- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- প্রাক ইসলামি আরব
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
আফ্রিকার সিয়েরালিয়নে শান্তিরক্ষী বাহিনীতে কর্মরত বাংলাদেশি যুবক রহিম। স্থানীয় যুবক সিবাবার সাথে তার বন্ধুত্ব হয়। রহিম বন্ধুর কাছ থেকে জানতে পারে বিভিন্ন গোত্র দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ্ব সংঘাতে লিপ্ত যা যুদ্ধের রূপ ধারণ করে। এ গোত্রীয় দ্বন্দ্বে তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ভেঙ্গে পড়েছে। বিদ্যমান আইন থাকলেও নেতাদের নির্দেশকে তারা অধিক গুরুত্ব দিত। এ প্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞরা জাতীয় ঐক্য ও যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলার পক্ষে মত প্রকাশ করে।
প্রাক-ইসলামি যুগে মক্কার শাসন পরিষদের নাম কী ছিল?
আল-মালা ছিল প্রাক-ইসলামি যুগে মক্কার শাসন পরিষদ বা মন্ত্রণাসভা।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
উদ্দীপকে বর্ণিত গোত্রীয় দ্বন্দ্বের সাথে প্রাক-ইসলামি যুগের কোন বৈশিষ্ট্যের মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকে বর্ণিত গোত্রীয় দ্বন্দ্বের সাথে প্রাক-ইসলামি যুগের গোত্র কলহের মিল পাওয়া যায়। প্রাক-ইসলামি যুগে তুচ্ছ কারণেই গোত্রীয় কলহের সূত্রপাত হতো এবং এর জের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্যে বংশানুক্রমে চলত। যেমন বানু বকর ও তাঘলিরের মধ্যে সংঘটিত 'বাসুস যুদ্ধ' দীর্ঘ চল্লিশ বছর স্থায়ী হয়েছিল। মদিনার আউস ও খাজরাব গোত্রের মধ্যে 'বুয়াসের যুদ্ধ' এবং মক্কার কুরাইশ ও হাওয়াযিন গোত্রদ্বয়ের মধ্যে 'হারবুল ফুজ্জার' ব্যাপক ও দীর্ঘস্থায়ীভাবে সংঘটিত হয়েছিল। অনবরত যুদ্ধ বিগ্রহের এ সময়কে 'আইয়াম আল-আরব' বলা হতো। পানির নহর, তৃণভূমি ও গবাদিপশুকে উপলক্ষ করে এক গোত্রের সঙ্গে অপর গোত্রের যুদ্ধের সূত্রপাত হতো। ঐতিহাসিক গীবন বলেন, ইসলাম পূর্বযুগে আরবে প্রায় ১৭০০টি যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং বাসুস, বুয়াস, হারবুল ফুজ্জার ইত্যাদি ছিল উল্লেখযোগ্য। এ থেকে বোঝা যায় যে, আরবে কোনো কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা কিংবা সুসংগঠিত কোনো রাজনৈতিক সংগঠন ছিল না।
উদ্দীপকের গোত্রীয় দ্বন্দ্বে যেমন তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙ্গে পড়েছে, তেমনি প্রাক-ইসলামি যুগের গোত্রকলহের কারণেও তারা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিস্থিতি হতে উত্তরণের জন্য জাতীয় ঐক্য ও যোগ্য নেতৃত্ব অপরিহার্য- বক্তব্যটি পাঠ্যপুস্তকের আলোকে মূল্যায়ন করো।
গোত্রীয় দ্বন্দ্বের ভয়াবহতা হতে উত্তরণের জন্য জাতীয় ঐক্য ও যোগ্য নেতৃত্ব অপরিহার্য। জাহেলিয়া যুগে আরবের রাজনৈতিক অবস্থা ছিল নৈরাশ্যজনক ও হতাশাব্যঞ্জক। উত্তরে বাইজান্টাইন ও দক্ষিণে পারস্য শাসিত কতিপয় রাজ্য ব্যতীত সমগ্র আরবদেশ ছিল স্বাধীন। কেন্দ্রীয় কোনো শাসন বা শক্তির নিয়ন্ত্রণ না থাকায় আরবগণ বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত ছিল। প্রত্যেকটি গোত্র বংশ হিসেবে ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত ছিল। আরবদের সমাজজীবনে গোত্রই ছিল একমাত্র রক্ষাকবচ। এজন্য গোত্রভুক্ত হয়ে বসবাস করা অপরিহার্য ছিল। স্বগোত্রীয় সদস্যদের প্রতি তারা যেমন সহানুভূতিশীল ও বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল, তেমনি শত্রু গোত্রের প্রতিও তারা অনুরূপ শত্রুতা পোষণ করত। পানির নহর, গবাদি পশু, তৃণভূমি দখল, ঘোড়দৌড়ের মতো অতি সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক গোত্রের সাথে অন্য গোত্রের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হতো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ সংঘর্ষ দীর্ঘদিন ধরে চলত। এর ফলে পুরো সমাজে নৈরাজ্যমূলক অবস্থা বিরাজ করছিল। প্রাক-ইসলামি যুগের এসকল কারণে মানুষে মানুষে হানাহানি লেগেই থাকত। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আরবদের মধ্যে প্রয়োজন ছিল জাতীয় ঐক্য ও যোগ্য নেতৃত্ব। যার মাধ্যমে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায়। পরিশেষে বলা যায় যে, সমাজের অন্যায়, অবিচার, সংঘর্ষ হতে মানুষকে রক্ষা করতে হলে জাতীয় ঐক্য ও যোগ্য নেতৃত্ব অপরিহার্য।

