- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- প্রাক ইসলামি আরব
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
মিতু বাবার সাথে একুশে বইমেলায় গেল। সে বাবাকে প্রশ্ন করল, 'বাবা, বইমেলা কী?' বাবা বলল, 'বইমেলা হলো এক ধরনের সাহিত্য মেলা।' এখানে বিভিন্ন লেখকের বই বিক্রয় ও প্রকাশিত হয়। মাসব্যাপী বিভিন্ন বিষয়ের ওপর সেমিনার ও আলোচনা হয়। সারা দেশের কবি, সাহিত্যিক ও সাহিত্যামোদী মানুষ এখানে মিলিত হন। এখানে প্রতিবছর কয়েকজন বিখ্যাত কবি ও সাহিত্যিককে একুশে পদক দেওয়া হয়। মিতু দেখল, একদিকে আলোচনা সভা, অন্যদিকে গান-বাজনা। চারদিকে উৎসবমুখর পরিবেশ। সবাই হাসি মুখে বইমেলায় হাটছে আর বই কিনছে। এ যেন সকল শ্রেণি মানুষের মিলনমেলা।
আইয়ামে জাহেলিয়া শব্দের অর্থ কী?
আইয়ামে জাহেলিয়া শব্দের অর্থ অজ্ঞতার যুগ।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
হযরত মুহাম্মদ (স) কে আল আমিন বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
বিশ্বাসযোগ্যতা ও সত্যবাদিতার কারণে মহানবি (স)-কে আল আমিন বলা হতো। হযরত মুহাম্মদ (স) ছোটবেলা থেকেই সত্যবাদী ছিলেন। এ কারণে আরবের বিভিন্ন শ্রেণির ব্যক্তিরা তাঁকে আমানতদার হিসেবে গ্রহণ করেন। নম্র ব্যবহার, সততা, সরলতা, বিশ্বস্ততা, সত্যবাদিতা প্রভৃতি কারণে তিনি আরববাসীর শ্রদ্ধা অর্জন করেন। তাঁর কর্তব্যনিষ্ঠা, চরিত্রিক মাধুর্য, সরলতা, পবিত্রতা, সত্যের প্রতি অনুরাগ ইত্যাদি কারণে মক্কাবাসীগণ তাঁকে 'আল-আমিন' বা বিশ্বাসী উপাধিতে ভূষিত করেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত একুশে পদকের সাথে প্রাক-ইসলামি যুগের কোন পুরস্কারের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকে উল্লিখিত একুশে পদকের সাথে 'উকাজ মেলায়' নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ কবিতার জন্য প্রদত্ত পুরস্কারের মিল রয়েছে। আরবের সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ দিক 'উকাজ মেলার' সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় ছিল কাৰ্য প্রতিযোগিতা। এ প্রতিযোগিতায় প্রতি বছর এক বা একাধিক কবিতাকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে ঘোষণা করে পুরস্কার দেওয়া হতো। একুশে বই মেলাতেও প্রতি বছর সাহিত্যকর্মের জন্য অনুরূপ পুরস্কার প্রদান করে। প্রাক-ইসলামি আরবে হজ মৌসুমে মাসব্যাপী উকাজের বাৎসরিক মেলা অনুষ্ঠিত হতো। এ মেলায় কবিতা পাঠের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যতো। এ প্রতিযোগিতায় আমর ইবনে কুলসুম, লাবিদ ইবনে রাবিয়া, আনতারা ইবনে শাদদাদ, ইমরুল কায়েস প্রমুখ কবি অংশগ্রহণ করতেন। এখানে শ্রেষ্ঠ কবিতা নির্বাচন করে পুরস্কৃতও করা হতো। এই মেলায় পুরস্কারপ্রাপ্ত সাতটি কবিতা সোনালি অক্ষরে লিপিবন্ধ করে কাবাঘরের দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হতো। এগুলো 'সাবায়ে মুয়াল্লাকাত' নামে পরিচিত ছিল। উদ্দীপকেও দেখা যায়, প্রতিবছর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত বইমেলায় বাংলাদেশের সাহিত্যক্ষেত্রে অবদানের জন্য পুরস্কার প্রদান করা হয়। এ মেলায় পুরস্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যিকগণকে সম্মানিতও করা হয়। তাই বলা যায়, একুশে পদকের সাথে 'উকাজ মেলায়' নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ কবিতার জন্য প্রদত্ত পুরস্কারের সাদৃশ্য বিদ্যমান।
তুমি কি মনে কর উক্ত মেলায় প্রাক-ইসলামি যুগের সাংস্কৃতিক অবস্থার সামগ্রিক প্রতিফলন ঘটেছে? তোমার মতামত লিখ।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, উক্ত মেলায় অর্থাৎ উকাজ মেলায় প্রাক-ইসলামি যুগের সাংস্কৃতিক অবস্থার সামগ্রিক প্রতিফলন ঘটেছে। উকাজ মেলা ছিল আরব সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি। সেখানে সাহিত্যের বাইরেও অনেক কিছুর উপস্থিতি ছিল, যা আরবের তৎকালীন সংস্কৃতির পরিচয় বহন করত। উকাজ মেলায় আরবদের সাংস্কৃতিক জীবনের সামগ্রিক প্রতিফলন দেখা যায়। উদ্দীপকে দেখা যায়, বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে মাসব্যাপী বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। এখানে বই ক্রয়-বিক্রয়ের পাশাপাশি উন্মুক্ত মঞ্চে আবৃত্তি, সংগীত, প্রকাশনা উৎসব ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সাহিত্যকর্মের জন্য পুরস্কারও দেওয়া হয়। অর্থাৎ এ মেলার সব কর্মকাণ্ডই সাহিত্যনির্ভর। উকাজ মেলায়ও আরবের শ্রেষ্ঠ কবিদের নিয়ে কবিতা প্রতিযোগিতার আসর, বসত। প্রতিযোগিতায় এক বা একাধিক কবিতা শ্রেষ্ঠ বিবেচিত হতো। তবে উকাজ মেলা বাংলা একাডেমির মেলার মতো শুধু সাহিত্যনির্ভর ছিল না। এখানে সাহিত্য প্রতিযোগিতা ছাড়াও ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন খেলা যেমন- জুয়া, লাঠি, মল্লযুদ্ধ, বিভিন্ন ধরনের নৃত্য-গীত ইত্যাদি অনুষ্ঠিত হতো। এ মেলায় আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বিভিন্ন পণ্যদ্রব্য প্রদর্শিত হতো। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীও ঐ মেলা থেকে আরবরা সংগ্রহ করত। এটি ছিল মোটামুটি আরব সংস্কৃতির সামগ্রিক চিত্র। সাহিত্যচর্চা ছিল শুধু এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। পরিশেষে বলা যায়, 'উকাজ মেলা' কেবল সাহিত্যের গণ্ডিতেই আবদ্ধ ছিল না; বরং এটিতে আরবদের সাংস্কৃতিক জীবনের সামগ্রিক বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল।

