যসমূহ একটি আদর্শ রাষ্ট্রের প্রতিচ্ছবি।

